নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্রর
দেশের বিভিন্ন স্থানে বাউল, ফকির, সন্ন্যাসী এবং মাজার ও খানকায় চলমান সহিংসতা, নির্যাতন ও অবমাননাকর আচরণের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে হাইকোর্ট বিভাগ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে, ভুক্তভোগীদের সাংবিধানিক সুরক্ষা কেন নিশ্চিত করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।
গত ২১ জুন বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। আজ শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া।
আদালতের নির্দেশনা
আদালত পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার এবং পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের প্রতি তদন্ত পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন। আদেশের অনুলিপি পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে বাউল, ফকির, সন্ন্যাসী এবং মাজার ও খানকায় হওয়া সব হামলার অভিযোগ তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে।
রুল জারি
পাশাপাশি আদালত একটি রুল জারি করেছেন। রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে:
বাউল, ফকির ও সন্ন্যাসীদের সাংবিধানিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না?
তাদের ওপর নির্যাতন, অবমাননা ও হয়রানি বন্ধে এবং দোষী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না?
স্বরাষ্ট্রসচিব, ধর্মসচিব, সংস্কৃতিসচিব, আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
রিটের প্রেক্ষাপট
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক শৃঙ্খলা ও ধর্মীয় সংস্কারের নামে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাউল, ফকির ও সুফি সাধকদের ওপর নিষ্ঠুর ও অমানবিক নির্যাতনের ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে বাউলদের জোরপূর্বক চুল ও জটা কেটে দেওয়া, একতারা ভাঙা এবং আখড়ায় হামলাসহ নানাভাবে তাদের মানবসত্তাকে অবমাননা করার অভিযোগ উঠেছে।
এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে নারীপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য শিরীন পারভীন হক, অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, অধ্যাপক আমেনা মুহসিন, লেখক ও গবেষক আলতাফ পারভেজসহ ২৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও সচেতন নাগরিকের পক্ষে হাইকোর্টে এই রিট দায়ের করা হয়।
রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, "বাউল ও ফকিরদের ওপর হামলা শুধু তাদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা নয়, বরং এটি তাদের মানবাধিকার ও সাংবিধানিক মৌলিক অধিকারের চরম লঙ্ঘন। জোরপূর্বক চুল কেটে দেওয়া এবং বিভিন্ন ফতোয়ার মাধ্যমে তাদের ওপর সন্ত্রাস চালানো হচ্ছে, যা কোনো সভ্য সমাজে কাম্য নয়।
আবেদনকারীদের দাবি, সংবিধানে বর্ণিত আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার, চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং নিজ ধর্ম পালনের অধিকার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে। এই রিট আবেদনের মাধ্যমে তারা বাউল ও ফকিরদের ওপর হওয়া সব ধরনের নির্যাতন ও নিপীড়ন স্থায়ীভাবে বন্ধের আইনি সুরক্ষা চেয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জামিলা মমতাজ, মো. জাহিদুল ইসলাম (জনি) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইন কর্মকর্তারা।
--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: