অধিকারপত্র ডটকম
নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশব্যাপী টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করতে ১০ ধরনের প্রায় ৯ কোটি ৫০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন সংগ্রহের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে সরকার। ইউনিসেফের মাধ্যমে এসব ভ্যাকসিন সংগ্রহ করা হবে বলে জানিয়েছে সরকার।
মঙ্গলবার সকালে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা Zahed Ur Rahman।
তিনি বলেন, ভ্যাকসিন সংগ্রহের লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে UNICEF-কে ৮৩ দশমিক ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদান করেছে।
উপদেষ্টা জানান, সংগৃহীতব্য টিকাগুলোর মধ্যে এমআর, টিডি, বিসিজি, টিসিভি, ওরাল পোলিও (ওপিভি), পেন্টাসহ ১০ ধরনের জীবনরক্ষাকারী ভ্যাকসিন রয়েছে।
তিনি বলেন, মে মাস থেকেই বড় পরিসরে টিকার চালান দেশে আসা শুরু হয়েছে। গত ৩ মে ১৫ লাখ ডোজ আইপিভি, ৬ মে ১৫ লাখ ডোজ এমআর এবং ৯ লাখ ডোজ টিডি ভ্যাকসিন দেশে পৌঁছেছে। ১০ মে পর্যন্ত সব মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি ৩২ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন সরকারের হাতে এসেছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে ৯৫ মিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিনের পুরো সরবরাহ সম্পন্ন হবে।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমানে দেশে টিসিভি ও এইচপিভি ভ্যাকসিনের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। নতুন সরবরাহের ফলে আগামী ৮ থেকে ১২ মাস দেশে টিকার কোনো ঘাটতি থাকবে না বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ভ্যাকসিনের গুণগত মান রক্ষায় কোল্ড চেইন ব্যবস্থাকে অত্যন্ত কার্যকর রাখা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে ইউনিসেফ প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে।
হামের টিকা কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি জানান, ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে এমআর টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ইতোমধ্যে অর্জিত হয়েছে। এরপরও কোনো শিশু বাদ পড়ে থাকলে তাদের নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে হামে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, টিকা গ্রহণের পর শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হতে কিছুটা সময় লাগে। সরকার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে এবং শিশু মৃত্যু রোধে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি আরও জানান, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে “মডার্নাইজেশন অ্যান্ড এক্সপানশন অব ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)” প্রকল্প ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হবে। তিন সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর গত ৮ মে থেকে ইআরএল পুনরায় কার্যক্রম শুরু করেছে।
এছাড়া ১১ মে পর্যন্ত দেশে কোনো লোডশেডিং হয়নি বলেও জানান তিনি।
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ২০ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত বিআরটিএ-তে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু থাকবে। পাশাপাশি ১২টি সেতুর টোল প্লাজায় স্বয়ংক্রিয় টোল আদায়ের জন্য পিওএস মেশিন বসানো হবে।
নৌপথে নিরাপত্তা জোরদারে ১০ থেকে ১৬ মে “নৌ-নিরাপত্তা সপ্তাহ” পালিত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সদরঘাটে লঞ্চে সরাসরি নৌকা থেকে যাত্রী ওঠা নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং বসিলা ও শিমুলিয়া থেকে বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ ইয়াসীন এবং তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা Syed Abdal Ahmed।
ভ্যাকসিন টিকাদান কর্মসূচি ইউনিসেফ এমআর টিকা শিশু স্বাস্থ্য জাহেদ উর রহমান বাংলাদেশ স্বাস্থ্যখাত কোল্ড চেইন ইআরএল লোডশেডিং

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: