অধিকার পত্র ডটকম–
ঢাকা, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫:
বাংলাদেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের পাঁচ প্রভাবশালী সদস্য (কংগ্রেসম্যান)।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। চিঠিতে স্বাক্ষর করেন কমিটির র্যাংকিং মেম্বার প্রতিনিধি গ্রেগরি ডব্লিউ মিকস, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সাব-কমিটির চেয়ারম্যান বিল হুইজেঙ্গা, র্যাংকিং মেম্বার সিডনি কামলেগার ডোভ, কংগ্রেস সদস্য জুলি জনসন ও টম সুয়োজি।
চিঠিতে তারা বাংলাদেশের বর্তমান জাতীয় সংকটের প্রেক্ষাপটে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের এগিয়ে আসাকে স্বাগত জানান।
নির্বাচন প্রসঙ্গে মার্কিন আইনপ্রণেতারা বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে এবং ব্যালটের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে জনগণের মতামত প্রতিফলনের পরিবেশ তৈরিতে রাজনৈতিক মতাদর্শের সব পক্ষের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় সংস্কার গ্রহণের ওপর তারা জোর দেন।
তবে চিঠিতে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, যদি সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম স্থগিত করে বা ত্রুটিপূর্ণ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনরায় চালু করে, তাহলে গণতান্ত্রিক লক্ষ্য অর্জন ব্যাহত হতে পারে।
মার্কিন কংগ্রেস সদস্যরা সংগঠনের স্বাধীনতা এবং সম্মিলিত দায়ের পরিবর্তে ব্যক্তিগত ফৌজদারি দায়বদ্ধতার নীতিকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন।
তাদের মতে, আইনের যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অপরাধ বা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে কোনো রাজনৈতিক দলের সব কার্যক্রম একযোগে নিষিদ্ধ করা এসব মৌলিক নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়, আওয়ামী লীগের শাসনামলে অনুষ্ঠিত ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি। একই সঙ্গে গত বছরের জুলাই মাসে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়। তবে এসব অপরাধকে ব্যক্তিগত হিসেবে গণ্য করে গণতন্ত্রের স্বার্থে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান তারা।
মার্কিন কংগ্রেসের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ওই চিঠিতে বাংলাদেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
