odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Thursday, 1st October 2026, ১st October ২০২৬
সিঙ্গাইরে ইটভাটায় নিয়ে বশিরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ; আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ

মানিকগঞ্জে ইটভাটায় ডেকে ছাত্রলীগ নেতার হাত-পায়ের রগ কাটার অভিযোগ, ৪ বন্ধুর বিরুদ্ধে মামলা

odhikarpatra | প্রকাশিত: ২৯ September ২০২৬ ২৩:৫৩

odhikarpatra
প্রকাশিত: ২৯ September ২০২৬ ২৩:৫৩

অধিকার পত্র ডটকম, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি :

বিস্তারিত সংবাদ

মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক নেতাকে ইটভাটায় ডেকে নিয়ে তাঁর দুই পা ও বাঁ হাতের রগ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর পরিচিত ও বন্ধুদের বিরুদ্ধে। এ সময় তাঁকে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।

গত রোববার রাত ১০টার দিকে উপজেলার ডেফলতলী এলাকার একটি ইটভাটায় এ ঘটনা ঘটে। আহত তরুণের নাম মো. বশির (২১)। তিনি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা-মিতরা ইউনিয়নের চক গোবিন্দপুর গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে।

পরিবারের দাবি, বশির নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজেদুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন, বশির জেলা ছাত্রলীগের উপকর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। তাঁর বড় ভাই রবিউল ইসলামও তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ ঘটনায় বশিরের বাবা মনির হোসেন সোমবার রাতে সিঙ্গাইর থানায় মামলা করেছেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে নাম থাকা ব্যক্তিরা হলেন—মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গুজুরির চর গ্রামের আকাশ মোল্লা (২১), সিঙ্গাইরের ডেফলতলী গ্রামের আরিফ হোসেন (২০), চর কৃষ্ণপুর গ্রামের তানজিদ হোসেন (২২) এবং ভাড়াই ভিকরা গ্রামের মো. তুহিন (২১)।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, মামলার আসামিরা সবাই বশিরের বন্ধু।

পুলিশ, মামলার এজাহার ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোববার রাতে বশির তাঁর বন্ধু সুমনকে নিয়ে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় ছিলেন। এ সময় আকাশ কৌশলে তাঁকে সিঙ্গাইরের ডেফলতলী এলাকার একটি ইটভাটায় নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই অন্য অভিযুক্তরা অবস্থান করছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইটভাটায় পৌঁছানোর পর বশিরকে ঘিরে ফেলা হয়। হামলাকারীদের হাতে রামদা, হাতুড়ি ও লোহার রড ছিল বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে তাঁর মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান। এরপর তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপানো ও আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর দুই পা ও বাঁ হাতের রগ কেটে দেওয়া হয় বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

হামলাকারীরা তাঁকে মৃত ভেবে ঘটনাস্থল থেকে চলে গেলে স্থানীয় লোকজন বশিরকে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাঁকে মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

হাসপাতালে থাকা বশিরের বড় ভাই রবিউল ইসলাম বলেন, তাঁর ভাই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। পূর্বশত্রুতার জেরে হামলাটি হয়েছে বলে তাঁদের ধারণা। তবে কী কারণে তাঁদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছিল, তা তাঁরা জানেন না। চিকিৎসকেরা বশিরের শারীরিক অবস্থা এখনো শঙ্কামুক্ত নয় বলে জানিয়েছেন।

বশিরের বাবা মনির হোসেনও হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ জানেন না বলে জানিয়েছেন। তিনি দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

সিঙ্গাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, মামলার আসামিরা আহত তরুণের পরিচিত ও বন্ধু। তাঁদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।