odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Tuesday, 8th September 2026, ৮th September ২০২৬
রাজধানীর সবুজবাগে কাতারপ্রবাসী সিফাত উল্লাহ হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামিসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

বান্ধবীর বাসায় গিয়ে কাতারপ্রবাসী খুন, সাবেক প্রেমিকসহ গ্রেপ্তার ২

odhikarpatra | প্রকাশিত: ৮ September ২০২৬ ০২:৫৯

odhikarpatra
প্রকাশিত: ৮ September ২০২৬ ০২:৫৯

নিজস্ব প্রতিবেদক | অধিকার পত্র ডটকম

রাজধানীর সবুজবাগে সিফাত উল্লাহ (২৭) নামে এক কাতারপ্রবাসী যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামিসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—আল আমিন হোসেন (২৭) ও মো. সাজিদুল ইসলাম সাজিদ (২৪)। র‌্যাবের দাবি, সোমবার দিবাগত রাত থেকে ভোর পর্যন্ত খিলগাঁওয়ের পৃথক দুটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, প্রায় দেড় মাস আগে কাতার থেকে দেশে আসেন সিফাত। এক তরুণীর সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ওই তরুণীর সঙ্গে সাজিদেরও চার বছরের বেশি সময়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ২৫ আগস্ট ওই তরুণীর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে সিফাতের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পারেন সাজিদ। এরপর তাঁদের সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটে বলে র‌্যাবের ভাষ্য।

অন্যদিকে, ওই তরুণীর সঙ্গে একই বিদ্যালয়ে পড়াশোনার সূত্রে আল আমিনের পরিচয় ও বন্ধুত্ব ছিল। র‌্যাবের দাবি, আল আমিন এলাকায় সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত এবং মাঝেমধ্যে কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে ওই তরুণীর ভাড়া বাসায় গিয়ে মাদক সেবন করতেন। বিষয়টি জানার পর সিফাত তাঁদের ওই বাসায় আসতে নিষেধ করেন। এ নিয়ে আল আমিনের সঙ্গে সিফাতের বিরোধ তৈরি হয়।

র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার বিকেল তিনটার দিকে মাদারটেকের বরইতলা এলাকায় ওই তরুণীর ভাড়া বাসায় দেখা করতে যান সিফাত। তাঁর সেখানে যাওয়ার খবর পেয়ে আল আমিনের সহযোগী ইয়াছিন, অনিক, তুহিন, রাজুসহ কয়েকজন ওই বাসায় যান। এ সময় আল আমিন ভবনের নিচে অবস্থান করছিলেন।

তাঁরা বাসায় প্রবেশের পর সিফাতের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে ইয়াছিন ও রাজু আহত হন। পরে তাঁরা বাসা থেকে নিচে নেমে আসেন। তাঁদের পেছনে সিফাতও নিচে নেমে মোটরসাইকেলে করে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

এ সময় আল আমিনের সহযোগীরা সিফাতকে লক্ষ্য করে ইট ছুড়তে থাকেন। ইটের আঘাতে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে আল আমিন তাঁর মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করেন বলে র‌্যাব জানিয়েছে। এরপর তাঁরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে সিফাতকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যান। একই সঙ্গে তাঁর মোটরসাইকেলটিও ভাঙচুর করা হয়।

পরে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত সিফাতকে উদ্ধার করে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ইমার্জেন্সি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

র‌্যাব জানায়, ঘটনার প্রায় ১১ ঘণ্টার মধ্যে সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে খিলগাঁওয়ের হাজীবাড়ি বালুরপাড় এলাকা থেকে সাজিদকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভোর ৫টার দিকে খিলগাঁওয়ের শেখের জায়গা বাজার এলাকা থেকে প্রধান আসামি আল আমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে র‌্যাব জানিয়েছে।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: