অধিকারপত্র ডটকম, নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা | ৪ আগস্ট ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন ছিল সম্পূর্ণ জনগণের আন্দোলন এবং জনগণ পরিবর্তন চেয়েছিল বলেই সেই আন্দোলন সফল হয়েছে। তিনি বলেন, এ আন্দোলনের কৃতিত্ব কোনো একক ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের নয়; বরং দেশের সর্বস্তরের জনগণের।
মঙ্গলবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত ‘গণতন্ত্র আদায়ে ১৭ বছরের অনিবার সংগ্রাম ও রক্তঝরা জুলাই জাগরণ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছর দেশের মানুষ, বিএনপি এবং গণতন্ত্রে বিশ্বাসী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে মাঠে ছিল। জনগণকে কখনো একা ফেলে দেওয়া হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, এখন সময় দেশ পুনর্গঠন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং ষড়যন্ত্রকারীদের বিষয়ে সতর্ক থাকার। সরকার ধাপে ধাপে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবে বলে তিনি জানান।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপির রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা এখন শুধু দলের কর্মসূচি নয়, বরং জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত জাতীয় রূপরেখা। গত সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ এই কর্মসূচির প্রতি সমর্থন দিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
সরকারের কর্মকাণ্ড তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশের অর্থনীতি, স্বাস্থ্য খাত এবং প্রশাসন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ছিল। আন্তর্জাতিক নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও জনগণের দুর্ভোগ কমাতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানির আলোচনা এবং মালয়েশিয়ার পেট্রোনাসের মাধ্যমে এলএনজি আমদানির প্রস্তুতির কথা জানান তিনি। পাশাপাশি বাপেক্সকে শক্তিশালী করতে দুটি নতুন রিগ কেনার সিদ্ধান্তের কথাও উল্লেখ করেন।
কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগের সুযোগ পুনরায় চালু হয়েছে। চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জে নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা, বন্ধ মিল-কারখানা চালু এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা, উপজেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস ইউনিট স্থাপন এবং চিকিৎসাসামগ্রীর দাম কমাতে শুল্ক হ্রাসের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
শিক্ষা ব্যবস্থাকে আনন্দমুখর ও যুগোপযোগী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণদের চাহিদা ও সক্ষমতা বিবেচনায় নতুন শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
তিনি আরও বলেন, তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে দেশব্যাপী খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। সম্প্রতি প্রাথমিক পর্যায়ে ২২ লাখ শিশুর অংশগ্রহণে ফুটবল প্রতিযোগিতা আয়োজনের কথাও উল্লেখ করেন।
জুলাই আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও পরিবারের পাশে সরকার থাকবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আহতদের চিকিৎসা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।
অনুষ্ঠানের শেষে তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে দেশের শান্তি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও গণতন্ত্র সুসংহত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: