odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Thursday, 1st October 2026, ১st October ২০২৬
দীর্ঘদিনের দ্বিদলীয় সমর্থন নিয়ে নতুন বিতর্ক; গাজা ইস্যুতে মার্কিন রাজনীতি, তরুণ প্রজন্ম ও ইসরায়েলকে সহায়তার নীতি নিয়ে বাড়ছে মতপার্থক্য

গাজা যুদ্ধ কি যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েল-সমর্থনের পুরোনো ঐকমত্য বদলে দিয়েছে?

odhikarpatra | প্রকাশিত: ৩০ September ২০২৬ ২৩:৫৮

odhikarpatra
প্রকাশিত: ৩০ September ২০২৬ ২৩:৫৮

অধিকার পত্র ডটকম | আন্তর্জাতিক ডেস্ক

দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন ছিল ওয়াশিংটনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দ্বিদলীয় অবস্থান। তবে গাজা যুদ্ধকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে সেই পুরোনো ঐকমত্যে পরিবর্তনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে কি না—এমন প্রশ্ন এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

আল জাজিরার ‘লেটস ফোকাস’ অনুষ্ঠানের ২৯ সেপ্টেম্বরের পর্বে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থাপক জশ রাশিংয়ের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সাবেক সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সের নীতি উপদেষ্টা ম্যাট ডাস এবং রেসপনসিবল স্টেটক্রাফটের সম্পাদক কেলি ভ্লাহোস।

ওয়াশিংটনের পুরোনো অবস্থানে পরিবর্তনের প্রশ্ন

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক দশক ধরে ইসরায়েল প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—দুই দলের মধ্যেই তুলনামূলকভাবে বিস্তৃত সমর্থন ছিল। কিন্তু গাজা যুদ্ধের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবের কারণে সেই অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।

বিশেষ করে ডেমোক্রেটিক পার্টির ভেতরে ইসরায়েলকে সামরিক ও কূটনৈতিক সহায়তা দেওয়ার নীতি নিয়ে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে এসেছে। অন্যদিকে রিপাবলিকান দলেও ইসরায়েল নীতি নিয়ে বিভিন্ন অবস্থান ও বিতর্ক সামনে এসেছে বলে অনুষ্ঠানটিতে আলোচনা করা হয়।

গাজা ও যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি

আল জাজিরার অনুষ্ঠানে বলা হয়েছে, গাজা যুদ্ধ শুধু যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; এটি দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্কেও প্রভাব ফেলেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিক্ষোভ, তরুণ ভোটারদের অবস্থান এবং ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল অংশের চাপ—এসব বিষয় ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে বলে আলোচনায় উঠে আসে।

গাজা ইস্যুতে মার্কিন রাজনীতির পরিবর্তিত অবস্থান ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের রাজনীতিতেও কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, সেটিও অনুষ্ঠানের আলোচনার একটি অংশ।

ইসরায়েলকে মার্কিন সহায়তা নিয়ে বিতর্ক

ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক সহায়তা ভবিষ্যতে কী শর্তে দেওয়া হবে—এ প্রশ্নও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।

আল জাজিরার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মার্কিন কংগ্রেসে ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে আগের তুলনায় বেশি প্রকাশ্য বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জুলাইয়ে শতাধিক হাউস ডেমোক্র্যাট ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা বন্ধের একটি উদ্যোগকে সমর্থন করেছিলেন, যদিও সেটি প্রয়োজনীয় সমর্থন পায়নি।

এর পাশাপাশি ইসরায়েলের প্রতি মার্কিন নীতিতে মানবাধিকার, বেসামরিক নাগরিক সুরক্ষা, মানবিক সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক আইন মানার মতো বিষয়গুলোকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হবে—সেটিও রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।

তরুণ প্রজন্মের অবস্থান

গাজা যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের তরুণদের একটি অংশের মধ্যে ইসরায়েল নীতি নিয়ে নতুন ধরনের রাজনৈতিক সক্রিয়তা দেখা গেছে বলে আল জাজিরার অনুষ্ঠানে আলোচনা করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিক্ষোভ, ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক গাজাকে মার্কিন তরুণদের রাজনৈতিক আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত করেছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সব রাজনৈতিক গোষ্ঠীর অবস্থান এক নয়। ইসরায়েলের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখার পক্ষে এখনও শক্তিশালী রাজনৈতিক সমর্থন রয়েছে। ফলে দেশটির ইসরায়েল নীতিতে পরিবর্তন কতটা গভীর বা দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

বদলে যাচ্ছে কি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের রাজনৈতিক ভিত্তি?

আল জাজিরার অনুষ্ঠানের মূল প্রশ্নই হলো—গাজা যুদ্ধ কি যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলকে ঘিরে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ঐকমত্যে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে?

উপস্থাপিত আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক দল, তরুণ প্রজন্ম, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এবং নির্বাচনী রাজনীতিতে ইসরায়েল-গাজা ইস্যুর প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তবে এর অর্থ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের অবসান—এমন কোনো সিদ্ধান্ত অনুষ্ঠানের তথ্য থেকে সরাসরি টানা যায় না।

বরং আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হলো, দীর্ঘদিনের তুলনামূলকভাবে অভিন্ন অবস্থানের জায়গায় এখন ইসরায়েলকে সামরিক ও কূটনৈতিক সহায়তার শর্ত, জবাবদিহি এবং গাজা যুদ্ধের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে আরও প্রকাশ্য রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা