আন্তর্জাতিক ডেস্ক | অধিকার পত্র ডটকম
দীর্ঘদিনের কঠোর ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের পর ইরানে ধীরে ধীরে কিছু আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট সংযোগ পুনরায় চালু করা হয়েছে। তবে দেশটির অধিকাংশ নাগরিক এখনো পূর্ণাঙ্গ ও উন্মুক্ত ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছেন না। বিভিন্ন পর্যবেক্ষক সংস্থা ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইন্টারনেট ট্রাফিক কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও বহু ওয়েবসাইট, অ্যাপ ও যোগাযোগ প্রোটোকলের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের প্রেসিডেন্ট Masoud Pezeshkian আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট পুনরায় চালুর নির্দেশ দিলেও বাস্তবে সংযোগ পুনঃস্থাপনের প্রক্রিয়া ধীরগতিতে এগোচ্ছে। দেশটির কিছু ডাটা সেন্টার ও নেটওয়ার্ক অবকাঠামো এখনো সম্পূর্ণভাবে অনলাইনে ফিরতে পারেনি। পাশাপাশি অনেক ইন্টারনেট সেবা কেবল অনুমোদিত বা ‘হোয়াইটলিস্টেড’ ব্যবহারকারীদের জন্য সীমিত রাখা হয়েছে।
নেটওয়ার্ক পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ইন্টারনেট ট্রাফিক আগের তুলনায় বাড়লেও তা এখনো স্বাভাবিক অবস্থার অনেক নিচে রয়েছে। কিছু বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ট্রাফিক পূর্বের স্বাভাবিক মাত্রার ৪০ থেকে ৫০ শতাংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। রাজধানী তেহরান এলাকায় সংযোগ পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো হলেও দেশের অন্যান্য অঞ্চলে সীমাবদ্ধতা বেশি দেখা যাচ্ছে।
এদিকে সাধারণ ব্যবহারকারীরা জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভিডিও প্ল্যাটফর্ম এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সেবায় প্রবেশ এখনো কঠিন। অনেক ক্ষেত্রেই ভিপিএন ব্যবহার ছাড়া এসব সেবা ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম ও অন্যান্য জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মের ওপর আগের মতোই নিয়ন্ত্রণ বজায় রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সরকার পুরোপুরি উন্মুক্ত ইন্টারনেট ফিরিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে ধাপে ধাপে নিয়ন্ত্রিত সংযোগ ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে। এর ফলে সরকারি প্রতিষ্ঠান, বিশেষ পেশাজীবী গোষ্ঠী এবং অনুমোদিত ব্যবহারকারীরা তুলনামূলক বেশি সুবিধা পেলেও সাধারণ জনগণের জন্য সীমাবদ্ধতা বহাল থাকতে পারে।
ইরান ইন্টারনেট ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট মাসুদ পেজেশকিয়ান হোয়াইটলিস্ট ইন্টারনেট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষেধাজ্ঞা মধ্যপ্রাচ্য প্রযুক্তি সংবাদ।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: