odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Thursday, 28th May 2026, ২৮th May ২০২৬
বাংলাদেশের অসংখ্য শিশুকে ‘অমনোযোগী’ বা ‘চঞ্চল’ বলে উপেক্ষা করা হয়। অথচ তাদের অনেকেই হয়তো Attention Deficit Hyperactivity Disorder (ADHD)-এর সঙ্গে লড়ছে নীরবে।

ADHD: ‘দুষ্টুমি’ নয়, শিশুমনের নীরব সংগ্রাম—কিন্তু লোহান বুঝলেও শশী যে বুঝে না?

Dr Mahbub | প্রকাশিত: ২৮ May ২০২৬ ০১:১৭

Dr Mahbub
প্রকাশিত: ২৮ May ২০২৬ ০১:১৭

অধিকারপত্র বিশেষ সম্পাদকীয় কলাম শিশুর মানসিক স্বান্থ্য 

ADHD বা অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাকটিভিটি ডিসঅর্ডার শুধু অতিরিক্ত চঞ্চলতা নয়, বরং শিশুদের মনোযোগ, আবেগ নিয়ন্ত্রণ ও আচরণগত বিকাশের একটি জটিল স্নায়ুবিক সমস্যা। এই বিশেষ ফিচারে তুলে ধরা হয়েছে ADHD-এর লক্ষণ, ধরন, কারণ, ঝুঁকি, স্বাভাবিক চঞ্চলতার সঙ্গে পার্থক্য, কোমর্বিডিটি এবং প্রাথমিক শনাক্তকরণের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো। কেন বাংলাদেশে বহু ADHD শিশু এখনও ‘অলস’ বা ‘অভদ্র’ তকমা পায়, এবং সময়মতো সহায়তা না পেলে কীভাবে তারা শিক্ষাজীবন ও সামাজিক বিকাশে পিছিয়ে পড়ে, সেই বাস্তবতাও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। অভিভাবক, শিক্ষক ও নীতিনির্ধারকদের জন্য এটি একটি জরুরি সচেতনতামূলক পাঠ।

একটি শিশু ক্লাসে পাঁচ মিনিটও স্থির হয়ে বসতে পারে না। শিক্ষক অভিযোগ করেন, “খুব দুষ্ট।” বাসায় পড়তে বসলে কিছুক্ষণ পরই উঠে যায়, খেলনা হারায়, একই কথা বারবার মনে করিয়ে দিতে হয়। পরিবার ভাবে, “বড় হলে ঠিক হয়ে যাবে।” কিন্তু অনেক সময় এই আচরণগুলো কেবল সাধারণ চঞ্চলতা নয়, বরং ADHD-এর লক্ষণ হতে পারে।

বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার সমাজে শিশুর আচরণগত সমস্যাকে এখনও অনেকাংশে শাসন, অলসতা বা ‘অভ্যাসের দোষ’ হিসেবে দেখা হয়। ফলে ADHD-তে আক্রান্ত অসংখ্য শিশু প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়। অথচ সময়মতো শনাক্ত করা গেলে উপযুক্ত থেরাপি, পারিবারিক সহায়তা ও শিক্ষাব্যবস্থার সমন্বয়ের মাধ্যমে এই শিশুরাও স্বাভাবিক ও সফল জীবনযাপন করতে পারে। ADHD তাই শুধু চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিষয় নয়; এটি পরিবার, শিক্ষা ও সামাজিক সহমর্মিতারও প্রশ্ন।

ADHD কী? শৈশবের চেনা অচেনা ব্যাধি

অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাকটিভিটি ডিসঅর্ডার (ADHD) শৈশবের সবচেয়ে সাধারণ স্নায়ুবিক আচরণগত ব্যাধিগুলোর একটি। এটি শুধু ‘চঞ্চলতা’ বা ‘মনোযোগের অভাব’ নয়; বরং মস্তিষ্কের নির্বাহী কার্যকারিতার (executive function) একটি জটিল সমস্যা। আক্রান্ত শিশুরা মনোযোগ ধরে রাখতে, আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে এবং প্রয়োজনে স্থির থাকতে গুরুতর অসুবিধায় পড়ে।

বাংলাদেশ ও ভারতে বহু শিশুকে ‘অলস’, ‘বেখেয়াল’, ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে’ লেবেল দেওয়া হয়, অথচ তাদের আসলে ADHD থাকতে পারে। সময়মতো রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা না পেলে এই শিশুরা পড়াশোনায় পিছিয়ে যায়, আত্মবিশ্বাস হারায় এবং সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

ADHD-র তিনটি মূল বৈশিষ্ট্য

বিশেষজ্ঞরা ADHD-কে তিনটি প্রধান ধারায় ভাগ করেন:

  •  ১. অমনোযোগিতা (Inattention): শিশু মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না। সহজেই বিভ্রান্ত হয়, কাজ অসমাপ্ত রেখে চলে যায়, নির্দেশনা শুনলেও মনে রাখতে পারে না। খাতা-কলম প্রায়ই হারায়। পড়তে বসলে দুই মিনিট পর অন্য কিছু ভাবতে শুরু করে।
  • ২. অতিসক্রিয়তা (Hyperactivity): শিশু যেন সবসময় ‘ওভারড্রাইভ’ মোডে থাকে। চেয়ারে স্থির হয়ে বসতে পারে না, হাত-পা নাড়ায়, দৌড়ায়, উঠাবসা করে। ক্লাসেও সিট ছেড়ে ঘুরে বেড়ায়। এমনকি খেলার সময়ও অতিরিক্ত উদ্দীপ্ত থাকে।
  • ৩. আবেগপ্রবণতা (Impulsivity): প্রশ্ন শেষ হওয়ার আগেই উত্তর ফেলে দেয়। নিজের পালার অপেক্ষা করতে পারে না। অন্যের কথার মাঝে ঢুকে পড়ে, বা অন্যের জিনিস কেড়ে নেয়। আবেগের বশবর্তী হয়ে বিপজ্জনক কাজও করে ফেলে।

ADHD-র ধরন (উপপ্রকার)

  • ১.প্রধানত অমনোযোগী টাইপ – বেশি চঞ্চল নয়, বরং স্বপ্নবিলাসী, ভুলো, অন্যমনস্ক। মেয়েদের মধ্যে এ ধরন বেশি দেখা যায়।
  • ২.প্রধানত অতিসক্রিয়-আবেগপ্রবণ টাইপ – মনোযোগের সমস্যা কম থাকে, কিন্তু দুর্বার চঞ্চলতা ও আবেগপ্রবণতা প্রকট।
  • ৩.সংযুক্ত টাইপ – তিনটি বৈশিষ্ট্যই তীব্রভাবে উপস্থিত। এটি সবচেয়ে সাধারণ।

ADHD-র কারণ ও ঝুঁকি

একক কোনো কারণ নেই। গবেষকরা মনে করেন জিনগত ও পরিবেশগত জটিল মিথস্ক্রিয়ায় ADHD হয়:

  • জিনগত:ADHD-তে আক্রান্ত শিশুর রক্তের আত্মীয়দের মধ্যে এই ব্যাধির হার ৪-৫ গুণ বেশি।
  • মস্তিষ্কের গঠন:প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স ও বেসাল গ্যাংলিয়ায় সূক্ষ্ম তারতম্য থাকে, যা মনোযোগ ও আবেগ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।
  • গর্ভাবস্থায় মাদক বা ধূমপান:মায়ের ধূমপান বা অ্যালকোহল সেবন ADHD-র ঝুঁকি বাড়ায়।
  • অকাল জন্ম বা কম ওজন:প্রিম্যাচিউর শিশুদের মধ্যে ADHD বেশি দেখা যায়।

গুরুত্বপূর্ণ: প্রচলিত ধারণার বিপরীতে, অতিরিক্ত চিনি খাওয়া, টিভি দেখা বা ‘খারাপ অভিভাবকত্ব’ ADHD তৈরি করে না। তবে এগুলো উপসর্গকে বাড়িয়ে তুলতে পারে।

ADHD vs. স্বাভাবিক চঞ্চলতা – কখন সন্দেহ করবেন?

সব শিশুই মাঝে মাঝে চঞ্চল বা অমনোযোগী হয়। ADHD তখনই যখন এই আচরণগুলো  মাসের বেশি স্থায়ী হয়,  বা ততোধিক পরিবেশে (যেমন বাড়ি ও স্কুল) দেখা যায় এবং শিশুর বয়স বিকাশের তুলনায় অস্বাভাবিক রকমের তীব্র হয়। উদাহরণ: একজন ৮ বছর বয়সী ADHD শিশু যে ক্লাসে ১০ মিনিট স্থির থাকতে পারে না; সে বাসায়ও খেলার সময় নিয়ম মেনে খেলতে পারে না। অন্যদিকে স্বাভাবিক চঞ্চল শিশু স্কুলে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেও বাড়িতে একটু বেশি চনমনে হয়।

ADHD-র সঙ্গী অন্যান্য ব্যাধি (কোমর্বিডিটি)

অধিকাংশ ADHD শিশুর আরও একটি বা একাধিক সমস্যা থাকে। তাই ওডিডি ও ডিপ্রেশনের মতো ব্যাধির চেকলিস্টের সঙ্গেই ADHD যাচাই করা জরুরি।

  • ওডিডি (৩০-৫০% ক্ষেত্রে):বিদ্রোহী আচরণ, কর্তার সঙ্গে তর্ক।
  • বিষণ্ণতা উদ্বেগ (২৫-৩৫% ক্ষেত্রে):আত্মমর্যাদা কমে যাওয়া, একাকিত্ববোধ, স্কুল ফোবিয়া।
  • শেখার অক্ষমতা (২০-৩০% ক্ষেত্রে):ডিসলেক্সিয়া বা ডিসক্যালকুলিয়ার মতো সমস্যা।

টীকা (Special Attention) 

ADHD-বিষয়ক এই ফিচারটি পূর্বে প্রকাশিত ODD (Oppositional Defiant Disorder) ও MDD (Major Depressive Disorder) বিষয়ক আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে একই ভাষাশৈলী, বিশ্লেষণধর্মী গভীরতা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে রচিত হয়েছে। ADHD-কে আরও গভীরভাবে ও সামগ্রিকভাবে বুঝতে পাঠকদের জন্য পূর্বের ODD ও MDD বিষয়ক ফিচার দুটি পড়া বিশেষভাবে সহায়ক হবে। এই লেখায় ADHD-এর সংজ্ঞা, লক্ষণ, প্রকারভেদ, কারণ, কোমর্বিডিটি (সহ-অবস্থান), চিকিৎসা, আচরণগত ব্যবস্থাপনা এবং প্রচলিত ভুল ধারণাগুলো ধারাবাহিক ও সহজবোধ্যভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রয়োজনে এটি পৃথক ফিচার হিসেবেও অথবা পূর্ববর্তী মানসিক ও আচরণগত স্বাস্থ্যধর্মী ধারাবাহিক লেখার একটি সম্পূরক অধ্যায় হিসেবেও ব্যবহার করা যেতে পারে।

পড়ুন পূর্বে প্রকাশিত ১ম নিবন্ধ: শশীর কাছে যখন শৈশব হারায় নীরব অন্ধকারে: শিশুদের ডিপ্রেশন, বিদ্রোহ আর অদেখা মানসিক যুদ্ধ │দুষ্টুমি, অবাধ্যতা নাকি মানসিক অসুস্থতা? ওডিডি ও শৈশব বিষণ্ণতার ভয়াবহ বাস্তবতা, পরিবার-স্কুল-সমাজের দায় এবং চিকিৎসার নতুন দিগন্ত নিয়ে বিশেষ বিশ্লেষণ।

এবং

পড়ুন পূর্বে প্রকাশিত ২য় নিবন্ধ: শশীর আড়ালে বারো বছরের ছেলের নীরব যুদ্ধ: বিদ্রোহ, বিষণ্ণতা ও এক কিশোর মনের অদেখা সংকট│ওডিডি ও মেজর ডিপ্রেসিভ ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত কিশোরদের আচরণ, ভুল রোগ নির্ণয়, পারিবারিক সংগ্রাম এবং পুনরুদ্ধারের বাস্তব পথ নিয়ে অনুসন্ধানী বিশেষ প্রতিবেদন।

চিকিৎসা ও হস্তক্ষেপ: অনেক পথ, একটা লক্ষ্য

ADHD-র চিকিৎসা ওষুধ-কেন্দ্রিক নয়, বরং বহুমুখী।
  • . অভিভাবক প্রশিক্ষণ আচরণগত থেরাপি: শিশুকে শেখানো হয় কীভাবে মনোযোগ ধরে রাখতে হয়। অভিভাবকদের শেখানো হয় ‘টোকেন ইকোনমি’, ইতিবাচক শক্তিবৃদ্ধির কৌশল।
  • . ওষুধ (প্রয়োজনে): সবচেয়ে কার্যকর ওষুধ হলো-সাইকোস্টিমুল্যান্ট  (মিথাইলফেনিডেট, অ্যামফেটামিন-ভিত্তিক)। এগুলো মস্তিষ্কের ডোপামিন ও নোরপাইনফ্রিনের মাত্রা বাড়ায়, যার ফলে মনোযোগ ও আবেগ নিয়ন্ত্রণ উন্নত হয়। প্রায় ৭০-৮০% শিশু উপকার পায়। ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (অনিদ্রা, ক্ষুধামন্দা) ব্যবস্থাপনাযোগ্য।
  • . স্কুল-ভিত্তিক হস্তক্ষেপ: শিক্ষকেরা শিশুকে সামনের সারিতে বসাতে পারেন, নির্দেশনা ছোট ছোট ভাগে দিতে পারেন, বা পরীক্ষায় বাড়তি সময় দিতে পারেন। অনেক দেশে ‘ইন্ডিভিজুয়ালাইজড এডুকেশন প্ল্যান (IEP)’ আইনত বাধ্যতামূলক।

সারণী (Table)

ADHD সম্পর্কিত ভুল ধারণা ও সংশোধন

ভুল ধারণা

বাস্তবতা

ADHD হয়খারাপ বাচ্চাদের

এটি একটি স্নায়ুজীববিজ্ঞানভিত্তিক ব্যাধি, লালন-পালনের একার দোষ নয়

বড় হলে নিজেই সেরে যায়

প্রায় ৬০% ক্ষেত্রে উপসর্গ কৈশোর ও যৌবনেও থাকে, তবে ব্যবস্থাপনা শিখতে পারে

স্টিমুল্যান্ট ওষুধ আসক্তি করে

চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে সঠিক মাত্রায় এরা আসক্ত না করে বরং আসক্তি প্রতিরোধ করে

মেয়েদের ADHD হয় না

হয়, কিন্তু তারা কম চঞ্চল হয় বলে ধরা পড়ে না

ADHD নির্ণয়: পদ্ধতি ও চেকলিস্ট

আমি ইতিমধ্যেই একটি পৃথক চেকলিস্ট তৈরি করে দিয়েছি (পূর্বের উত্তর দেখুন)। তবে নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগে অভিভাবকেরা নিচের প্রশ্নগুলো ভেবে নিতে পারেন:

  1. শিশু কি নির্দেশনা শেষ হওয়ার আগেই কাজ করতে শুরু করে?
  2. তাকে বারবার একই কথা বলে স্মরণ করিয়ে দিতে হয়?
  3. ক্লাসের শিক্ষক কি প্রায়ই ‘অমনোযোগী’, ‘কথাবার্তা বেশি’ বলে অভিযোগ করেন?
  4. শিশু কি পড়তে বসলে ৫-১০ মিনিট পরেই উঠে যায়?
  5. টেলিভিশন বা গেমের সামনে বসে থাকলেও কি হাত-পা নড়াতে থাকে?

সতর্কতা: এই প্রশ্নগুলো শুধুমাত্র প্রাথমিক ইঙ্গিত দেয়। চূড়ান্ত নির্ণয় করতে শিশু মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পূর্ণাঙ্গ ক্লিনিক্যাল ইন্টারভিউ, শিক্ষক ও অভিভাবকের রেটিং স্কেল এবং প্রয়োজনে আচরণগত পরীক্ষার প্রয়োজন।

এডিএইচডি শনাক্তকরণ: “দুষ্টুমিনাকি সাহায্যের নীরব আহ্বান?

বাংলাদেশের অসংখ্য পরিবারে এখনও একটি ভুল ধারণা খুব শক্তভাবে কাজ করে—যে শিশু বেশি চঞ্চল, মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না, একটানা কথা বলে, জিনিস ভুলে যায় বা স্থির হয়ে বসতে পারে না, তাকে সহজেই বলা হয় “দুষ্ট”, “অমনোযোগী”, “অসভ্য” কিংবা “ইচ্ছা করেই এমন করে”। অথচ বাস্তবতা অনেক সময় ভিন্ন। অনেক শিশুর এই আচরণের পেছনে থাকতে পারে ADHD (Attention-Deficit/Hyperactivity Disorder) নামের একটি স্নায়ুবিক-আচরণগত অবস্থা।

কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—শুধু মা-বাবার অনুমান বা স্কুলের অভিযোগ শুনেই ADHD নির্ণয় করা যায় না। আবার একদিনের দেখায়ও কোনো শিশুকে ADHD বলা বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়। এজন্য প্রয়োজন পর্যবেক্ষণ, পারিবারিক ইতিহাস, শিক্ষকদের মতামত, শিশুর আচরণগত ধরণ এবং কিছু বৈজ্ঞানিক Screening ও Assessment Tools-এর সহায়তা।

বিশেষজ্ঞরা সাধারণত ADHD মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শিশুর আচরণকে একাধিক পরিবেশে দেখেন—যেমন বাসা, স্কুল, খেলার মাঠ বা সামাজিক পরিবেশে। কারণ ADHD-এর লক্ষণ শুধু একটি জায়গায় নয়; বরং বিভিন্ন পরিবেশে দীর্ঘদিন ধরে দেখা যায়। এই মূল্যায়নের কাজে বিশ্বব্যাপী কিছু নির্ভরযোগ্য স্কেল ও প্রশ্নপত্র ব্যবহার করা হয়, যেগুলোকে বলা হয় “Rating Scale” বা “Assessment Tool”।

সবচেয়ে পরিচিত ও বহুল ব্যবহৃত টুলগুলোর মধ্যে রয়েছে Vanderbilt Assessment Scale এবং SNAP-IV Scale। Vanderbilt Scale সাধারণত ৬ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের জন্য ব্যবহৃত হয়। এতে মা-বাবা ও শিক্ষকদের জন্য আলাদা ফর্ম থাকে। এই স্কেলের মাধ্যমে শুধু ADHD নয়, পাশাপাশি শিশুর মধ্যে ODD (Oppositional Defiant Disorder), উদ্বেগ, বিষণ্ণতা, আচরণগত সমস্যা এবং একাডেমিক পারফরম্যান্স সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যায়।

অন্যদিকে SNAP-IV Scale-ও ADHD মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্কেল। এটিতেও শিক্ষক ও অভিভাবকের মতামত নেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, শিশুর আচরণকে শুধুমাত্র “খারাপ ব্যবহার” হিসেবে না দেখে বৈজ্ঞানিকভাবে পর্যবেক্ষণ করার ক্ষেত্রে এসব স্কেল অত্যন্ত সহায়ক।

অনেক সময় ADHD-এর সঙ্গে আরও কিছু মানসিক বা আচরণগত অবস্থা একসাথে থাকতে পারে। যেমন—উদ্বেগ (Anxiety), বিষণ্ণতা (Depression), ODD, Autism Spectrum Disorder, Learning Disorder বা Trauma-related সমস্যা। তাই একজন দক্ষ বিশেষজ্ঞ শিশুর সামগ্রিক মানসিক ও আচরণগত অবস্থা মূল্যায়ন করেন। উদাহরণ হিসেবে উদ্বেগ মূল্যায়নের জন্য SCARED বা GAD-7, বিষণ্ণতা মূল্যায়নের জন্য PHQ-9 বা CES-DC, Autism ঝুঁকি মূল্যায়নের জন্য M-CHAT-R/F বা ASSQ ব্যবহার করা হতে পারে। 

এখানে একটি বিষয় অভিভাবকদের বুঝতে হবে—এই স্কেলগুলো কোনো “চূড়ান্ত রায়” নয়। এগুলো মূলত Screening Tool বা প্রাথমিক মূল্যায়নের সহায়ক উপায়। অর্থাৎ স্কেলে কিছু লক্ষণ পাওয়া গেলেই শিশু “অসুস্থ” হয়ে যায় না। বরং এটি বিশেষজ্ঞকে শিশুর আচরণ আরও গভীরভাবে বোঝার সুযোগ দেয়। চূড়ান্ত মূল্যায়নের জন্য প্রয়োজন শিশুর বিস্তারিত ইতিহাস, পর্যবেক্ষণ, পারিবারিক ও শিক্ষাগত তথ্য এবং ক্লিনিক্যাল সাক্ষাৎকার।

দুঃখজনকভাবে আমাদের সমাজে এখনও অনেক অভিভাবক “মানুষ কী বলবে” এই ভয় থেকে শিশুকে বিশেষজ্ঞের কাছে নিতে দেরি করেন। কেউ কেউ আবার ভাবেন, “বড় হলে ঠিক হয়ে যাবে”। কিন্তু দীর্ঘদিন অবহেলা করলে শিশুর আত্মবিশ্বাস কমে যেতে পারে, পড়াশোনায় সমস্যা হতে পারে, সামাজিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং মানসিক চাপ বাড়তে পারে।

তাই আপনার সন্তান যদি দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত অমনোযোগী, অত্যধিক চঞ্চল, আবেগ নিয়ন্ত্রণে দুর্বল বা আচরণগতভাবে সংগ্রামরত হয়, তবে তাকে “দুষ্ট” বলে দোষারোপ না করে একজন নিবন্ধিত শিশু মনোরোগ বিশেষজ্ঞ, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট, ডেভেলপমেন্টাল বিশেষজ্ঞ বা সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীর পরামর্শ নিন।

কারণ অনেক সময় শিশুর “দুষ্টুমি” আসলে তার সাহায্যের নীরব ভাষা। আর সেই ভাষা বোঝার দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি মা-বাবা, শিক্ষক ও সমাজের।

বিশেষ টুলস

অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাকটিভিটি ডিসঅর্ডার (ADHD) – প্রাবল্যতা নির্ণয় চেকলিস্ট

নির্দেশনা: গত ৬ মাস ধরে নিচের প্রতিটি লক্ষণ আপনার সন্তানের মধ্যে কতবার দেখেছেন? বয়স অনুপাতে স্বাভাবিক আচরণ থেকে কতটা ভিন্ন, সেই বিবেচনায় উত্তর দিন। প্রতিটি বক্তব্যের জন্য ০-৩ স্কোর ব্যবহার করুন এবং সঠিক কোষে টিক দিন।

সারণী (Table)

ADHD চেকলিস্ট │অংশ ১: অমনোযোগিতা (Inattention) – ৯টি উপসর্গ

ক্র.

উপসর্গ

০ (কখনো না)

১ (মাঝে মাঝে – মাসে ১-২ বার)

২ (প্রায়ই – সপ্তাহে ২-৩ বার)

৩ (সবসময় – প্রায় প্রতিদিন)

বিস্তারিত মনোযোগ দেয় না বা অসতর্ক বশত স্কুলের কাজে ভুল করে【১৪†L9-L11】

কোনো কাজ বা খেলাতেও মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না, সহজেই উৎসাহ চলে যায়【১৪†L11-L12】

সরাসরি কথা বললেও মনে হয় মনোযোগ দিয়ে শুনছে না【১৪†L12-L13】

নির্দেশনা অনুসরণ করতে পারে না বা নির্দেশনা-মতো কাজ শেষ করতে পারে না (বিরোধিতার কারণে নয়; বরং নির্দেশ বোঝা বা ধরে রাখতে পারে না বলে)【১০†L11-L12】

কাজ ও কার্যক্রম গোছাতে কষ্ট হয় (যেমন, ধাপে ধাপে কোনো কাজ সম্পন্ন করতে পারে না)【১০†L15-L16】

দীর্ঘক্ষণ মনোযোগের প্রয়োজন হয় এমন কাজ (পড়া, লেখা, পরীক্ষা) এড়িয়ে চলে বা করতে চায় না【১৪†L14-L17】

কাজ বা খেলার দরকারি জিনিস (পেন, খাতা, খেলনা, টিফিন) প্রায়ই হারিয়ে ফেলে【১৪†L17-L19】

খুব সহজেই বাইরের কোনো কিছুতে মনোযোগ চলে যায় (যেমন, পড়ার সময় ঘরের বাইরের আওয়াজে বিভ্রান্ত হয়)【১৪†L19-L21】

দৈনন্দিন কাজকর্মে প্রায়ই ভুলে যায় (যেমন, বাসার কাজ করতে বলে তিন মিনিট পর ভুলে যায়)【১৪†L21】

 সারণী (Table)  

ADHD চেকলিস্ট │অংশ ২: অতিসক্রিয়তা ও আবেগপ্রবণতা (Hyperactivity & Impulsivity) – ৯টি উপসর্গ

ক্র.

উপসর্গ

০ (কখনো না)
১ (মাঝে মাঝে – মাসে ১-২ বার)
২ (প্রায়ই – সপ্তাহে ২-৩ বার)
৩ (সবসময় – প্রায় প্রতিদিন)

যেখানে স্থির হয়ে বসে থাকা জরুরি, সেখানেও হাত-পা নাড়ায়, দেহ মোচড়ায় বা ফিজেট করে【১৪†L22-L23】

নিজের সিট ছেড়ে উঠে যায়, এমনকি ক্লাসের মধ্যেও ঘুরে বেড়ায়【১৪†L23-L24】

দৌড়ানো বা বেড়াতে ওঠা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি – যেন সবসময় একটা ইঞ্জিন চালিয়ে রাখছে【১২†L24-L27】

চুপচাপ খেলা বা অবসর কার্যক্রম করতে পারে না【১৪†L25-L26】

সবসময় ‘অস্থির’, যেন কোনো মোটরের জোরে চালিত হচ্ছে【১৪†L26】

অতিরিক্ত কথা বলে, অহরহ প্রশ্ন করে【১৪†L26-L27】

প্রশ্ন শেষ হওয়ার আগেই উত্তর দিয়ে ফেলে (ধৈর্য থাকে না)【১৪†L27-L29】

নিজের পালা বা লাইনে দাঁড়াতে পারে না, অন্যের কাজের মাঝে ঢুকে পড়ে【১২†L27-L30】

অন্যের কথার মাঝে ঢুকে পড়ে বা অন্যের কাজে বাধা দেয়【১৪†L28-L29】

গণনা ও মূল্যায়ন

ADHD স্কোর গণনা

  • অংশ ১ (অমনোযোগিতা) মোট স্কোর:______ (সর্বোচ্চ ২৭)
  • অংশ ২ (অতিসক্রিয়তা ও আবেগপ্রবণতা) মোট স্কোর:______ (সর্বোচ্চ ২৭)

ADHD প্রাবল্যতা নির্ণয়

১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য DSM-5 মানদণ্ড【১০†L11-L19】:

  • অমনোযোগিতার ৯টি উপসর্গের মধ্যে কমপক্ষে ৬টি উপসর্গের স্কোর যদি  বা  হয়, এবং তা  মাসের বেশি সময় ধরে থাকে, তবে “অমনোযোগী (Inattentive) টাইপ ADHD” হতে পারে।
  • অতিসক্রিয়তা ও আবেগপ্রবণতার ৯টি উপসর্গের মধ্যে কমপক্ষে ৬টি উপসর্গের স্কোর যদি  বা  হয়, এবং তা  মাসের বেশি সময় ধরে থাকে, তবে “অতিসক্রিয়-আবেগপ্রবণ (Hyperactive-Impulsive) টাইপ ADHD” হতে পারে।
  • যদি উভয় শ্রেণিতেই ৬টি করে উপসর্গ বিদ্যমান থাকে, তবে “সংযুক্ত (Combined) টাইপ ADHD” হতে পারে।

যোগ্যতা নির্ণয় (Qualitative Criteria)

আপনার সন্তানের ADHD নির্ণয়ের সম্ভাবনা যাচাই করতে, আপনি “হ্যাঁ” উত্তর দিয়েছেন এমন প্রতিটি লক্ষণের জন্য নিচের তিনটি শর্ত পূরণ হয়েছে কি না লক্ষ্য করুন। প্রতিটি লক্ষণকে পৃথকভাবে যাচাই করুন, যেমন: “১ নম্বর লক্ষণটি কি ৬ মাসের বেশি সময় ধরে আছে? এটি কি একের বেশি জায়গায় (যেমন, স্কুল ও বাড়ি) দেখা যাচ্ছে? এটি কি স্বাভাবিক বয়সোপযোগী আচরণ থেকে স্পষ্ট ভিন্ন?”

  • দীর্ঘস্থায়িতা (Duration): লক্ষণগুলি কমপক্ষে  মাস ধরে অব্যাহত আছে কি?【১০†L10-L12】
  • বয়সানুপাতিকতা (Developmental Level): আচরণগুলি সন্তানের বয়স এবং বিকাশগত স্তরের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় কি?【১০†L10-L11】
  • বহু-পরিবেশগত উপস্থিতি (Cross-Situational): লক্ষণগুলি দুই বা ততোধিক পরিবেশে (যেমন, বাড়ি, স্কুল, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা) দেখা যাচ্ছে কি?【১০†L24-L25】

যদি ৬টি উপসর্গেরহ্যাঁএবং উপরের তিনটি শর্ত পূর্ণ হয়, তাহলে ADHD- সম্ভাবনা বিদ্যমান।

সতর্কীকরণ করণীয়

  1. এটি কোনো চূড়ান্ত রোগ নির্ণয় নয়:এই চেকলিস্টটি প্রাথমিক স্ক্রিনিং মাত্র। শুধুমাত্র প্রশিক্ষিত শিশু মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা ক্লিনিকাল সাইকোলজিস্ট পূর্ণাঙ্গ ক্লিনিক্যাল ইন্টারভিউ, আচরণগত মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনে নিউরোসাইকোলজিক্যাল পরীক্ষার মাধ্যমে ADHD নির্ণয় নিশ্চিত করতে পারেন【১২†L37-L40】।
  2. অন্যান্য রোগের সম্ভাবনা:ADHD-র মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে উদ্বেগজনিত রোগ, থাইরয়েডের সমস্যা, শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া বা শেখার অক্ষমতার কারণেও। অতএব সঠিক শারীরিক ও মানসিক মূল্যায়ন অত্যন্ত জরুরি【১৪†L9-L11】।
  3. পরবর্তী পদক্ষেপ:আপনার পূরণ করা চেকলিস্ট ও নোট শিশু মনোরোগ বিশেষজ্ঞকে দেখান। “কোথায়, কখন, কত ঘন ঘন” – এই তথ্য ডাক্তারের জন্য অত্যন্ত সহায়ক।
  4. সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যাধি (ওডিডি ডিপ্রেশন) জন্য চেকলিস্ট: আপনি যদি ইতোপূর্বে ওডিডি (বিপরীতমুখী প্রতিরোধ ব্যাধি) ও ডিপ্রেশনের চেকলিস্ট ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে একটি কথা মনে রাখবেন—এসব ব্যাধি ADHD-র সঙ্গেও প্রায়ই একসাথে দেখা দিতে পারে। তাই শুধু ADHD চেকলিস্ট পূরণ করে সন্তুষ্ট না থেকে, প্রয়োজনে ওই চেকলিস্ট দুটিও পূরণ করে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যান। কারণ একসঙ্গে একাধিক ব্যাধি থাকলে চিকিৎসার ধরণও ভিন্ন হয়।
  5. লেখকের কথা:
    • উপরের স্কেলটি আমাদের প্রেক্ষাপটে ঈষৎ মডিফাইড।
    • কতগলো Common ADHD Rating Scales and Assessment Tools, দেখতে ভিজিট করতে পারেন Common ADHD Rating Scales and Assessment Tools, তবে সকল টুলস ফ্রি নয়।
    • দেখতে পারেন https://wvadhd.org/wp-content/uploads/2023/08/Appendix-1.4-Screening-Assessment-Tools-for-ADHD-and-Related-Conditions.pdf এবং https://www.ccjm.org/content/ccjom/82/11_suppl_1/S2.full.pdf
    • ADHD আক্রান্ত অনেক শিশুই অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী। কিন্তু সঠিক রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা ছাড়া তাদের সেই সম্ভাবনা বেরিয়ে আসে না। তাই দ্বিধা করবেন না, চেকলিস্টটি পূরণ করুন এবং বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

এডিএইচডি আচরণগত সমস্যা: মূল্যায়ন, চিকিৎসা ডিএসএম--এর নতুন দিকনির্দেশনা

ছোটবেলায় প্রতিটি শিশুর মধ্যেই কিছু না কিছু চঞ্চলতা থাকে। দৌড়াদৌড়ি, এক জায়গায় বসে না থাকা, নির্দেশ শুনে না মানা—এসব অনেক সময় শৈশবের অংশ হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু যখন এই আচরণগুলো অস্বাভাবিক মাত্রায় পৌঁছে যায়, যখন অন্য একই বয়সী শিশুরা ধীরে ধীরে নিয়ম মানতে শেখে, কিন্তু আপনার সন্তান দিনের পর দিন একই রকম অস্থির, অমনোযোগী ও আবেগপ্রবণ থাকে—তখন প্রশ্ন ওঠে, এটা কি শুধু ‘দুষ্টুমি’ নাকি আরও কিছু? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটাই হতে পারে এটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাকটিভিটি ডিসঅর্ডার (ADHD) , যা একটি স্নায়ুবিক ব্যাধি, শুধু খারাপ আচরণ নয়। আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশনের ডিএসএম-৫ (Diagnostic and Statistical Manual of Mental Disorders, fifth edition) নামের সর্বশেষ নির্দেশিকায় ADHD ও অন্যান্য আচরণগত সমস্যার সংজ্ঞা ও রোগনির্ণয়ের পদ্ধতিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই লেখায় আমরা সেসব সহজ ভাষায়, পিতামাতার বোঝার উপযোগী করে তুলে ধরব।

  • এডিএইচডি কী এবং ডিএসএম-৫-এ কী কী বদলেছে?: ডিএসএম-৫-এর আগের সংস্করণে ADHD রোগনির্ণয়ের জন্য ছয় বছর বয়সের আগেই উপসর্গ শুরু হতে হতো। কিন্তু নতুন নির্দেশিকায় এই বয়সসীমা বাড়িয়ে বারো বছর করা হয়েছে। কেন এই পরিবর্তন? কারণ অনেক শিশু, বিশেষ করে মেয়েরা, যাদের উপসর্গ মূলত অমনোযোগিতা (inattention) কেন্দ্রিক, তারা ছোটবেলায় তেমন ধরা পড়ে না। ক্লাস ফাইভ বা সিক্সে গিয়ে যখন পড়ার চাপ বাড়ে, তখন তাদের অমনোযোগিতা স্পষ্ট হয়। তাই এখন বারো বছরের আগে যদি উপসর্গের সূত্রপাত হয়, তবেই ADHD বিবেচনা করা হবে। আরেকটি বড় পরিবর্তন হলো—উপসর্গ কমপক্ষে দুটি ভিন্ন পরিবেশে (যেমন বাড়ি ও স্কুল) উপস্থিত থাকতে হবে। অর্থাৎ শুধু বাড়িতে অস্থির হলেই হবে না, স্কুলের ক্লাসরুমেও একই আচরণ দেখা যেতে হবে। এ ছাড়া ১৭ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য উপসর্গের সংখ্যা আগে ছিল কমপক্ষে ছয়টি, এখন তা কমিয়ে পাঁচটি করা হয়েছে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যুক্ত হয়েছে ‘partial remission’ বা আংশিক উপশমের ধারণা। গবেষণায় দেখা গেছে, ADHD-তে আক্রান্ত শিশুদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের উপসর্গ ১৮ বছর বয়সের মধ্যে অনেকটাই কমে যায়, যদিও পুরোপুরি না-ও সেরে যেতে পারে।
  • অন্যান্য আচরণগত ব্যাধি-ওডিডি, কন্ডাক্ট ডিসঅর্ডার ও ডিএমডিডি: শুধু ADHD নয়, ডিএসএম-৫-তে আরও কয়েকটি আচরণগত ব্যাধির মানদণ্ড পরিষ্কার করা হয়েছে। অপজিশনাল ডিফায়েন্ট ডিসঅর্ডার (ODD) -এ এখন তিন ধরনের উপসর্গ দেখা যায়: (১) ক্রমাগত রাগ বা বিরক্তি, (২) তর্কপ্রিয় ও বিদ্রোহী আচরণ, বিশেষ করে কর্তা ব্যক্তিদের সঙ্গে, এবং (৩) প্রতিহিংসাপরায়ণতা। এই আচরণ ছয় মাসের বেশি সময় ধরে থাকতে হবে। ODD-র একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এই শিশুরা সেই সব পরিস্থিতিতে সবচেয়ে ভালো আচরণ করে যেখানে তারা নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে পারে। অন্যদিকে কন্ডাক্ট ডিসঅর্ডার আরও গুরুতর। এখানে শিশু ইচ্ছাকৃতভাবে অন্যের ক্ষতি করে, জিনিসপত্র ধ্বংস করে, মিথ্যা বলে, চুরি করে, বা বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। কেউ কেউ একে ODD-র চরম রূপ বলে মনে করেন। ইন্টারমিটেন্ট এক্সপ্লোসিভ ডিসঅর্ডার (IED) -এ আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে হঠাৎ করে অনিয়ন্ত্রিত রাগের বিস্ফোরণ ঘটে, যা উত্তেজনার তুলনায় অনেক বেশি তীব্র। এই সমস্যা সাধারণত তিন-চার বছর বয়স থেকেই দেখা যায়।
  • ডিএসএম-৫-এ যুক্ত হয়েছে একটি সম্পূর্ণ নতুন রোগ: ডিসরাপটিভ মুড ডিসরেগুলেশন ডিসঅর্ডার (DMDD) । আগে অনেক শিশুকে ‘পেডিয়াট্রিক বাইপোলার ডিসঅর্ডার’ বলে চিহ্নিত করা হতো, কিন্তু পরে দেখা গেছে তারা বড় হয়ে বাইপোলারের মানদণ্ড পূরণ করে না। DMDD-র মূল বৈশিষ্ট্য হলো
    • (ক) হঠাৎ তীব্র রাগের বিস্ফোরণ, সপ্তাহে গড়ে অন্তত তিন দিন, এবং
    • (খ) সেই বিস্ফোরণের মধ্যবর্তী সময়েও শিশুর মেজাজ থাকে খিটখিটে ও রাগান্বিত। উপসর্গ কমপক্ষে বারো মাস স্থায়ী হতে হবে এবং দুই পরিবেশে দেখা যেতে হবে। ছয় বছরের আগে DMDD নির্ণয় করা যায় না, এবং দশ বছরের পরও সাধারণত শুরু হয় না।
  • এডিএইচডি মূল্যায়ন-কীভাবে বুঝবেন এটা আসলেই রোগ?: ডাক্তারি ভাষায় এডিএইচডি নির্ণয়ের প্রধান হাতিয়ার হলো ক্লিনিক্যাল ইন্টারভিউ, অর্থাৎ বাবা-মা ও শিক্ষকদের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলা। কোনো ল্যাব টেস্ট বা স্ক্যান দিয়ে সরাসরি ADHD ধরা যায় না। চিকিৎসক প্রথমে বোঝার চেষ্টা করেন শিশুর আচরণ অন্য একই বয়সী শিশুদের তুলনায় কতটা অস্বাভাবিক। এ জন্য বিভিন্ন মূল্যায়ন স্কেল ব্যবহার করা হয়, যেমন Vanderbilt ADHD Diagnostic Rating Scale (পিতামাতা ও শিক্ষক উভয়ের জন্য) এবং Conners Third Edition। এসব প্রশ্নপত্র পূরণ করে শিশুর উপসর্গের তীব্রতা ও বিস্তৃতি বোঝা যায়। এ ছাড়া চিকিৎসক শিশুর শারীরিক ইতিহাস দেখেন—কোনো দুর্ঘটনায় মাথায় আঘাত লেগেছে কি না, থাইরয়েডের সমস্যা আছে কি না, অ্যাজমা বা অ্যালার্জির ওষুধ (যেমন কর্টিকোস্টেরয়েড) চলছে কি না—কারণ এসবও ADHD-র মতো উপসর্গ তৈরি করতে পারে। সামাজিক ইতিহাসও জরুরি: পরিবারে কলহ, স্কুলে বুলিং, ঘুমের অভাব—এসব কারণে শিশুর মনোযোগ কমে যেতে পারে, কিন্তু সেটি আসল ADHD নয়।

এডিএইচডি ব্যবস্থাপনা: বহুমুখী পথে সুস্থতার ঠিকানা

শুধু রোগ নির্ণয় করলেই হয় না; প্রয়োজন সঠিক ও সময়োচিত ব্যবস্থাপনা। এডিএইচডি একটি দীর্ঘমেয়াদি স্নায়ুবিক ব্যাধি, যার কোনো 'স্থায়ী নিরাময়' না থাকলেও সঠিক চিকিৎসা ও সহায়তায় আক্রান্ত শিশু স্বাভাবিক, সফল জীবনযাপন করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা একমত—ADHD-এর সর্বোত্তম ব্যবস্থাপনা হলো বহুমাত্রিক পদ্ধতি (multimodal approach)। এর অর্থ হলো একটি পদ্ধতি নয়, বরং ওষুধ, আচরণগত থেরাপি, অভিভাবক প্রশিক্ষণ, স্কুল-ভিত্তিক সহায়তা ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন—সবকিছু একসঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা। নিচে ধাপে ধাপে বলা হচ্ছে কীভাবে একটি ADHD-আক্রান্ত শিশুকে সঠিক পথে পরিচালিত করা যায়।

১. আচরণগত থেরাপি (Behavioral Therapy)

শিশুদের ADHD ব্যবস্থাপনার ভিত্তি হলো আচরণগত থেরাপি। এটি শিশুকে শেখায় কীভাবে নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে হয়, কীভাবে মনোযোগ ধরে রাখতে হয় এবং কীভাবে ইতিবাচক আচরণ গড়ে তুলতে হয়। আচরণগত থেরাপি সবচেয়ে কার্যকর হয় যখন মা-বাবা তা সরাসরি প্রয়োগ করেন

এডিএইচডি শিশুদের জন্য আচরণগত থেরাপির মূল কৌশলগুলো হলো:

  • পজিটিভ রিইনফোর্সমেন্ট (ইতিবাচক শক্তিবৃদ্ধি):শিশু ভালো আচরণ করলে সঙ্গে সঙ্গে প্রশংসা বা ছোট পুরস্কার দিন। এটি তাকে বারবার ভালো আচরণ করতে উৎসাহিত করে。
  • স্পষ্ট সামঞ্জস্যপূর্ণ নিয়ম:বাড়ির নিয়মগুলো খুব স্পষ্ট করে বলুন এবং সবসময় একইভাবে তা প্রয়োগ করুন।
  • ডেইলি রুটিন মেনে চলা:ঘুম থেকে ওঠা, পড়া, খেলাধুলা, খাওয়া ও ঘুমানোর একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি তৈরি করুন। ADHD শিশুদের জন্য রুটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ。
  • ছোট ছোট কাজে ভাগ করা:“ঘর গোছাও” না বলে “প্রথমে খেলনা তোলো, তারপর বইগুলো সাজাও”—এভাবে কাজগুলো ছোট ছোট ধাপে ভাগ করে দিন।
  • টাইমার ভিজুয়াল সহায়ক:একটি নির্দিষ্ট কাজ কত মিনিট করতে হবে তা টাইমার বসিয়ে দিন। শিশুকে সময়ের ধারণা দিতে ভিজুয়াল চার্ট ব্যবহার করুন।
  • কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি (CBT): CBT শিশুদের নেতিবাচক চিন্তার ধরণ চিহ্নিত করতে ও পরিবর্তন করতে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, ওষুধের সঙ্গে CBT যুক্ত করলে ADHD-র মূল লক্ষণ কমাতে এবং শিশুর কার্যকারিতা বাড়াতে তা একক ওষুধের চেয়ে বেশি কার্যকর। CBT আবেগ নিয়ন্ত্রণ ও মোকাবিলা কৌশল উন্নত করতে দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

২. অভিভাবক প্রশিক্ষণ (Parent Management Training / PMT)

এডিএইচডি ব্যবস্থাপনায় অভিভাবক প্রশিক্ষণ একটি প্রমাণিত ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। বিশেষ করে ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য প্যারেন্ট ট্রেনিং সবচেয়ে বেশি কার্যকর। অভিভাবক প্রশিক্ষণে কী শেখানো হয়:

  • কীভাবে কার্যকর নির্দেশনা দিতে হয়:চিৎকার না করে, সংক্ষেপে ও সরাসরি নির্দেশ দেওয়া।
  • ইতিবাচক আচরণ কীভাবে পুরস্কৃত করতে হয়:শিশু ভালো কিছু করলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে স্বীকৃতি দেওয়া।
  • যথাযথ পরিণতি প্রয়োগের কৌশল:প্রিভিলেজ কেড়ে নেওয়া বা টাইম-আউটের মতো শাস্তি নয়, বরং যৌক্তিক পরিণতি কীভাবে কার্যকর করতে হয়।
  • শান্ত থাকার কৌশল:বাবা-মা কীভাবে নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করবেন, যাতে উত্তেজনা ছড়িয়ে না পড়ে。
  • প্রত্যাশা সঠিক রাখা:ADHD সম্বন্ধে বাস্তবসম্মত ধারণা দেওয়া, যাতে মা-বাবা অহেতুক দোষী বোধ না করেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, সংক্ষিপ্ত আকারের অভিভাবক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও শিশুর দৈনন্দিন আচরণগত সমস্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করতে পারে। অভিভাবক প্রশিক্ষণ শিশুর আচরণের উন্নতি ঘটায় এবং পাশাপাশি অভিভাবকের মানসিক চাপ ও হতাশা কমায়।

৩. ওষুধ (Medication)

ষষ্ঠ বছর বা তার বেশি বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে আমেরিকান একাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্স (AAP) আচরণগত থেরাপির সঙ্গে ওষুধ একসঙ্গে ব্যবহারের সুপারিশ করে, বিশেষ করে ৫ বছরের নিচের শিশুদের জন্য জটিলতা এড়াতে প্রথম সারির চিকিৎসা থেরাপি হওয়া উচিত, দ্বিতীয় মতামত ব্যতিরেকে ওষুধ এড়িয়ে চলা ভালো।
  • . স্টিমুল্যান্ট ওষুধ (প্রথম সারির চিকিৎসা): এডিএইচডি-র চিকিৎসায় প্রথম পছন্দ হলো উদ্দীপক ওষুধ (stimulants)। প্রায় ৮০% শিশু উপযুক্ত ওষুধ ও সঠিক মাত্রা পেলে ব্যাপক উন্নতি দেখায়। উদ্দীপক ওষুধ মস্তিষ্কে ডোপামিন ও নোরপাইনফ্রিনের ভারসাম্য ফিরিয়ে এনে মনোযোগ বাড়ায় এবং আবেগপ্রবণতা ও অতি-সক্রিয়তা হ্রাস করে।
    • স্কুল-বয়সী শিশুদের জন্য দীর্ঘ-সক্রিয়তা সম্পন্ন উদ্দীপক (long-acting stimulants) পছন্দ করা হয়, যা সারাদিনব্যাপী কাজ করে।
    • সাধারণ স্টিমুল্যান্ট ওষুধ:মিথাইলফেনিডেট (রিটালিন, কনসার্টা) এবং অ্যামফিটামিন-ভিত্তিক ওষুধ (অ্যাডেরাল, ভিভান্স)।
  • খ. নন-স্টিমুল্যান্ট ওষুধ (দ্বিতীয় সারির চিকিৎসা): স্টিমুল্যান্ট ওষুধ কাজ না করলে বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া গুরুতর হলে নন-স্টিমুল্যান্ট ওষুধ ব্যবহার করা হয়। এগুলো স্টিমুল্যান্টের মতো কার্যকর না হলেও কিছু ক্ষেত্রে সুবিধাজনক।
    • সাধারণ নন-স্টিমুল্যান্ট ওষুধ: অ্যাটোমক্সেটিন (স্ট্রাটেরা) ও গুয়ানফাসিন। অ্যাটোমক্সেটিন নোরপাইনফ্রিনের মাত্রা বাড়িয়ে প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্সের কার্যকারিতা উন্নত করে, যা মনোযোগ ও আবেগ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

ওষুধ প্রয়োগে সতর্কতা:

  • ওষুধ ঠিক সময়মতো, ডাক্তারের নির্ধারিত মাত্রায় খাওয়াতে হবে।
  • প্রথম কয়েক সপ্তাহ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার জন্য নিবিড় পর্যবেক্ষণ জরুরি (ক্ষুধামন্দা, অনিদ্রা, মাথাব্যথা)।
  • কোনো অবস্থাতেই হঠাৎ ওষুধ বন্ধ করা যাবে না।
  • হৃদরোগের ঝুঁকি থাকলে বা পারিবারিক ইতিহাস থাকলে ডাক্তার তা বিবেচনা করবেন।

৪. স্কুল-ভিত্তিক হস্তক্ষেপ (Intervention) ও সহায়তা (Support)

ADHD শিশুদের জন্য স্কুল একটি বড় চ্যালেঞ্জের জায়গা। সঠিক স্কুল-ভিত্তিক সহায়তা পেলে এই শিশুরা শিক্ষাগতভাবে অনেক দূর এগোতে পারে। শিক্ষক ও অভিভাবক মিলে নিচের কৌশলগুলো প্রয়োগ করতে পারেন:

  • স্ট্রাকচার্ড ক্লাসরুম পরিবেশ:স্পষ্ট নিয়ম, প্রতিদিন একই রকম সময়সূচি ও পূর্বাভাসযোগ্যতা ADHD শিশুকে নিরাপত্তা দেয়।
  • কাজ ছোট ছোট ভাগে করা:বড় অ্যাসাইনমেন্টগুলো ছোট ছোট ধাপে ভাগ করে দিন। একবারে একটি কাজ দিন।
  • শ্রেণিকক্ষে বসার জায়গা:জানালা বা দরজার পাশের বিভ্রান্তিকর স্থান এড়িয়ে শিক্ষকের কাছে বসানো ভালো।
  • ভিজুয়াল এইড প্রম্পট:রঙিন চার্ট, ডায়াগ্রাম, প্রতিদিনের ভিজুয়াল শিডিউল ব্যবহার করুন।
  • শারীরিক কার্যকলাপের সুযোগ:ক্লাস চলাকালীন ছোট ছোট বিরতিতে দাঁড়ানো, নড়াচড়া করার সুযোগ দিন। ফিজেট টুলস (চুইংগাম, স্ট্রেস বল) ব্যবহারের অনুমতি দিন।
  • ইতিবাচক শক্তিবৃদ্ধি:ভালো আচরণের সঙ্গে সঙ্গে নির্দিষ্ট প্রশংসা করুন।
  • নমনীয় মূল্যায়ন:প্রয়োজনে পরীক্ষায় বাড়তি সময় দিন, আলাদা শান্ত ঘরে বসার ব্যবস্থা করুন, মৌখিক পরীক্ষার সুযোগ রাখুন।
  • ইন্ডিভিজুয়ালাইজড এডুকেশন প্ল্যান (IEP):জটিল ক্ষেত্রে ৫০৪ প্ল্যান বা আইইপি-র মাধ্যমে আইনগত সহায়তা নেওয়া যেতে পারে。
  • শিক্ষকরাও ADHD নিয়ে প্রশিক্ষণ পেলে তারা আরও কার্যকর সহায়তা দিতে পারেন।

৫. জীবনযাত্রার পরিবর্তন ও ঘরোয়া কৌশল

ঔষধ ও থেরাপির পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনে কিছু ছোট পরিবর্তন ADHD লক্ষণ নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।

. রুটিন সংগঠন
    • প্রতিদিনের নির্দিষ্ট সময়সূচি:ঘুম, খাওয়া, পড়া ও খেলার জন্য নির্দিষ্ট সময় রাখুন। শিশুকে একটি ভিজুয়াল টাইমটেবিল দিন।
    • সংগঠনের সরঞ্জাম:রঙিন ফোল্ডার, চেকলিস্ট, অ্যালার্ম ঘড়ি, হোয়াইটবোর্ড ব্যবহার করে শিশুকে সংগঠিত হতে সাহায্য করুন।
    • প্রস্তুতি পরিকল্পনা:প্রতিদিন রাতে আগামী দিনের জামাকাপড়, ব্যাগ ইত্যাদি গুছিয়ে রাখতে সাহায্য করুন।
. ঘুম
    • পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম ADHD ব্যবস্থাপনায় অপরিহার্য। ঘুমের সমস্যা ADHD লক্ষণকে আরও বাড়িয়ে দেয়। প্রতি রাতে ৭-৯ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করুন। ঘুমানোর ১ ঘণ্টা আগে ইলেকট্রনিক স্ক্রিন বন্ধ করে দিন, একটি নির্দিষ্ট রুটিন তৈরি করুন (গল্প বলা, হালকা গান শোনা)।
. পুষ্টি খাদ্যাভ্যাস
    • সুষম খাদ্য ADHD লক্ষণ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। প্রোটিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও জটিল শর্করা মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ও মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে। খাবারের সময়সূচি ঠিক রাখুন, ফাস্টফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন।
. ব্যায়াম
    • নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম ADHD শিশুদের জন্য অত্যন্ত উপকারী। ব্যায়াম অতিরিক্ত শক্তি খরচ করতে সাহায্য করে, মেজাজ ভালো রাখে, ঘুমের মান উন্নত করে এবং ফোকাস বাড়ায়। প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০-৪০ মিনিট আউটডোর খেলাধুলা বা সাইকেল চালানোর সুযোগ দিন।

৬. সহ-অবস্থান (Comorbid Conditions) ব্যবস্থাপনা

ADHD প্রায়ই অন্যান্য মানসিক ব্যাধির সঙ্গে একসঙ্গে দেখা যায়, বিশেষ করে ওডিডি (বিপরীতমুখী প্রতিরোধ ব্যাধি) ও ডিপ্রেশন। ADHD ও ওডিডি একসঙ্গে থাকলে চিকিৎসায় অতিরিক্ত সতকতা দরকার। নিচের টেবিলটি সহ-অবস্থান ও তার ব্যবস্থাপনার সংক্ষিপ্ত চিত্র দিচ্ছে:

সারণী (Table)

এডিএইচডির (ADHD) সহ-অবস্থানজনিত সমস্যা সমন্বিত ব্যবস্থাপনা কৌশল (Co-occurring Conditions Intervention Management Strategies)

সহ-অবস্থান

ব্যবস্থাপনার কৌশল

ওডিডি

আচরণগত ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিতে হবে। প্রায়ই ওষুধ (স্টিমুল্যান্ট বা অ্যাটোমক্সেটিন) ও আচরণগত থেরাপির সমন্বয় কার্যকর। একাধিক সহ-অবস্থান থাকলে ওষুধ ও আচরণগত হস্তক্ষেপের সমন্বয় সবচেয়ে ভালো কাজ করে।

বিষণ্ণতা উদ্বেগ

প্রথমে ADHD লক্ষণ চিকিৎসা করা উচিত, কারণ প্রায়ই ADHD চিকিৎসার মাধ্যমেই সহ-অবস্থান লক্ষণ কমে যায়। থেরাপির লক্ষ্য ADHD-কেন্দ্রিক রাখা, পাশাপাশি ক্যালমিং রুটিন শেখানো।

সুতরাং, ADHD নির্ণয়ের সময়ই ওডিডি, উদ্বেগ ও ডিপ্রেশনের উপস্থিতি যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।

৭. দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনা ও পর্যবেক্ষণ

ADHD ব্যবস্থাপনা একটি চলমান প্রক্রিয়া। শিশু বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসার ধরন ও ওষুধের ডোজ পরিবর্তন হতে পারে।

) নিয়মিত ফলো-আপ:
    • প্রতি ৩-৬ মাস অন্তর শিশু মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যান।
    • ওষুধের কার্যকারিতা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মূল্যায়ন করান।
    • প্রয়োজনে ডোজ বা ওষুধ পরিবর্তন করুন।
    • স্কুলের রিপোর্ট সংগ্রহ করে ডাক্তারকে দেখান।
) ট্রানজিশন (বয়ঃসন্ধি কৈশোরকাল):
    • বয়ঃসন্ধিতে হরমোনের পরিবর্তনে ADHD লক্ষণ পরিবর্তিত হতে পারে।
    • কিশোরকে নিজের রোগ ও চিকিৎসা সম্বন্ধে শেখানো উচিত, যাতে সে নিজে নিজে ওষুধ খাওয়ার দায়িত্ব নিতে শেখে।
    • পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষা, গাড়িচালনা, চাকরি ইত্যাদি বিষয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা নিন।
) সাপোর্ট নেটওয়ার্ক:
    • স্থানীয় বা অনলাইন ADHD সাপোর্ট গ্রুপে যুক্ত হোন।
    • বিশেষ প্রয়োজনীয় শিশুদের জন্য তৈরি ওয়েবসাইট ও কমিউনিটি গ্রুপ থেকে তথ্য ও পরামর্শ নিন।
    • মনে রাখবেন, ADHD শিশু মানেই নেতিবাচক নয়—সঠিক নির্দেশনায় তারা সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী হতে পারে।

৮. বাংলাদেশ ও ভারতে ADHD ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা

বাংলাদেশ ও ভারতে ADHD সচেতনতা ও চিকিৎসাসেবার সুপ্রাপ্যতা এখনও উন্নতির অপেক্ষায় রাখে। তথাপি কিছু প্রতিষ্ঠান ও বিশেষজ্ঞ এগিয়ে আসছেন। শিশু বিকাশ কেন্দ্র (Shishu Bikash Kendro), পেডিয়াট্রিক নিউরোলজি বিভাগ এবং কিছু বেসরকারি মানসিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র এডিএইচডি শিশুদের সেবা দিয়ে থাকে।

আপনি যা করতে পারেন:

  • প্রথমে একজন ভালো শিশু নিউরোলজিস্ট বা শিশু সাইকিয়াট্রিস্ট খুঁজুন। পাবলিক হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজগুলোতে সাধারণত কম খরচে সেবা পাওয়া যায়।
  • স্কুল কর্তৃপক্ষকে শিশুর সমস্যা সম্পর্কে জানান। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বাড়াতে ভূমিকা রাখুন।
  • সমাজের ভুল ধারণা দূর করতে নিজের এলাকায় সচেতনতা গড়ে তুলুন।
  • খেয়াল রাখবেন, অনেক অভিভাবক সামাজিক লজ্জায় মানসিক রোগের চিকিৎসা বঞ্চিত হন। আপনার নিজের দ্বিধা কাটিয়ে এগিয়ে আসুন।

উপসংহার ও করণীয় (Conclusion & Way Forward)

ADHD কোনো চরিত্রগত দুর্বলতা নয়, কোনো ‘খারাপ অভ্যাস’ও নয়। এটি একটি বাস্তব স্নায়ুবিক আচরণগত অবস্থা, যা শিশুর মনোযোগ, আবেগ ও দৈনন্দিন কার্যকারিতাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, আমাদের সমাজে এখনও ADHD সম্পর্কে ভুল ধারণা প্রবল। ফলে শিশুরা সহানুভূতির বদলে বকুনি, অপমান ও প্রত্যাখ্যানের মুখোমুখি হয়।

এই বাস্তবতা বদলাতে হলে পরিবার, শিক্ষক ও স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। স্কুলে আচরণগত স্ক্রিনিং, অভিভাবক সচেতনতা কর্মসূচি এবং শিশু-কিশোর মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সহজপ্রাপ্যতা বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে শিশুদের ‘সমস্যা’ নয়, ‘সম্ভাবনা’ হিসেবে দেখার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

একটি ADHD শিশু হয়তো অন্যদের মতো স্থির নয়, কিন্তু সঠিক সহায়তা পেলে সেই শিশুই হতে পারে সৃজনশীল, উদ্ভাবনী ও ব্যতিক্রমী প্রতিভার অধিকারী। তাই সময় এসেছে শিশুদের চঞ্চলতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা নীরব সংকেতগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার।

শেষ কথা: প্রতিটি শিশুই সক্ষম, সময় দরকার

এডিএইচডি কোনো অভিশাপ নয়। সঠিক চিকিৎসা ও সহায়তায় এই শিশুরা কেবল স্বাভাবিকই হয় না, বরং তাদের অনন্য সৃজনশীলতা, উদ্যোগী মনোভাব ও উচ্চ শক্তির সদ্ব্যবহার করে তারা জীবনে উল্লেখযোগ্য সাফল্যও অর্জন করে। উইলিয়াম হোয়াকার, মাইকেল ফেলপস, সিমোন বাইলস—এরা প্রত্যেকেই ADHD-আক্রান্ত ছিলেন, কিন্তু সঠিক চিকিৎসা ও সমর্থনে তারা নিজেদের প্রতিভা বিকাশে সমর্থ হয়েছেন।

আপনার সন্তানও পারে। শুধু দরকার আপনার অফুরন্ত ভালোবাসা ও সঠিক দিকনির্দেশনা। চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, প্রয়োজনীয় থেরাপি ও ওষুধ শুরু করুন, স্কুলের সঙ্গে সমন্বয় গড়ে তুলুন—এবং দেখুন আপনার শিশু কীভাবে ধীরে ধীরে পথে ফিরে আসে। কারণ, প্রতিটি শিশুই ফিরে পেতে পারে উজ্জ্বল শৈশবের হাসি—শুধু সময়টুকু সঠিক দিতে জানতে হবে।

সতর্কীকরণ: 

এই প্রতিবেদনের তথ্য শুধুমাত্র সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে প্রদান করা হয়েছে। ADHD-সংক্রান্ত যেকোনো মূল্যায়ন, চিকিৎসা বা হস্তক্ষেপ গ্রহণের আগে অবশ্যই একজন নিবন্ধিত শিশু মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Child Psychiatrist) অথবা পেডিয়াট্রিক নিউরোলজিস্টের পরামর্শ নিন। এবং আপনি যদি একজন অভিভাবক হয়ে থাকেন, তবে নিচের চিঠিটি আপনার জন্য অত্যন্ত মূল্যবান। মনোযোগ দিয়ে পড়ুন, গভীরভাবে ভাবুন এবং সেই অনুযায়ী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।

একজন বিশেষ শিক্ষা অধ্যাপকের খোলা চিঠি

প্রিয় অভিভাবকবৃন্দ,

আপনাদের সন্তানের নামের পাশে যখন প্রথম “ADHD” শব্দটি যুক্ত হয়েছিল, তখন হয়তো আপনার মনে একসঙ্গে বহু অনুভূতি এসেছে—দুশ্চিন্তা, বিভ্রান্তি, ভয়, ক্লান্তি, এমনকি অপরাধবোধও। অনেকেই হয়তো আপনাদের বলেছেন, “ও খুব অমনোযোগী”, “কথা শোনে না”, “স্থির হতে পারে না”, কিংবা “অন্য বাচ্চাদের মতো নয়।” আমি আজ আপনাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলতে চাই—আপনার সন্তান ভাঙা নয়, অসম্পূর্ণ নয়, কিংবা ব্যর্থ হওয়ার জন্য জন্মায়নি। তার মস্তিষ্ক শুধু পৃথিবীকে একটু ভিন্নভাবে দেখে, অনুভব করে এবং প্রতিক্রিয়া জানায়।

বিশ্বখ্যাত মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ড. নেড হলোওয়েল ADHD মস্তিষ্ককে “Ferrari engine with bicycle brakes” বলে বর্ণনা করেছেন। অর্থাৎ, আপনার সন্তানের মস্তিষ্কে শক্তি, কল্পনা, আবেগ এবং সম্ভাবনার গতি অত্যন্ত প্রবল। সমস্যা তার ক্ষমতায় নয়; বরং সেই ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করার দক্ষতায়। আমরা প্রায়ই শিশুর আচরণ দেখি, কিন্তু তার ভেতরের সংগ্রাম দেখি না। সে হয়তো চেষ্টা করছে মনোযোগ ধরে রাখতে, কিন্তু তার মস্তিষ্ক বারবার নতুন উদ্দীপনার দিকে ছুটে যাচ্ছে। সে হয়তো ভুলে যায়, মাঝপথে থেমে যায়, আবেগে বিস্ফোরিত হয়—কিন্তু এর মানে এই নয় যে সে ইচ্ছাকৃতভাবে অবাধ্য।

আমি বহু বছর ধরে ADHD শিশুদের সঙ্গে কাজ করেছি। আমি দেখেছি, এই শিশুরা প্রায়ই অত্যন্ত সৃজনশীল, গভীর অনুভূতিশীল, কৌতূহলী এবং উদ্ভাবনী হয়। তারা এমন প্রশ্ন করে, যা অন্যরা ভাবেও না। তারা কখনও কখনও নিয়মের বাইরে গিয়ে চিন্তা করে, আর সেই কারণেই ভবিষ্যতের শিল্পী, উদ্ভাবক, উদ্যোক্তা কিংবা মানবিক নেতা হওয়ার সম্ভাবনা তাদের মধ্যে প্রবল থাকে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সমাজ তাদের শক্তির আগে তাদের দুর্বলতাকেই বেশি দেখে।

প্রিয় বাবা-মা,

আপনার সন্তানের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ নয়—নিরাপদ গ্রহণযোগ্যতা। সে এমন একটি জায়গা চায়, যেখানে তাকে বারবার “ভুল” বলা হবে না; বরং বোঝা হবে। মনে রাখবেন, প্রতিদিন যখন একটি শিশু স্কুলে, পরিবারে কিংবা সমাজে বারবার নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পায়, তখন তার আত্মসম্মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে সে বিশ্বাস করতে শুরু করে যে সে “খারাপ”, “অযোগ্য” বা “অক্ষম”। অথচ বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন।

আপনাদের কাছে আমার অনুরোধ—আপনার সন্তানের আচরণের পেছনের বার্তাটি বোঝার চেষ্টা করুন। যখন সে অস্থির হয়, তখন হয়তো সে overwhelmed। যখন সে কাজ শেষ করতে পারে না, তখন হয়তো তার মস্তিষ্ক সংগঠনের লড়াইয়ে ব্যস্ত। যখন সে আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠে, তখন হয়তো সে নিজেই নিজের অনুভূতির ভেতরে ডুবে যাচ্ছে। শাসনের আগে সংযোগ তৈরি করুন। সংশোধনের আগে শুনুন। কারণ একটি ADHD শিশু প্রথমে বোঝা যেতে চায়, তারপর শেখানো যেতে চায়।

তুলনা করবেন না। অন্যরা পারে, তুমি পারো না কেন?”—এই বাক্য একটি শিশুর মনে গভীর ক্ষত তৈরি করতে পারে। প্রতিটি ADHD শিশু আলাদা। কেউ শিল্পে উজ্জ্বল, কেউ প্রযুক্তিতে, কেউ গল্পে, কেউ নেতৃত্বে। মাছকে গাছে উঠতে বললে সে নিজেকে ব্যর্থ ভাববেই। তাই সন্তানের শক্তির জায়গা খুঁজে বের করুন এবং সেটিকে লালন করুন।

এটাও মনে রাখবেন, ADHD শিশুকে বড় করা সহজ নয়। অনেক দিন আপনি ক্লান্ত হয়ে পড়বেন, বিরক্ত হবেন, হয়তো নিজেকেও ব্যর্থ মনে হবে। কিন্তু বিশ্বাস করুন, আপনার ধৈর্য, ভালোবাসা এবং গ্রহণযোগ্যতা তার জীবনের সবচেয়ে বড় সুরক্ষা। গবেষণা আমাদের বারবার দেখিয়েছে—একজন সহানুভূতিশীল ও সমর্থনকারী অভিভাবক একটি ADHD শিশুর ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারেন।

আপনার সন্তানকে শুধুমাত্র “মনোযোগের সমস্যা” হিসেবে দেখবেন না। তার ভেতরে হয়তো এমন এক আলো রয়েছে, যা এখনো পুরোপুরি প্রকাশ পায়নি। আপনার কাজ সেই আলো নিভিয়ে দেওয়া নয়, বরং তাকে এমন পরিবেশ দেওয়া, যেখানে সে নিরাপদে জ্বলে উঠতে পারে।

প্রিয় জনক-জননী,

আপনার সন্তান যদি এডিএইচডি (ADHD) নিয়ে জন্মে থাকে, তবে তাকে কখনোই বোঝা হিসেবে ভাববেন না। তাকে সৃষ্টিকর্তার এক অনন্য ও অপরূপ উপহার হিসেবে গ্রহণ করুন। মনে রাখবেন, যে সন্তানকে আল্লাহ/সৃষ্টিকর্তা আপনাকে দিয়েছেন, আপনাকেই তিনি এই দায়িত্বের জন্য যোগ্য মনে করেছেন। সবাই সেই ধৈর্য, মমতা ও সামর্থ্যের অধিকারী হয় না।

এডিএইচডি কোনো অভিশাপ নয়; বরং এটি ভিন্নধর্মী চিন্তা, অনুভব ও সম্ভাবনার একটি জগৎ। এই শিশুরা অনেক সময় বেশি কৌতূহলী, সৃজনশীল, উদ্যমী, কল্পনাপ্রবণ এবং ব্যতিক্রমীভাবে চিন্তা করতে সক্ষম হয়। সঠিক দিকনির্দেশনা, ভালোবাসা, সচেতনতা, ইতিবাচক ব্যবস্থাপনা এবং সামান্য অতিরিক্ত মনোযোগ পেলে তারা শুধু নিজের জীবনই নয়, একটি পরিবার, সমাজ, এমনকি একটি দেশ বা জাতির ভবিষ্যৎও বদলে দিতে পারে।

ইতিহাসে বহু বিজ্ঞানী, উদ্ভাবক, শিল্পী, উদ্যোক্তা ও নেতৃত্বগুণসম্পন্ন মানুষের মধ্যেও ADHD-এর বৈশিষ্ট্য দেখা গেছে। কারণ তাদের মস্তিষ্ক অনেক সময় প্রচলিত নিয়মের বাইরে গিয়ে নতুনভাবে চিন্তা করতে পারে। তাই আপনার সন্তানের ভিন্নতাকে ভয় পাবেন না; বরং বুঝতে শিখুন, গ্রহণ করুন এবং তার শক্তিগুলো আবিষ্কার করুন।

আপনার সন্তানের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন নিখুঁত মানুষ হওয়া নয়; প্রয়োজন একজন ধৈর্যশীল, সচেতন ও ভালোবাসাপূর্ণ অভিভাবক পাওয়া। আপনার সামান্য সচেতনতা, সময়, ইতিবাচক আচরণ, রুটিন ম্যানেজমেন্ট এবং সহযোগিতামূলক মনোভাবই তার জীবনে বিশাল পরিবর্তন আনতে পারে।

আজ যে শিশুকে অনেকে “অতিরিক্ত চঞ্চল” বা “মনোযোগহীন” বলে আখ্যা দেয়, সঠিক পরিচর্যা ও সুযোগ পেলে সেই শিশুই আগামী দিনের উদ্ভাবক, গবেষক, শিল্পী, নেতা কিংবা পরিবর্তনের কারিগর হতে পারে।

প্রিয় প্রিন্সিপাল কেয়ার গিভার,

মনে রাখবেন, এডিএইচডি-র চিকিৎসার কৌশল বলতেই শুধু ওষুধ নয়, প্রয়োজন বহুমুখী পদ্ধতি। এডিএইচডি-র চিকিৎসায় সবচেয়ে কার্যকরী ও প্রথম সারির ওষুধ হলো উদ্দীপক (stimulants), যেমন মিথাইলফেনিডেট (Ritalin) ও অ্যামফিটামিন লবণ। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৭০–৮০% শিশু এই ওষুধে উন্নতি প্রদর্শন করে। সবচেয়ে সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো ক্ষুধামন্দা ও অনিদ্রা। যেসব শিশুর হার্টের জটিলতা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন; তবে সাধারণ শিশুদের জন্য নিয়মিত ইসিজি বাধ্যতামূলক নয়।

যদি উদ্দীপক ওষুধ কার্যকর না হয় বা শিশু সহ্য করতে না পারে, তবে বিকল্প হিসেবে অ্যাটোমক্সেটিন (Strattera) বা বুপ্রোপিয়ন ব্যবহার করা হয়। এগুলো মূলত অমনোযোগিতা কমাতে সাহায্য করে, তবে অতিসক্রিয়তা ও আবেগপ্রবণতা নিয়ন্ত্রণে উদ্দীপকের মতো শক্তিশালী নয়। ছোট শিশুদের আগ্রাসন বা অতিরিক্ত উত্তেজনা কমাতে আলফা-২ অ্যাগোনিস্ট, যেমন গুয়ানফাসিন, কার্যকর হতে পারে। অনেক সময় একাধিক ওষুধ সমন্বয় করে ব্যবহার করা হয়—যেমন উদ্দীপকের সঙ্গে আলফা অ্যাগোনিস্ট—যা অনেক শিশুর ক্ষেত্রে ভালো ফল দেয় এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও তুলনামূলক কম হয়।

প্রিয় ধৈর্যশীল শিক্ষক,

এডিএইচডি আক্রান্ত শিশুদের প্রায় অর্ধেকেরই অন্য আরও একটি বা একাধিক মানসিক বা আচরণগত সমস্যা থাকতে পারে। যেমন অনেকের ক্ষেত্রে ওডিডি (Oppositional Defiant Disorder), উদ্বেগজনিত সমস্যা, বিষণ্ণতা, মুড ডিসঅর্ডার বা টিক ডিসঅর্ডার একসঙ্গে দেখা যায়।

চিকিৎসার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—কোন সমস্যাটি সবচেয়ে গুরুতর, সেটি আগে চিহ্নিত করা। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো শিশুর বাইপোলার ডিসঅর্ডার থাকে, তবে আগে মুড স্থিতিশীল করার চিকিৎসা দিতে হয়; কারণ শুরুতেই উদ্দীপক ওষুধ দিলে ম্যানিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। আবার বড় ধরনের বিষণ্ণতার ক্ষেত্রে বুপ্রোপিয়ন বা এসএসআরআই জাতীয় ওষুধ ব্যবহারের পর ADHD-এর চিকিৎসা সমন্বয় করা হয়।

যেসব শিশুর পরিবারে বা ব্যক্তিগতভাবে মাদকাসক্তির ইতিহাস আছে, তাদের জন্য অ্যাটোমক্সেটিন বা আলফা অ্যাগোনিস্ট তুলনামূলক নিরাপদ বিবেচিত হয়। টিক ডিসঅর্ডার থাকলে আলফা অ্যাগোনিস্ট বা অ্যাটোমক্সেটিন অনেক সময় ভালো কাজ করে এবং টিক বাড়ানোর ঝুঁকিও কম থাকে।

প্রিয় যত্নকারী,

আপনাদের বুঝতে হবে, শুধু ওষুধই ADHD-এর একমাত্র সমাধান নয়। ওষুধের পাশাপাশি খাবার ও আচরণগত থেরাপি প্রয়োজন। গবেষণায় দেখা গেছে, খাদ্যতালিকা থেকে কৃত্রিম খাদ্য রং (artificial food coloring) এবং সোডিয়াম বেনজোয়েট জাতীয় প্রিজারভেটিভ কমিয়ে দিলে কিছু শিশুর উপসর্গ হ্রাস পেতে পারে। যদিও কোনো ভেষজ চিকিৎসা এখনো নিশ্চিতভাবে কার্যকর প্রমাণিত হয়নি, তবে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড (মাছের তেল) ওষুধের পরিপূরক হিসেবে কিছু উপকার করতে পারে।

আচরণগত থেরাপির মধ্যে অভিভাবক হিসেবে আপনাদের প্রশিক্ষণ সবচেয়ে কার্যকর ও গবেষণাভিত্তিক পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত। ‘Positive Parenting Program (Triple P)’ এবং ‘The Incredible Years’ পদ্ধতি বাবা-মা হিসেবে আপনাদেরকে শেখাবে কীভাবে সন্তানের ইতিবাচক আচরণকে উৎসাহিত করতে হয়, স্পষ্ট সীমারেখা নির্ধারণ করতে হয় এবং শাস্তি বা ভয়ভীতি ছাড়াই শৃঙ্খলা গড়ে তুলতে হয়।

স্কুলেও কিছু বিশেষ সহায়তা অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে। যেমন—

  • কাজকে ছোট ছোট ধাপে ভাগ করা
  • Peer tutoring
  • Computer-assisted learning
  • অতিরিক্ত সময় দেওয়া
  • ক্লাসরুমে কম বিভ্রান্তিকর পরিবেশ তৈরি করা
  • অনেক শিশু “Individualized Education Plan (IEP)” বা বিশেষ সহায়ক শিক্ষা পরিকল্পনার আওতায় অতিরিক্ত সুবিধাও পেতে পারে।

প্রিয় পর্যবেক্ষণকারী,

আপনাদের দুষ্টুমি আর সমস্যার মধ্যে পার্থক্য জানা জরুরি।

যে শিশু অস্থির, সহজে মনোযোগ হারায় বা বড়দের কথা সবসময় অনুসরণ করতে পারে না—তার মানে এই নয় যে সে “খারাপ”, “অসভ্য” বা “দুষ্টু”। হতে পারে তার মস্তিষ্কের নির্বাহী কার্যকারিতায় (executive function) বাস্তবেই কিছু ভিন্নতা রয়েছে।

চিকিৎসাবিজ্ঞান অনেক এগিয়েছে। আধুনিক মূল্যায়ন পদ্ধতি ও বহুমুখী চিকিৎসার মাধ্যমে ADHD আক্রান্ত অধিকাংশ শিশুই স্বাভাবিক, সফল ও অর্থবহ জীবনযাপন করতে পারে। তবে এর জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন—সচেতন পরিবার, সহানুভূতিশীল শিক্ষক এবং সময়মতো সঠিক মূল্যায়ন।

যদি আপনার সন্তানের আচরণ অন্য শিশুদের তুলনায় দীর্ঘদিন ধরে ভিন্ন মনে হয়, যদি সেই আচরণ কমপক্ষে ছয় মাস ধরে বাড়ি ও স্কুল—উভয় জায়গায় দেখা যায় এবং তার পড়াশোনা, সম্পর্ক বা সামাজিক জীবনে প্রভাব ফেলে, তবে দেরি না করে একজন শিশু মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা পেডিয়াট্রিক নিউরোলজিস্টের পরামর্শ নিন।

প্রিয় পিতা-মাতা,

আপনার সন্তান যদি এডিএইচডি (ADHD) নিয়ে জন্মে থাকে, তবে তাকে কখনোই বোঝা হিসেবে ভাববেন না। তাকে সৃষ্টিকর্তার এক অনন্য ও অপরূপ উপহার হিসেবে গ্রহণ করুন। মনে রাখবেন, যে সন্তানকে আল্লাহ/সৃষ্টিকর্তা আপনাকে দিয়েছেন, আপনাকেই তিনি এই দায়িত্বের জন্য যোগ্য মনে করেছেন। সবাই সেই ধৈর্য, মমতা ও সামর্থ্যের অধিকারী হয় না।

এডিএইচডি কোনো অভিশাপ নয়; বরং এটি ভিন্নধর্মী চিন্তা, অনুভব ও সম্ভাবনার একটি জগৎ। এই শিশুরা অনেক সময় বেশি কৌতূহলী, সৃজনশীল, উদ্যমী, কল্পনাপ্রবণ এবং ব্যতিক্রমীভাবে চিন্তা করতে সক্ষম হয়। সঠিক দিকনির্দেশনা, ভালোবাসা, সচেতনতা, ইতিবাচক ব্যবস্থাপনা এবং সামান্য অতিরিক্ত মনোযোগ পেলে তারা শুধু নিজের জীবনই নয়, একটি পরিবার, সমাজ, এমনকি একটি দেশ বা জাতির ভবিষ্যৎও বদলে দিতে পারে।

ইতিহাসে বহু বিজ্ঞানী, উদ্ভাবক, শিল্পী, উদ্যোক্তা ও নেতৃত্বগুণসম্পন্ন মানুষের মধ্যেও ADHD-এর বৈশিষ্ট্য দেখা গেছে। কারণ তাদের মস্তিষ্ক অনেক সময় প্রচলিত নিয়মের বাইরে গিয়ে নতুনভাবে চিন্তা করতে পারে। তাই আপনার সন্তানের ভিন্নতাকে ভয় পাবেন না; বরং বুঝতে শিখুন, গ্রহণ করুন এবং তার শক্তিগুলো আবিষ্কার করুন।

আপনার সন্তানের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন নিখুঁত মানুষ হওয়া নয়; প্রয়োজন একজন ধৈর্যশীল, সচেতন ও ভালোবাসাপূর্ণ অভিভাবক পাওয়া। আপনার সামান্য সচেতনতা, সময়, ইতিবাচক আচরণ, রুটিন ম্যানেজমেন্ট এবং সহযোগিতামূলক মনোভাবই তার জীবনে বিশাল পরিবর্তন আনতে পারে।

আজ যে শিশুকে অনেকে “অতিরিক্ত চঞ্চল” বা “মনোযোগহীন” বলে আখ্যা দেয়, সঠিক পরিচর্যা ও সুযোগ পেলে সেই শিশুই আগামী দিনের উদ্ভাবক, গবেষক, শিল্পী, নেতা কিংবা পরিবর্তনের কারিগর হতে পারে।

তাই হতাশ হবেন না। তুলনা করবেন না। লজ্জা পাবেন না।

ভালোবাসুন, বুঝুন, পাশে থাকুন।

কারণ আপনার সন্তান “সমস্যা” নয়—সে এক সম্ভাবনার নাম।

চূড়ান্ত উপদেশনা

প্রিয় অভিভাবক,

আপনার সন্তান যদি সহজেই বিভ্রান্ত হয়, কিন্তু পছন্দের কাজে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মন দিতে পারে—যেমন গেম খেলা, অঙ্কন করা, গল্প তৈরি করা কিংবা কোনো বিশেষ বিষয়ে গভীর আগ্রহ দেখানো—তবে ADHD হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। কারণ ADHD মানে “কোনো কিছুতেই মনোযোগ নেই” নয়; বরং এটি মূলত “মনোযোগ নিয়ন্ত্রণের” একটি ভিন্নধর্মী স্নায়বিক বৈশিষ্ট্য। যে কাজ শিশুর মস্তিষ্ককে আগ্রহী করে, সেখানে সে অসাধারণ মনোযোগ দেখাতে পারে।

তাই শিশুটিকে শুধু একটি “লেবেল” দিয়ে বিচার করবেন না; তার সম্ভাবনার খোঁজ করুন। ADHD নিয়ে সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হলো—এই শিশুরা নিজেরাই বুঝতে পারে যে তারা অন্যদের মতো সহজে মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না, কিন্তু কেন পারে না তা জানে না। ফলে তারা ধীরে ধীরে নিজের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করে এবং সমাজের দেওয়া “অলস”, “অমনোযোগী” কিংবা “বোকা” তকমাগুলো সত্য বলে বিশ্বাস করতে শুরু করে। এই বিশ্বাস তাদের আত্মবিশ্বাসকে নীরবে ভেঙে দেয়।

মনে রাখবেন, সঠিক হস্তক্ষেপ, বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা, শিক্ষাগত সহায়তা এবং পরিবারগত সমর্থনের মাধ্যমে ADHD শিশুরা শুধু “স্বাভাবিক” জীবনই যাপন করে না; বরং তারা প্রায়শই অসাধারণ সৃজনশীল, উদ্ভাবনী এবং উদ্যোক্তা গুণের অধিকারী হয়ে ওঠে। পৃথিবীর বহু সফল শিল্পী, বিজ্ঞানী, উদ্ভাবক ও উদ্যোক্তার জীবনে ADHD-এর বৈশিষ্ট্য খুঁজে পাওয়া যায়। তাই সময়মতো চিহ্নিত করুন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা শুরু করুন, এবং দেখুন আপনার শিশু কীভাবে নিজের সম্ভাবনার ডানা মেলে উড়তে শেখে।

অতএব হতাশ না হয়ে আশাবাদী হোন। শিশুর উপর বিরক্ত না হয়ে তার বন্ধু হয়ে উঠুন। তার পাশে দাঁড়ান, তাকে বুঝুন, তার আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে সাহায্য করুন। মনে রাখবেন, সঠিক সময়ে নেওয়া একটি সঠিক পদক্ষেপ শুধু একটি শিশুর জীবনই বদলে দিতে পারে না—হয়তো ভবিষ্যতে সমগ্র মানবজাতির জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ারও খুলে দিতে পারে।

একদিন হয়তো আপনার এই অস্থির, কৌতূহলী, প্রশ্নবাজ শিশুটিই পৃথিবীকে নতুনভাবে ভাবতে শেখাবে।

ভালোবাসা ও গভীর শ্রদ্ধাসহ,

একজন বিশেষ শিক্ষা অধ্যাপকের শুভ কামনা

. মাহবু লিটু, পিএইচডি (ইউনিভার্সিটি অফ ক্যান্টারবেরি, নিউজিল্যান্ড)
অধ্যাপক প্রাক্তন চেয়ারম্যান
বিশেষ শিক্ষা বিভাগ
এবং
প্রতিষ্ঠাতা সমন্বয়কারী
প্রতিবন্ধিতা, অটিজম ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা বিষয়ক উচ্চতর কোর্স (ACDAIE)
শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইআর)
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
এবং
সভাপতি
বাংলাদেশ ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স ফর ডিজএ্যাবিলিটি প্রফেশনালস (BNADP)
এবং
উপদেষ্টা সম্পাদক, অধিকারপত্র

 

#শিশুমানসিকস্বাস্থ্য   #ADHD   #ওডিডি   #শৈশববিষণ্ণতা   #এমডিডি   #ডিএসএম৫   #শিশুআচরণগতব্যাধি   #অভিভাবকগাইড   #মনোযোগেরঅভাব   #অতিসক্রিয়তা   #শিশু মনোরোগ   #মানসিকস্বাস্থ্যসচেতনতা   #দুষ্টুমিনয়রোগ  #বাংলায়মানসিকস্বাস্থ্য  #ChildMentalHealth   #ADHD   #ODD   #MDD   #DisruptiveBehavior   #DSM5   #ParentingTips   #ChildPsychiatry   #BanglaFeature   #MentalHealthAwareness   #SchoolMentalHealth   #BehavioralDisorders   #ADHDmanagement   #শিশুমন_বাংলা   #ADHD_Bangla   #ParentingInBangla   #MentalHealthForChildren 

 



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: