odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Sunday, 4th October 2026, ৪th October ২০২৬
২৮ নভেম্বর ফিলিস্তিনের আইনসভা নির্বাচন সামনে রেখে গাজার তরুণ ভোটারদের প্রধান প্রত্যাশা কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা, আবাসন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা; ২০০৬ সালের পর হতে যাচ্ছে প্রথম জাতীয় আইনসভা নির্বাচন।

গাজায় ভোটারদের প্রধান চাওয়া চাকরি ও নিরাপত্তা, সামনে দুই দশক পর জাতীয় নির্বাচন

odhikarpatra | প্রকাশিত: ৩ October ২০২৬ ২১:৩৮

odhikarpatra
প্রকাশিত: ৩ October ২০২৬ ২১:৩৮

অধিকার পত্র ডটকম | আন্তর্জাতিক ডেস্ক

দুই দশক পর প্রথমবারের মতো জাতীয় আইনসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে ফিলিস্তিনে। আগামী ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচনের আগে গাজার ভোটারদের বড় একটি অংশের প্রধান প্রত্যাশা হয়ে উঠেছে কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা, বাসস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৬ সালের পর এটি হতে যাচ্ছে ফিলিস্তিনের প্রথম জাতীয় আইনসভা নির্বাচন। গাজার বর্তমান পরিস্থিতিতে ভোটারদের কাছে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পাশাপাশি যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবন ও অর্থনৈতিক সুযোগ ফিরে পাওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

দেইর আল-বালাহর ২৪ বছর বয়সী আহমাদ মোহসেন তাদেরই একজন। নার্সিংয়ে পড়াশোনা শেষ করে পেশাগত লাইসেন্স নেওয়া, হাসপাতালে কাজ করা এবং উচ্চশিক্ষা বা বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু যুদ্ধ তার সেই পরিকল্পনা বদলে দিয়েছে।

যুদ্ধের প্রথম কয়েক মাস তিনি দেইর আল-বালাহর আল-আকসা শহীদ হাসপাতালের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেন। সেখানে বিপুলসংখ্যক আহত ও নিহত মানুষকে দেখেছেন তিনি। পরে কোনো পারিশ্রমিক না পাওয়ায় অন্য কাজ খুঁজতে শুরু করেন।

মোহসেন জানান, আসন্ন নির্বাচন তার জীবনের প্রথম জাতীয় ভোট দেওয়ার সুযোগ। নির্বাচনে তার প্রধান প্রত্যাশা হলো তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা, আবাসন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সমস্যা সমাধান।

তিনি বলেন, প্রথমত তিনি স্থায়ী ও সম্মানজনক বেতনের একটি চাকরি চান, যাতে নিজের ও পরিবারের খরচ চালাতে পারেন। এরপর তার প্রত্যাশা নিরাপত্তা।

গাজায় বেকারত্ব প্রায় ৮০ শতাংশ

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় বেকারত্বের হার বর্তমানে প্রায় ৮০ শতাংশ। দীর্ঘদিনের অবরোধ এবং যুদ্ধের কারণে উপত্যকার অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইসরায়েলের অবরোধ ও যুদ্ধের কারণে গাজার অর্থনৈতিক অবকাঠামো এবং মানুষের জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আল জাজিরার হিসাবে, যুদ্ধ শুরুর পর গাজায় ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

দুই দশক পর জাতীয় নির্বাচন

ফিলিস্তিনের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন আগামী ২৮ নভেম্বর আইনসভা নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ২০০৬ সালের পর এটি হবে প্রথম ফিলিস্তিনি আইনসভা নির্বাচন।

গাজার ভোটারদের জন্য এই নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নির্ধারণের বিষয় নয়; যুদ্ধের পর পুনর্গঠন, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা, আবাসন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা কীভাবে পুনরুদ্ধার করা হবে—সেটিও তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তরুণ ভোটারদের প্রত্যাশার বড় অংশজুড়ে রয়েছে যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ তৈরি করা।

 

দুই দশক পর ভোট, গাজাবাসীর চাওয়া একটাই—চাকরি, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবন

#গাজা #ফিলিস্তিন #ফিলিস্তিননির্বাচন #গাজানির্বাচন #মধ্যপ্রাচ্য #গাজারতরুণ #বেকারত্ব #আন্তর্জাতিকসংবাদ #অধিকারপত্রডটকম