অধিকার পত্র ডটকম আন্তর্জাতিক ডেক্স
ইনসাইড স্টোরি | ২৩ এপ্রিল ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা শুধু সামরিক সংঘর্ষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর ভেতরে লুকিয়ে আছে জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ, ভূরাজনীতি এবং অর্থনৈতিক আধিপত্যের বহুমাত্রিক হিসাব। হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তা এখন বৈশ্বিক শক্তিগুলোর জন্য এক নতুন বাস্তবতা তৈরি করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জ্বালানি সরবরাহ। বিশ্বের একটি বড় অংশের তেল এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে সামান্য উত্তেজনাও বৈশ্বিক বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের কৌশল হচ্ছে ইরানের অর্থনৈতিক শিরা চেপে ধরা, আর ইরান পাল্টা চাপ তৈরি করছে জাহাজ চলাচল ও নিরাপত্তা প্রশ্নে।
এই পরিস্থিতিতে চীন একটি গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু জটিল অবস্থানে রয়েছে। একদিকে তারা ইরানের কাছ থেকে তুলনামূলক কম দামে জ্বালানি পায়, যা তাদের শিল্পখাতের জন্য সুবিধাজনক। অন্যদিকে, সংঘাত দীর্ঘ হলে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা চীনের অর্থনীতিকে চাপে ফেলতে পারে।
পাকিস্তানসহ কিছু আঞ্চলিক শক্তি এই অচলাবস্থা ভাঙতে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে। তাদের লক্ষ্য, দুই পক্ষকে আলোচনায় বসানো এবং একটি সম্ভাব্য যুদ্ধ এড়ানো। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, উভয় পক্ষই এখনো নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দেয়নি।
বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যেমন চাপ তৈরি করছে, তেমনি এটি তাকে মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব ধরে রাখার সুযোগও দিচ্ছে। অন্যদিকে ইরান অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যেও নিজেদের শক্ত অবস্থান প্রদর্শনের চেষ্টা করছে।
সব মিলিয়ে, বর্তমান পরিস্থিতি একটি “কন্ট্রোলড ক্রাইসিস”-এর মতো, যেখানে সরাসরি যুদ্ধ না হলেও উত্তেজনা বজায় রেখে কৌশলগত সুবিধা আদায়ের চেষ্টা চলছে। তবে এই ভারসাম্য যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে, যা বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠবে।
