odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Thursday, 27th August 2026, ২৭th August ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রে মানবিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাতিল: কয়েক লাখ অভিবাসী কর্মী ছাঁটাইয়ের মুখে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, টিপিএস বাতিল নিয়ে ক্ষুব্ধ অভিবাসী অধিকারকর্মীরা

মানবিক সুরক্ষা কর্মসূচি সীমিত: যুক্তরাষ্ট্রে বিপাকে কয়েক লাখ বিদেশি কর্মী

Special Correspondent | প্রকাশিত: ১১ July ২০২৬ ১২:৫০

Special Correspondent
প্রকাশিত: ১১ July ২০২৬ ১২:৫০

নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র

যুক্তরাষ্ট্রের টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস (টিপিএস) কর্মসূচির আওতায় থাকা কয়েক লাখ বিদেশি কর্মীকে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ছাঁটাইয়ের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সরকার। গত শুক্রবার ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি থেকে নিয়োগকর্তাদের কাছে পাঠানো এক নির্দেশনায় এই বিষয়টি জানানো হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দীর্ঘদিনের এই কর্মসূচির মেয়াদ সীমিত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই বড় ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা (ইউএসসিআইএস)-এর সর্বশেষ নোটিশ অনুযায়ী, হাইতির নাগরিকদের কাজের অনুমতির মেয়াদ ২৪ জুলাই এবং ইথিওপিয়া, মিয়ানমার, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, সিরিয়া ও ইয়েমেনের নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই সময়সীমা ১৭ জুলাই পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের প্রভাব

গত মাসে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট এক রায়ে হাইতি ও সিরিয়ার নাগরিকদের টিপিএস সুবিধা বাতিলের ক্ষমতা ট্রাম্প প্রশাসনের হাতে বহাল রাখে। সেই রায়ের সূত্র ধরেই নতুন এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফেডারেল আদালতে চলমান মামলার কারণে এতদিন এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়া আটকে ছিল। তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে এখন নিম্ন আদালতগুলোতেও প্রশাসনের অবস্থান শক্তিশালী হবে এবং অন্যান্য দেশের নাগরিকদের টিপিএস বাতিল প্রক্রিয়া দ্রুততর হবে।

কর্মীদের ওপর প্রভাব ও অনিশ্চয়তা

এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কেবল চাকরিই হারাবেন না, বরং যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার বা ডিপোর্টেশনের ঝুঁকিতেও পড়বেন। বর্তমানে প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার হাইতির নাগরিক এবং ৬ হাজার ১০০ সিরীয় নাগরিক এই কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন ফোরামের তথ্য অনুযায়ী, আরও ২০ হাজার মানুষ ইথিওপিয়া, মিয়ানমার, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান ও ইয়েমেন থেকে এসে এই সুবিধার আওতাভুক্ত রয়েছেন।

কর্মসূচির মেয়াদ নিয়ে বিভ্রান্তি ও ঘনঘন পরিবর্তনের কারণে নিয়োগকর্তারা চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। আমেরিকান বিজনেস ইমিগ্রেশন কোয়ালিশনের আইনি উপদেষ্টা জ্যাকব মন্টি বলেন, মেয়াদের তারিখ বারবার পরিবর্তিত হওয়ায় অনেক নিয়োগকর্তা বিভ্রান্ত। আইনি জটিলতার ভয়ে অনেকেই নতুন নির্দেশের আগেই কর্মীদের ছাঁটাই করতে বাধ্য হয়েছেন।

ঝুঁকিতে স্বাস্থ্যসেবা ও উৎপাদন খাত

টিপিএস সুবিধাভোগী অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যসেবা, বৃদ্ধাশ্রম, নির্মাণ, উৎপাদন ও পরিবহন খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, হঠাৎ করে এই বিপুল সংখ্যক কর্মীকে ছাঁটাই করা হলে দেশটিতে বড় ধরনের শ্রমিক সংকট তৈরি হতে পারে।

প্রতিবাদ ও মানবাধিকারের প্রশ্ন

ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন অভিবাসী অধিকারকর্মীরা। হাইতি ও সিরিয়ার নাগরিকদের আইনজীবীদের দাবি, এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এতে জাতিগত বৈষম্যের প্রতিফলন রয়েছে। তাদের মতে, যেসব দেশ থেকে এসব মানুষ এসেছেন, সেখানকার পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত নাজুক। এই সময়ে সুরক্ষা সুবিধা প্রত্যাহার করা মানবিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করবে।

উল্লেখ্য, ১৯৯০ সালে চালু হওয়া টিপিএস কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর নাগরিকদের অস্থায়ী সুরক্ষা দেওয়া। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযোগ, আগের প্রশাসনগুলোর কারণে এই অস্থায়ী কর্মসূচি কার্যত স্থায়ী অভিবাসনের পথ তৈরি করেছে।

এদিকে আগামী সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে এল সালভাদরের প্রায় ২ লাখ নাগরিকের টিপিএস সুবিধা বাতিল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা পরিস্থিতির গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: