অধিকারপত্র ডটকম : আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি অধিকারপত্র ডটকম ডেস্ক:
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ‘জেন-জি’ নামে পরিচিত তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা আলোচিত আন্দোলন। দিল্লির যন্তর মন্তরে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেয় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামে একটি নাগরিক প্ল্যাটফর্ম। সরকারের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনার পর আন্দোলনকারীদের বাকি দাবিগুলোও মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে আন্দোলন সমাপ্তির ঘোষণা দেওয়া হয়।
আন্দোলনের সূত্রপাত হয় সর্বভারতীয় ডাক্তারি ভর্তি পরীক্ষা ‘নিট’-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত লাখো শিক্ষার্থীর ক্ষোভকে কেন্দ্র করে। আন্দোলনকারীরা শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ক্ষতিপূরণ এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন।
শনিবার দুপুরে ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগের ঘোষণা দিলে দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের মধ্যে উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে। পরে সরকারের দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং সিজেপির প্রতিনিধিদের বৈঠকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহার, ভবিষ্যতে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বিষয়ে সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। এরপর আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় সিজেপি।
সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেন, এই আন্দোলন প্রমাণ করেছে যে গণতান্ত্রিক উপায়ে জনগণের চাপের মুখে সরকারকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে বাধ্য করা সম্ভব। তিনি আন্দোলনকে তরুণদের ঐক্য ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার বিজয় হিসেবে উল্লেখ করেন।
আন্দোলনের অন্যতম সমর্থক সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগকে গণতন্ত্রের বিজয় বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলন, ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের ফলেই এই সাফল্য এসেছে। একই সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, নরেন্দ্র মোদী সরকারের তৃতীয় মেয়াদে কোনো কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে আন্দোলনের চাপে পদত্যাগ করতে হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা। তাদের মতে, এটি ভারতের তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক প্রভাব ও সংগঠিত জনমতের শক্তিরও প্রতিফলন।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এই ঘটনা যেমন সরকারের জন্য একটি বড় ধাক্কা, তেমনি ভবিষ্যতে শিক্ষা খাতের সংস্কার ও রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, সরকার প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করছে কি না, তা তারা পর্যবেক্ষণ করবেন। প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতেও শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে
যন্তর মন্তর। শিক্ষা আন্দোলন নরেন্দ্র মোদী জেন-জি’র আন্দোলনের জয় পদত্যাগ করলেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ভারত জেন-জি আন্দোলন ধর্মেন্দ্র প্রধান সিজেপি নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: