নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্রর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানকে দিল্লি বিমানবন্দরে আটকে রাখার ঘটনায় ভারতের দেওয়া ব্যাখ্যাকে সন্তোষজনক নয় বলে প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে পুরো ঘটনাটিকে অনভিপ্রেত, দুর্ভাগ্যজনক ও দুঃখজনক বলে অভিহিত করেছে ঢাকা। আজ বুধবার (২৪ জুন) ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালের সাম্প্রতিক মন্তব্যের জবাবে বাংলাদেশের এই আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানান।
কূটনৈতিক চ্যানেলকে অবজ্ঞা, দিল্লির ব্যাখ্যায় অসন্তোষ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কমিটির ২৮তম বৈঠকে ডা. জাহেদ উর রহমান যে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন, সে বিষয়ে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে আগেই যথাযথভাবে জানানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও দিল্লি বিমানবন্দরে তাঁকে নিয়ে যে ঘটনা ঘটেছে, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার (২৩ জুন) নয়াদিল্লিতে এক ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল দাবি করেছিলেন, ডা. জাহেদ সার্ক ভিসায় ব্যক্তিগত পাসপোর্ট নিয়ে ভারতে গিয়েছিলেন। বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং ভ্রমণের উদ্দেশ্য নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি স্বেচ্ছায় ঢাকায় ফিরে যান। ভারতের এই দাবি নাকচ করে দিয়ে ঢাকা স্পষ্ট জানিয়েছে, পূর্ব তথ্য থাকার পরও বাংলাদেশের একজন শীর্ষ সরকারি উপদেষ্টাকে বিমানবন্দরে এভাবে হেনস্তা করা এবং পরবর্তীতে ভারতের দেওয়া ব্যাখ্যা কোনোভাবেই সন্তোষজনক নয়।
বিমানবন্দরে আসলে কী ঘটেছিল?
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও পূর্ববর্তী প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি মাসের ১৪ জুন সন্ধ্যায় আইওআরএ-র দুই দিনের বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। কিন্তু বিমানবন্দরে নামার পর ভারতের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাঁকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা বসিয়ে রাখে এবং ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে দীর্ঘক্ষণ টালবাহানা করে।
এই চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখার তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান তাঁর সরকারি সফর বাতিল করেন। তিনি দিল্লিতে প্রবেশ না করে ইমিগ্রেশন থেকেই শ্রীলঙ্কার কলম্বো হয়ে ১৫ জুন ঢাকায় ফিরে আসেন। এই ঘটনার পরদিনই (১৫ জুন) ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাই কমিশনার পবন বাধেকে তলব করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিল বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
সংখ্যালঘুদের বিষয়ে ভারতের মন্তব্যের কড়া জবাব
এদিকে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক এক মন্তব্যেরও কড়া জবাব দিয়েছে ঢাকা।
এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে প্রতিটি রাষ্ট্রেরই তার নিজ নিজ ভূখণ্ডে বসবাসরত সংখ্যালঘুসহ সব নাগরিকের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সমান দায়িত্ব রয়েছে। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ দেশের সব নাগরিকের অধিকার রক্ষা এবং পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ও সচেষ্ট রয়েছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পূর্ব ঘোষণা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে দিল্লির বিমানবন্দরে আটকে দেওয়ার এই ঘটনা এবং পরবর্তীতে ভারতের দায়সারা ব্যাখ্যা দুই দেশের বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি করল।
--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: