odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Sunday, 20th September 2026, ২০th September ২০২৬
২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে প্রথম ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক সহযোগিতার বিষয় তুলে ধরবেন তারেক রহমান।

জাতিসংঘে গণতান্ত্রিক যাত্রা ও রোহিঙ্গা সংকট তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী

odhikarpatra | প্রকাশিত: ২০ September ২০২৬ ১৮:৫৯

odhikarpatra
প্রকাশিত: ২০ September ২০২৬ ১৮:৫৯

অধিকারপত্র ডটকম | জাতীয় ডেস্ক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্ক পর্বে বাংলায় দেওয়া ভাষণে বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা, আইনের শাসন, জবাবদিহিতা এবং বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যুতে সরকারের অবস্থান তুলে ধরবেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর উপলক্ষে ২০ সেপ্টেম্বর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভাষণের সম্ভাব্য বিষয়বস্তু তুলে ধরেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।

পররাষ্ট্র সচিবের তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা, আইনের শাসন, জবাবদিহিতা, বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি তরুণ ও নারী ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সঙ্গত ব্যবহার এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরবেন তিনি।

রোহিঙ্গা সংকটে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইবে বাংলাদেশ

প্রধানমন্ত্রীর সফরে দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকট অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে থাকছে। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের আয়োজনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি সাইড ইভেন্টে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।

সেখানে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই উপায়ে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা চাওয়া হবে।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের ব্যাপকতা, এর ফলে সৃষ্ট বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ এবং বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়গুলো বিশ্ব সম্প্রদায়ের সামনে আবারও তুলে ধরা হবে।

জলবায়ু পরিবর্তনেও গুরুত্ব

প্রধানমন্ত্রীর সফরে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পাবে। ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

পরদিন সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে অস্তিত্বের ঝুঁকি নিয়ে আয়োজিত আরেকটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উদ্বোধনী বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

এসব বৈঠকে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের মতো বিষয়গুলোতে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হবে।

একাধিক দেশের নেতার সঙ্গে বৈঠক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এর মধ্যে কুয়েতের ক্রাউনপ্রিন্স এবং ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে।

এসব বৈঠকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

এ ছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে।

অর্থনৈতিক কূটনীতিতেও গুরুত্ব

সরকারের অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে মেটা ও ওয়াল স্ট্রিটসহ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক করার কথা রয়েছে।

এ ছাড়া ২৪ সেপ্টেম্বর মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি বিষয়ক একটি সাইড ইভেন্টে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা এবং প্রশিক্ষিত ধাত্রীসেবার গুরুত্ব তুলে ধরার কথা রয়েছে।

জাতিসংঘের মূল কর্মসূচিগুলোকে প্রধানমন্ত্রীর সফরে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সময়সূচি পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্ধারণ করা হচ্ছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। কর্মসূচি শেষে ২৫ সেপ্টেম্বর তাঁর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।