odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Thursday, 14th May 2026, ১৪th May ২০২৬
দুই পরাশক্তির নতুন সমীকরণ, বেইজিংয়ে ট্রাম্প-শি ঐতিহাসিক বৈঠক বাণিজ্য ও ভূ-রাজনীতিতে গুরুত্ব নজর রাখছে বিশ্ববাসী

দশক পর বেইজিংয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট: ট্রাম্প-শি শীর্ষ বৈঠকে নজর বিশ্ববাসীর

Special Correspondent | প্রকাশিত: ১৩ May ২০২৬ ২৩:২০

Special Correspondent
প্রকাশিত: ১৩ May ২০২৬ ২৩:২০

নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র

দীর্ঘ প্রায় নয় বছর পর কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে চীন সফরে গেলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (১৩ মে) সন্ধ্যায় বেইজিংয়ের ক্যাপিটাল ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে অবতরণ করেন তিনি। দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর এটিই তার প্রথম চীন সফর। বেইজিংয়ে তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার দিয়ে স্বাগত জানান চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং।

সফরের গুরুত্ব ও প্রেক্ষাপট

২০১৭ সালের পর এই প্রথম কোনো মার্কিন রাষ্ট্রপ্রধান বেইজিং সফর করছেন। বর্তমানে ইরান পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মাঝে এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সফরের মূল লক্ষ্য হলো দুই পরাশক্তির মধ্যে ভঙ্গুর বাণিজ্যিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং নতুন ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করা।

প্রতিনিধি দলে থাকছেন যারা

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে এই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলে রয়েছেন:

মার্কো রুবিও: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

পিট হেগসেথ: যুদ্ধ সচিব (Secretary of War)।

ব্যবসায়িক নেতৃত্ব: এলন মাস্ক (টেসলা), টিম কুক (অ্যাপল) এবং জেনসেন হুয়াং (এনভিডিয়া)-এর মতো শীর্ষ প্রযুক্তি উদ্যোক্তারা।

পরিবার: ব্যক্তিগত সফরে তার সাথে রয়েছেন ছেলে এরিক ট্রাম্প এবং পুত্রবধূ লারা ট্রাম্প।

আলোচনার মূল এজেন্ডা

আজ (১৪ মে) এবং আগামীকাল (১৫ মে) প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে ট্রাম্পের আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। আলোচনার সম্ভাব্য বিষয়গুলো হলো:

বাণিজ্য নীতি: শুল্ক সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন এবং নতুন বাণিজ্যিক কাঠামো (Board of Trade) প্রস্তাব।

নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনীতি: ইরান সংকট নিরসনে চীনের মধ্যস্থতা এবং তাইওয়ান ইস্যুতে কৌশলগত আলোচনা।

প্রযুক্তি ও এআই: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং সেমিকন্ডাক্টর চিপ রপ্তানিতে বিধিনিষেধ নিয়ে আলোচনা।

পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ: একটি নতুন পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ কাঠামো তৈরি করা, যেখানে চীনকেও অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিতে পারেন ট্রাম্প।

অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকেত

২০২৫ সালে বুসান সম্মেলনে ট্রাম্প ও শি’র সাক্ষাতের পর থেকে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের কিছুটা উন্নতি হলেও প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা ও জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে টানাপোড়েন রয়েই গেছে। তবে এই সফরে বড় ধরনের কোনো নতুন চুক্তির চেয়েও দুই নেতার মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ব্যবস্থাপনা (Relationship Management)-ই বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। ট্রাম্পের এই সফর শেষে আগামী নভেম্বরে শেনঝেনে এপেক (APEC) সম্মেলনে তার পুনরায় চীন সফরের সম্ভাবনা রয়েছে এবং বছরের শেষে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফরের আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে। বিশ্বের দুই শীর্ষ অর্থনীতির দেশের এই বৈঠক বিশ্ববাজার ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র

 



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: