অধিকারপত্র ডটকম, ঢাবি প্রতিনিধি, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাম্প্রতিক কয়েকটি বিতর্কিত উদ্যোগ ও পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে তিনটি পৃথক ঘটনা তদন্তে তিনটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে রয়েছে ডাকসুর ‘DU Evaluation’ নামে ওয়েবসাইট চালু, ‘নির্ভীক জুলাই’ নামে দুটি স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন এবং ডাকসু সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও ছাত্রসংঘের নেতা আব্দুল মালেকের ছবি টানানোর ঘটনা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতরের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩-এর ১২(৩) ধারা অনুযায়ী ক্যাম্পাসে সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে এসব কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিগুলোকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।
এদিকে এসব পরিবর্তন ও বিশেষ করে ডাকসু সংগ্রহশালার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন সামিনা লুথফা।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে তিনি আগের দিনের আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এবার তিনি ‘রুচি’ নিয়ে কথা বলতে চান। তার অভিযোগ, সংগ্রহশালায় ব্যবহৃত কিছু ছবির উপস্থাপন যথাযথ হয়নি। তিনি দাবি করেন, শহীদ রুমির ছবি যে কাগজে প্রিন্ট করে লাগানো হয়েছে, সেটি ঠিকভাবে পেস্ট করা হয়নি এবং কাগজ ভাঁজ হয়ে ছিল।
সামিনা লুথফা আরও দাবি করেন, ১৯৭১ নিয়ে একটি বোর্ডে বিভিন্ন তথ্যের সঙ্গে একটি বিদেশি যুদ্ধের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। ছবিটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে তিনি মনে করেছেন। তবে তার এই বক্তব্যের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। একইভাবে বোর্ডে থাকা তথ্যের উৎস নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
পোস্টে তিনি বলেন, এসব দেখে তার মধ্যে একই সঙ্গে ক্ষোভ, হাসি ও দুঃখের অনুভূতি তৈরি হয়েছে। তবে আশপাশে অনেক মানুষ মোবাইল ফোন তাক করে রাখায় বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানাতেও অস্বস্তি বোধ করেছেন বলে উল্লেখ করেন।
ডাকসু সংগ্রহশালার দেয়ালে কবি রোবায়েতের লেখা কবিতা ঝোলানো হয়েছে কি না—এটিও দেখতে না পারার কথা জানান তিনি।
‘সংস্কারের’ খরচের হিসাব চান
ডাকসু সংগ্রহশালা ও সংশ্লিষ্ট পরিবর্তনগুলোর জন্য যারা অর্থ দিয়েছেন, তাদের কাছে হিসাব চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সামিনা লুথফা।
তিনি বিশেষভাবে জানতে চেয়েছেন, সংগ্রহশালা থেকে যেসব জিনিস সরিয়ে ফেলা হয়েছে, সেগুলো কোথায় রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সরিয়ে নেওয়া সামগ্রীর তালিকা বা ‘ইনভেন্টরি’ প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।
তার বক্তব্যের মূল প্রশ্ন—সংগ্রহশালার পরিবর্তন বা সংস্কারের নামে যেসব সামগ্রী সরানো হয়েছে, সেগুলোর বর্তমান অবস্থান ও পূর্ণ তালিকা কোথায়।
তিন কমিটির তদন্তে কী থাকছে
১. ‘DU Evaluation’ ওয়েবসাইট
ডাকসুর উদ্যোগে ‘DU Evaluation’ নামে ওয়েবসাইট চালুর বিষয় তদন্তে ছয় সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন)। সদস্য হিসেবে রয়েছেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা), আইন অনুষদের ডিন, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন এবং IQAC-এর পরিচালক। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সদস্য-সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।
২. ‘নির্ভীক জুলাই’ স্মৃতিস্তম্ভ
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কলাভবন সংলগ্ন ডাকসু ভবনের পশ্চিম পাশে এবং কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে ‘নির্ভীক জুলাই’ নামে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপনের বিষয়টি তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) এর আহ্বায়ক। বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন, আইন অনুষদের ডিন ও প্রক্টর সদস্য এবং এস্টেট ম্যানেজার সদস্য-সচিব।
৩. ডাকসু সংগ্রহশালার ছবি
ডাকসু সংগ্রহশালায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও ছাত্রসংঘের নেতা আব্দুল মালেকের ছবি টানানোর ঘটনা তদন্তেও পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির আহ্বায়ক প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন)। আইন অনুষদের ডিন, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন ও প্রক্টর সদস্য এবং এস্টেট ম্যানেজার সদস্য-সচিব।
তিনটি কমিটিই সাত কর্মদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দেবে। ফলে সামিনা লুথফাসহ বিভিন্ন মহলের উত্থাপিত প্রশ্নের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তদন্তে এসব উদ্যোগের প্রক্রিয়া, অনুমোদন, ব্যবহৃত উপকরণ এবং সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তের বিষয়ে কী তথ্য উঠে আসে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: