odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Thursday, 30th April 2026, ৩০th April ২০২৬
জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা; বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ ও ব্যাপক বৃক্ষরোপণে জোর

ঢাকাকে ‘ক্লিন ও গ্রীন সিটি’ করতে ১২ দফা কর্মপরিকল্পনা

odhikarpatra | প্রকাশিত: ২৯ April ২০২৬ ১৭:২৩

odhikarpatra
প্রকাশিত: ২৯ April ২০২৬ ১৭:২৩

অধিকারপত্র ডটকম, নিজস্ব প্রতিবেদক, 

মূল প্রতিবেদন
সংসদ ভবন, ২৯ এপ্রিল ২০২৬: রাজধানী ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরীতে রূপান্তর করতে ১২ দফা কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সাপ্তাহিক কার্যক্রম, বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

তিনি জানান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক করতে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনগুলো উন্নত করা হচ্ছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলকে কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগে সার্কুলার ইকোনমি ভিত্তিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্রে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে, যার লক্ষ্য ‘জিরো বর্জ্য’।

সবুজায়নের অংশ হিসেবে সড়ক মিডিয়ান, উন্মুক্ত স্থান ও দ্বীপে বৃক্ষরোপণ করা হচ্ছে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ লাখ গাছ লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া মেট্রোরেলের নিচে ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচের খালি জায়গায়ও বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা রয়েছে।

বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তর ও ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে আধুনিক বাস সার্ভিস চালু এবং ২৫০টি ইলেকট্রিক বাস সংযোজনের উদ্যোগ নিয়েছে। কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহন ও নির্মাণকাজজনিত দূষণের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।

ঢাকার চারপাশের অবৈধ ইটভাটা বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং সাভারকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণা করে সেখানে দূষণকারী কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

নদী ও জলাশয় দূষণ রোধে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ইটিপি স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে ২৪৮টি প্রতিষ্ঠানে তা স্থাপন করা হয়েছে। বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, বালু ও তুরাগসহ নদীগুলোর দূষণের উৎস চিহ্নিত করা হয়েছে।

এছাড়া বন অধিদপ্তরের মাধ্যমে বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ে রাস্তার মিডিয়ান, খালের পাড় ও জলাবদ্ধতা এলাকায় বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৪১ হাজারের বেশি গাছ রোপণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এসব সমন্বিত উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ধীরে ধীরে একটি পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: