odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Wednesday, 22nd July 2026, ২২nd July ২০২৬
পারমাণবিক ইস্যু নয়, মূল বাধা অর্থনীতি ও নিষেধাজ্ঞা; রাজনৈতিক চাপও বড় ফ্যাক্টর

কেন থামছে না ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত, সামনে এলো মূল কারণ

odhikarpatra | প্রকাশিত: ২৯ April ২০২৬ ১৮:১৭

odhikarpatra
প্রকাশিত: ২৯ April ২০২৬ ১৮:১৭

অধিকার পত্র ডটকম, নিজস্ব প্রতিবেদক 

মূল প্রতিবেদন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ২৯ এপ্রিল ২০২৬: ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত থামার পথে সবচেয়ে বড় বাধা এখন আর পারমাণবিক কর্মসূচি নয়, বরং অর্থনৈতিক স্বার্থ ও রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনায় অচলাবস্থার কেন্দ্রে রয়েছে অর্থনীতি, নিষেধাজ্ঞা এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ।

বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অর্থনৈতিক নীতি এবং ইরানকে আর্থিক ছাড় দিতে অনীহা বর্তমান পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে অনাগ্রহী, যা সম্ভাব্য সমঝোতার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির সময় ইরানকে দেওয়া আর্থিক সুবিধার তীব্র সমালোচক ছিলেন ট্রাম্প। সেই অবস্থান থেকে সরে এসে নতুন করে কোনো অর্থনৈতিক ছাড় দিলে তা তার রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে পড়বে। ফলে সংঘাত নিরসনে নমনীয়তা দেখানো তার জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে, ইরানও তীব্র অর্থনৈতিক চাপে রয়েছে। সাম্প্রতিক সংঘাতে অবকাঠামো ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও তেলের দাম বৃদ্ধিতে কিছুটা সুবিধা পেয়েছে দেশটি, তবে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতি টিকিয়ে রাখতে তাদের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ এবং অর্থনৈতিক স্বস্তি প্রয়োজন।

বিশ্লেষকদের মতে, তেহরান এখন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, হিমায়িত সম্পদ ফেরত এবং আর্থিক সহায়তা চায়। এমনকি হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে টোল আদায়ের প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে এবং আন্তর্জাতিক জলপথে ইরানের নিয়ন্ত্রণ মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

এদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও কুয়েতসহ আঞ্চলিক শক্তিগুলোও ইরানের প্রস্তাবের বিরোধিতা করছে। তারা বিকল্প জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার দিকেও ঝুঁকছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সংকট কেবল কূটনৈতিক নয়, বরং অর্থনীতি ও রাজনীতির জটিল সমীকরণ। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, ইসরাইলের অবস্থান এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

ফলে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে অর্থনৈতিক সমঝোতা এবং রাজনৈতিক সাহসিকতার ওপর



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: