odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Tuesday, 6th October 2026, ৬th October ২০২৬
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করার দাবি; রাজনৈতিক পুনর্মিলনের নামে দায়মুক্তির সুযোগ নেই বলে মন্তব্য ডেপুটি স্পিকারের।

আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক পুনর্মিলনের সুযোগ নেই: ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল

odhikarpatra | প্রকাশিত: ৫ October ২০২৬ ২১:৪৬

odhikarpatra
প্রকাশিত: ৫ October ২০২৬ ২১:৪৬

নিজস্ব প্রতিবেদক | অধিকার পত্র ডটকম

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক পুনর্মিলনের সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেছেন, দলটির নেতাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী হবে, সেটি আলাদা বিষয়; তবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে জনগণের ওপর সহিংসতার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’-এর সমাপনী দিনের ‘দ্য গ্র্যান্ড কনভারসেশন: জাস্টিস, অ্যাকাউন্টেবিলিটি অ্যান্ড ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন’ শীর্ষক অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

কায়সার কামাল বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও দলীয় অঙ্গসংগঠন ব্যবহার করে জনগণের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তার মতে, বিচার শুধু শাস্তি দেওয়ার জন্য নয়; ভবিষ্যতে যাতে কেউ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে আবার কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সাহস না পায়, সে জন্যও দৃষ্টান্ত তৈরি করা প্রয়োজন।

বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগের নেতাদের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, তাদের অনেকে এখনো কোনো ধরনের অনুশোচনা প্রকাশ করছেন না। এ অবস্থায় রাজনৈতিক পুনর্মিলনের নামে তাদের দায়মুক্তি দেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়। বরং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

ডেপুটি স্পিকার আরও বলেন, বাংলাদেশে অতীতে বিচারহীনতার রাজনীতি ছিল। বর্তমান সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথা বলছে। জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

বিচারব্যবস্থা প্রসঙ্গে কায়সার কামাল বলেন, গত দেড় দশকে বিচারব্যবস্থা রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার প্রভাবের মধ্যে ছিল। বর্তমানে বিচারব্যবস্থা ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে দেশে একটি ন্যায়সংগত ও স্বাধীন বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে টেকসই করতে শক্তিশালী ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন ডেপুটি স্পিকার। তার মতে, সরকারের বৈধতা ও জনগণের আস্থা নির্ভর করে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং আইনের শাসনের ওপর।

রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহারের সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনার পাশাপাশি বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

উল্লেখ্য, ৩ থেকে ৫ অক্টোবর ঢাকায় তিন দিনব্যাপী ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়। ৫ অক্টোবর ছিল আয়োজনটির সমাপনী দিন।