odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Sunday, 4th October 2026, ৪th October ২০২৬
ময়মনসিংহের আকুয়া বাইপাসে রাজীব পরিবহনের বাস ও সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে সাতজন নিহত; অজ্ঞাত বাসচালকের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তারের চেষ্টা পুলিশের।

ময়মনসিংহে বাস-সিএনজি সংঘর্ষে ৭ নিহত: অজ্ঞাত বাসচালকের বিরুদ্ধে মামলা

odhikarpatra | প্রকাশিত: ৩ October ২০২৬ ২২:২৭

odhikarpatra
প্রকাশিত: ৩ October ২০২৬ ২২:২৭

অধিকার পত্র ডটকম | ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

ময়মনসিংহ নগরে যাত্রীবাহী বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে সাতজন নিহতের ঘটনায় মামলা হয়েছে। দুর্ঘটনায় জড়িত বাসটির অজ্ঞাত চালককে আসামি করে মামলাটি করা হয়েছে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে করা লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, দুর্ঘটনার পর বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার পর বাসটির চালক ও সহযোগীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

ওসি বলেন, নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের চারজনকে হারানো মো. মোবারক আলী রাতে থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরে রাত ১২টার পর অজ্ঞাতনামা বাসচালকের বিরুদ্ধে সেটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। চালককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল ৭ জনের

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ঢাকা থেকে জামালপুরের উদ্দেশে যাচ্ছিল রাজীব পরিবহনের একটি বাস। দুপুর দেড়টার দিকে বাসটি ময়মনসিংহ নগরের আকুয়া বাইপাস সড়কের গন্দ্রপা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই অটোরিকশার সাত যাত্রী নিহত হন।

নিহত সাতজনই জামালপুর জেলার বাসিন্দা। তাদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন হলেন—জামালপুর সদর উপজেলার দড়িহামিদপুর গ্রামের রাশিদা বেগম (৭০), তার ছেলে মোফাজ্জল হোসেন (৫০), মোফাজ্জলের মেয়ে মর্জিনা আক্তার (২৫) এবং মর্জিনার ছেলে মিনান (৫)।

নিহত অন্য তিনজন হলেন—জামালপুর সদর উপজেলার বীর গোবিন্দপুর গ্রামের অটোরিকশাচালক মো. সুজন আলী (৪৪), বাদেচান্দি গ্রামের আকরাম আলী (৫১) এবং তার স্ত্রী মমতা বেগম (৩৯)।

একসঙ্গে বের হয়ে চারজনের শেষযাত্রা

নিহত মোফাজ্জল হোসেনের স্বজনদের ভাষ্য, মাকে নিজের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য শুক্রবার সকালে জামালপুরের বাড়িতে এসেছিলেন তিনি। এ সময় তার মেয়ে মর্জিনা ও নাতি মিনানও সঙ্গে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে চারজন একসঙ্গে রওনা হন।

মোফাজ্জলের ছোট ভাই মোবারক হোসেন জানান, তার ভাই পেশায় রাজমিস্ত্রি এবং প্রায় দুই দশক ধরে গাজীপুরের শ্রীপুরে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে এসে মাকে নিজের কাছে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই যাত্রাই পরিবারের চার সদস্যের শেষযাত্রায় পরিণত হয়।

যান চলাচল স্বাভাবিক হতে সময় লাগে এক ঘণ্টা

দুর্ঘটনার পর আকুয়া বাইপাস সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে সড়কে যান চলাচল চালু করে।

ফায়ার সার্ভিসের ময়মনসিংহ স্টেশন অফিসার মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পরে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সহায়তায় অটোরিকশার ভেতর থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তার প্রাথমিক ধারণা, অতিরিক্ত গতির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে সাতজনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে স্বজনেরা মরদেহ জামালপুরে নিয়ে যান। শনিবার সকালে পৃথক জানাজা শেষে তাদের দাফন করা হয়।

এদিকে দুর্ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার রাতে জামালপুর শহরে রাজীব পরিবহনের প্রতীকী মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ ও গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ঢাকা-জামালপুর রুটে চলাচলকারী রাজীব পরিবহনের বাসগুলো অতিরিক্ত গতি ও বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা ও দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

 

ময়মনসিংহে বাস-সিএনজি সংঘর্ষে এক পরিবারের ৪ জনসহ নিহত ৭, অজ্ঞাত বাসচালকের বিরুদ্ধে মামলা

#ময়মনসিংহ #সড়কদুর্ঘটনা #বাসসিএনজিসংঘর্ষ #রাজীবপরিবহন #জামালপুর #নিহত৭ #মামলা #অধিকারপত্র