odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Saturday, 13th June 2026, ১৩th June ২০২৬
লোহার শাবল, টিউবওয়েলের হাতল ও বাঁশ ছিল প্রধান অস্ত্র; নওগাঁ, দিনাজপুর ও জয়পুরহাটে ছড়িয়েছিল আতঙ্ক

সাইকো কিলার’ মোর্শেদ গ্রেপ্তার, অন্তত ১৭-১৮ নারীর ওপর হামলার স্বীকারোক্তি

odhikarpatra | প্রকাশিত: ১১ June ২০২৬ ১৯:২৮

odhikarpatra
প্রকাশিত: ১১ June ২০২৬ ১৯:২৮

প্রকাশের তারিখ: ১১ জুন ২০২৬  অধিকারপত্র ডটকম নিজস্ব প্রতিবেদক ;

নওগাঁ, ১১ জুন : দীর্ঘদিন ধরে নওগাঁ, দিনাজপুর ও জয়পুরহাট অঞ্চলে একের পর এক নারীর ওপর নৃশংস হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত কথিত ‘সাইকো কিলার’ গোলাম মোর্শেদ ওরফে মোর্শেদ আলমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় গাজীপুর থেকে তাকে আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, বুধবার ভোরে গাজীপুর মহানগরের বাসন থানার শরীফপুর কোনাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোর্শেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার বাসিন্দা।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোর্শেদ নওগাঁ, দিনাজপুর ও জয়পুরহাটে অন্তত ১৭ থেকে ১৮ জন নারীর ওপর হামলার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এসব হামলায় আহতদের মধ্যে অন্তত তিনজন পরবর্তীতে মারা যান।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মোর্শেদের হামলার ধরন ছিল একই ধরনের এবং অত্যন্ত ভয়ংকর। গভীর রাতে তিনি একাকী বা নারীপ্রধান বাড়িগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাতেন। এরপর দেয়াল টপকে অথবা জানালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে ঘুমন্ত নারীদের মাথা ও কপালে লোহার শাবল, টিউবওয়েলের হাতল কিংবা বাঁশ দিয়ে আঘাত করতেন।

গত ১৮ জানুয়ারি ধামইরহাট উপজেলার কয়েকটি গ্রামে হামলার ঘটনায় কলেজছাত্রী উম্মে হাবিবা গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এছাড়া ফেব্রুয়ারি, মে ও জুন মাসে জেলার বিভিন্ন এলাকায় একই কায়দায় একাধিক হামলার ঘটনা ঘটে।

একের পর এক হামলার ঘটনায় নওগাঁজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে জেলা পুলিশ বিশেষ তদন্ত টিম গঠন করে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জয়ব্রত পালের নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও সাইবার ইউনিট ঘটনাগুলোর বিশ্লেষণ শুরু করে।

পুলিশ জানায়, জয়পুরহাট ও দিনাজপুরের একই ধরনের অপরাধের তথ্য সংগ্রহ করে প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও এআই-ভিত্তিক অনুসন্ধানের মাধ্যমে অভিযুক্তের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

গ্রেপ্তারের পর মোর্শেদকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি কয়েকটি হামলার দায় স্বীকার করেন। পরে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। বর্তমানে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, বৈজ্ঞানিক তদন্ত ও তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে এই আন্তঃজেলা সিরিয়াল অপরাধীর পরিচয় উদ্ঘাটন করা হয়েছে। নওগাঁর পাশাপাশি দিনাজপুর ও জয়পুরহাটের বিভিন্ন মামলায়ও তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি বলেন, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এ ধরনের জঘন্য অপরাধ দমনে পুলিশ সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

বর্তমানে নওগাঁ জেলায় এ-সংক্রান্ত একাধিক হত্যা ও হামলার মামলা চলমান রয়েছে। অন্যান্য জেলার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে পরবর্তী আইনি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: