অধিকার পত্র ডটকম | আন্তর্জাতিক ডেস্ক
গাজা যুদ্ধ নিয়ে মন্তব্যের জেরে আসন্ন ইসরায়েলি নির্বাচনে প্রার্থিতা নিয়ে আইনি জটিলতায় পড়েছেন ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলি রাজনীতিক ও বালাদ পার্টির নেতা সামি আবু শেহাদেহ। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতার উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ থাকা ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী নেতারা নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় দেশটির নির্বাচনী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ‘দ্বৈত মানদণ্ডের’ অভিযোগ উঠেছে।
আল জাজিরার ৩ অক্টোবরের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচনের আগে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইসরায়েলি নাগরিকদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
কেন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন আবু শেহাদেহ?
বালাদ পার্টির নেতা সামি আবু শেহাদেহকে প্রথমে নির্বাচনে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি। গাজা যুদ্ধ নিয়ে তার কিছু মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পরে বিষয়টি ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্টে গড়ালে আদালত তাকে নির্বাচনে প্রার্থী না হওয়ার বিষয়ে সতর্ক করে। এরপর আবু শেহাদেহ তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন।
আবু শেহাদেহ এই সিদ্ধান্তকে ‘গণতন্ত্রের জন্য ঐতিহাসিক বিপর্যয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
আবু শেহাদেহ কে?
সামি আবু শেহাদেহ জাফার একজন ইতিহাসবিদ এবং বালাদ পার্টির নেতা। দলটি ইসরায়েলের সব নাগরিকের সমঅধিকারের পক্ষে অবস্থান করে এবং ফিলিস্তিনি জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিচিত।
তিনি ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে সদস্য ছিলেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর প্রকাশিত একটি নিবন্ধে ৭ অক্টোবরের হামলাকে তিনি ‘গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তার এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তার প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করেন ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির।
‘দ্বৈত মানদণ্ডের’ অভিযোগ
আবু শেহাদেহের প্রার্থিতা বাতিলের প্রক্রিয়ার পাশাপাশি কট্টর ডানপন্থী ইসরায়েলি রাজনীতিকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচক ও ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মীরা।
তাদের অভিযোগ, আরব বা ফিলিস্তিনি রাজনীতিকদের নির্বাচনী দৌড় থেকে সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতার উসকানিমূলক বক্তব্যের অভিযোগ থাকা কট্টর ডানপন্থী রাজনীতিকদের ক্ষেত্রে একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে আরব পার্সপেক্টিভস ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক জায়দোন আলকিনানির একটি বক্তব্যও তুলে ধরা হয়েছে। তার মতে, ইসরায়েলের রাজনৈতিক ব্যবস্থা এমনভাবে গড়ে তোলা হয়েছে, যাতে দেশটির চরিত্র একটি ‘জায়নিস্ট রাষ্ট্র’ হিসেবে বজায় থাকে।
তবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের অবস্থান ও আবু শেহাদেহের প্রার্থিতা নিয়ে আইনি সিদ্ধান্তের পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা এই প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়নি।
সামনে ইসরায়েলের নির্বাচন
আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনকে সামনে রেখে আবু শেহাদেহের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘটনা ইসরায়েলের আরব নাগরিকদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সুযোগ এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
আল জাজিরার বিশ্লেষণে মূল প্রশ্ন হিসেবে উঠে এসেছে—ইসরায়েলের নির্বাচনে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের সুযোগ কতটা সমান এবং নির্বাচনী আইনের প্রয়োগ সব রাজনৈতিক পক্ষের ক্ষেত্রে একইভাবে হচ্ছে কি না।
