odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Thursday, 5th March 2026, ৫th March ২০২৬

ফল প্রকাশে বিলম্বে ক্ষোভ, ইবির ইংরেজি বিভাগে অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত দাবি

odhikarpatra | প্রকাশিত: ৪ March ২০২৬ ১৯:১৬

odhikarpatra
প্রকাশিত: ৪ March ২০২৬ ১৯:১৬

ফল প্রকাশে বিলম্বে ক্ষোভ, ইবির ইংরেজি বিভাগে অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত দাবি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্স ফলাফল প্রকাশে বিলম্ব ও অনিয়মের অভিযোগ

ইবি প্রতিনিধি, অধিকার পত্র ডটকম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্স ২০২২-২৩ (স্নাতক ২০১৮-১৯) শিক্ষাবর্ষের ফলাফল প্রকাশে অযৌক্তিক বিলম্ব, ভাইভা, স্ক্রুটিনি ও ট্যাবুলেশন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক অধিকার হরণের অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে। বুধবার (৪ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর লিখিত অভিযোগপত্র জমা দেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।

অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, পরীক্ষা শেষের এক মাসের মধ্যে ফলাফল প্রকাশের নিয়ম থাকলেও গত ৭ ডিসেম্বর পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরও মার্চ মাস পর্যন্ত ফল প্রকাশ করা হয়নি। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম অনিশ্চয়তা ও হতাশা তৈরি হয়েছে। দ্রুত ফল প্রকাশের দাবিতে শিক্ষার্থীরা একাধিকবার বিভাগীয় সভাপতির সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কার্যকর কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে দাবি করেন তারা। পরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক দিলশাদ সুরমাও বারবার আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পরীক্ষা কমিটির সদস্যরা সরাসরি আলোচনায় এড়িয়ে যাচ্ছেন এবং ফল প্রকাশে বিলম্বের দায় একে অপরের ওপর চাপাচ্ছেন। কমিটির সদস্যদের মধ্যে ব্যক্তিগত মতবিরোধ ও বিভাজনের কারণে সমন্বয়হীনতা তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের ওপর।

দীর্ঘসূত্রতা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে উচ্চশিক্ষা, চাকরি ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশগ্রহণে বাধার মুখে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। অনেকে নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে আবেদন করতে পারছেন না। অভিযোগে বলা হয়, ইতোমধ্যে সাত বছর অতিক্রান্ত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা মানসিক, একাডেমিক ও পেশাগতভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। একাধিক শিক্ষার্থী দাবি করেন, ভাইভা বোর্ডে টপার শিক্ষার্থীকে ফেল করানো হয়েছে, কোনো শিক্ষক অনুপস্থিত থেকেছেন এবং প্রশাসনিক জটিলতা দেখিয়ে ফল বিলম্বিত করা হচ্ছে।

স্ক্রুটিনি (নম্বর যাচাই ও সংশোধন) ও ট্যাবুলেশন (নম্বর একত্র করে ফল প্রস্তুত) প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা বজায় রাখা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, ভাইভা ও লিখিত পরীক্ষার মূল্যায়নে পক্ষপাতমূলক আচরণ করা হয়েছে এবং অস্বাভাবিকভাবে কম নম্বর প্রদান করা হয়েছে। কিছু নির্দিষ্ট শিক্ষার্থীর প্রতি পক্ষপাতের অভিযোগও ওঠে।

ভাইভা পরীক্ষার বিষয়ে বলা হয়, চার সদস্যবিশিষ্ট পরীক্ষা কমিটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পৃথকভাবে ভাইভা গ্রহণ করেছেন। অধিকাংশ শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে এক মিনিটেরও কম সময় ব্যয় করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। কয়েক বছরের অধ্যয়ন ও গবেষণার মূল্যায়ন এভাবে করা শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পরিশ্রমের অবমূল্যায়ন বলে মন্তব্য করেন তারা।

এ প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবি উত্থাপন করেছেন—
১) জরুরি ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন,
২) দ্রুত ফল প্রকাশে স্বচ্ছ ও ন্যায্য প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা,
৩) ভাইভা, স্ক্রুটিনি ও ট্যাবুলেশন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ,
৪) পরীক্ষা কমিটির অভ্যন্তরীণ বিভাজন ও দায়িত্বহীন আচরণের বিষয়ে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ।

উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে তাঁর পিএস ও উপ-রেজিস্ট্রার গোলাম মাহফুজ অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। তিনি জানান, ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন এবং বিষয়টি উপাচার্যের নজরে আনা হবে।

পরীক্ষা কমিটির দায়িত্বে থাকা সহযোগী অধ্যাপক দিলশাদ সুরমার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে একই অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন বলে জানা যায়। ভাইভা বোর্ডে টপার ফেল করানোর অভিযোগের বিষয়ে সহযোগী অধ্যাপক ড. আজরান আজমীর কাফিয়া বলেন, এ বিষয়ে বিস্তারিত পরীক্ষা কমিটির সভাপতি জানাতে পারবেন।

বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. শাহাদাৎ হোসেন আজাদ বলেন, “আমার জানা মতে পরীক্ষা কমিটি ফলাফল প্রস্তুত করে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে জমা দিচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত পরীক্ষা কমিটিই বলতে পারবে।”

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা।

ফল প্রকাশে বিলম্বে ক্ষোভ, ইবির ইংরেজি বিভাগে অনিয়মের অভিযোগে তদন্ত দাবি

#ইসলামী_বিশ্ববিদ্যালয় #ইবি #ফলাফল_বিলম্ব #ইংরেজি_বিভাগ #শিক্ষা_সংবাদ #অধিকার_পত্র



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: