আন্তর্জাতিক ডেস্ক অধিকারপত্র ডটকম প্রকাশ ১০ এপ্রিল ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে ইরান এই প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে নতুন প্রটোকল ঘোষণা করেছে। এতে নির্দিষ্ট রুট ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা এবং সম্ভাব্য টোল আদায়ের বিষয়টি সামনে এসেছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করছে।
ইরানের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে নির্দিষ্ট রুট অনুসরণ করতে হবে এবং ইরানের সামরিক তত্ত্বাবধানে চলতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে শুধুমাত্র বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর জাহাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে বলেও জানা গেছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস ইতোমধ্যে বিকল্প নৌপথের একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্র বলছে, ইরান প্রতি জাহাজ থেকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত টোল আদায়ের পরিকল্পনা করছে। অন্যদিকে প্রতি ব্যারেল তেলের ওপর ১ ডলার হারে ফি নির্ধারণের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। এই অর্থ যুদ্ধের ক্ষতি কাটিয়ে অবকাঠামো পুনর্গঠনে ব্যবহার করতে চায় তেহরান।
তবে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, কোনো দেশ আন্তর্জাতিক প্রণালী দিয়ে চলাচলের জন্য সরাসরি টোল আরোপ করতে পারে না। জাতিসংঘের সমুদ্র আইন এই ধরনের আরোপকে অনুমোদন দেয় না। যদিও নিরাপত্তা বা সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ফি নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে ইরানের এই উদ্যোগ আইনি বিতর্কের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ইরানের এই পরিকল্পনায় ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রণালী সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। ওমান টোল আদায়ের ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছে। উপসাগরীয় দেশগুলোও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘে প্রণালী খোলার পক্ষে প্রস্তাব উঠলেও তা ভেটোর মুখে পড়ে।
বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই পথের যেকোনো বিঘ্ন সরাসরি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সীমিত আকারে জাহাজ চলাচল শুরু হলেও অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় অনেক জাহাজ মালিক আপাতত ইরানের শর্ত মেনে চলতে বাধ্য হতে পারেন। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই নীতি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: