/নিজস্ব প্রতিবেদক | অধিকারপত্র ডটকম
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬ | ঢাকা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে ছড়িয়ে পড়া একটি সিসিটিভি ভিডিওকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা চলছে। ভিডিওটি প্রথমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে দাবি করা হলেও, এ বিষয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্য যাচাই প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে।
প্রকাশিত ভিডিওর বিভিন্ন অংশে দেখা যায়, একটি কক্ষে এক তরুণীর সঙ্গে অবস্থান করছেন গাজী নজরুল ইসলাম। কোনো অংশে তাকে মোবাইল ফোনে কথা বলতে এবং অন্য অংশে ওই নারীর সঙ্গে অন্তরঙ্গভাবে বসে থাকতে দেখা যায়।
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এটি এআই প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি একটি ভুয়া ভিডিও।
তবে পরবর্তীতে একাধিক স্বাধীন তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান জানায়, তাদের বিশ্লেষণে ভিডিওটিতে এআই-নির্মিত বা ডিজিটালভাবে সম্পাদনার সুস্পষ্ট কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সিসিটিভি ফুটেজের টাইমস্ট্যাম্প অনুযায়ী, ভিডিওটি ২০২৩ সালের ১০ জুলাই ধারণ করা হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেছে। তবে ভিডিওটি ঠিক কোথায় ধারণ করা হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে গাজী নজরুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান মাওলানা আজিজুর রহমান বলেন, ভিডিওতে যে নারীকে দেখা যাচ্ছে তিনি গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী। তার দাবি, প্রথম স্ত্রীর সম্মতিক্রমেই এই বিয়ে হয়েছে। তবে ভিডিওটি কীভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, সে বিষয়টি দলীয়ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিয়ের সময় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট তারিখ জানা না থাকলেও এটি বেশ কিছুদিন আগে সম্পন্ন হয়েছে বলে তারা জেনেছেন।
ফ্যাক্ট চেক
বর্তমান পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী—
- ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি—এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি।
- একাধিক ফ্যাক্ট-চেক প্রতিষ্ঠানের দাবি অনুযায়ী, ভিডিওটি আসল সিসিটিভি ফুটেজ এবং এতে এআই সম্পাদনার প্রমাণ মেলেনি।
- তবে ভিডিওটির স্থান, প্রেক্ষাপট এবং ব্যক্তিগত বিষয়ের সব তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
- ভিডিওতে থাকা নারী সম্পর্কে জামায়াতের পক্ষ থেকে তাকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করা হয়েছে। এ দাবির বিপরীতে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি বা আদালত-নথিভুক্ত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।
অধিকারপত্র ডটকমের পর্যবেক্ষণ: ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা দাবি-প্রতিদাবি প্রচারিত হচ্ছে। তাই যাচাইকৃত তথ্যের বাইরে কোনো দাবি সত্য হিসেবে উপস্থাপন না করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: