odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Saturday, 10th October 2026, ১০th October ২০২৬
গোয়ায় নিজ বাসভবনে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে ৭৫ বছর বয়সে প্রয়াত বর্ষীয়ান অভিনেতা ও নির্মাতা নানা পাটেকর

বলিউডের কিংবদন্তি অভিনেতা নানা পাটেকর আর নেই

odhikarpatra | প্রকাশিত: ৮ October ২০২৬ ১৬:০৭

odhikarpatra
প্রকাশিত: ৮ October ২০২৬ ১৬:০৭

অধিকারপত্র ডটকম বিনোদন ডেস্ক :

বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা নানা পাটেকর আর নেই। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোরে ভারতের গোয়ায় নিজ বাসভবনে গুরুতর হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।

হাসপাতাল সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ২০ মিনিটে নানা পাটেকরকে মৃত ঘোষণা করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার আগে থেকেই তিনি অচেতন ছিলেন। চিকিৎসকেরা প্রায় ৪৫ মিনিট তাঁকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে রাত আড়াইটার দিকে অসুস্থ বোধ করার কথা এক বন্ধুকে জানিয়েছিলেন নানা পাটেকর। পরে ভোর ৪টার দিকে তাঁর বন্ধু বাসায় পৌঁছে তাঁকে ঘামতে ও শ্বাসকষ্টে ভুগতে দেখেন। এরপর দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলেও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

পাঁচ দশকের বর্ণিল অভিনয়জীবন

প্রায় পাঁচ দশকের অভিনয়জীবনে নানা পাটেকর হিন্দি ও মারাঠি চলচ্চিত্রে নিজের স্বতন্ত্র অভিনয়শৈলীর জন্য ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। থিয়েটার দিয়ে অভিনয়জীবন শুরু করে ১৯৭৮ সালে ‘গমন’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় তাঁর। পরবর্তীতে ‘পরিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘প্রহার’, ‘খামোশি: দ্য মিউজিক্যাল’, ‘আব তক ছাপ্পান’, ‘অপরাহণ’ ও ‘রাজনীতি’র মতো চলচ্চিত্রে শক্তিশালী অভিনয়ের মাধ্যমে নিজেকে অন্যতম সেরা অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।

‘পরিন্দা’ সিনেমার জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা পার্শ্ব অভিনেতার স্বীকৃতি পান। ‘ক্রান্তিবীর’-এর জন্য সেরা অভিনেতা এবং ‘অগ্নিসাক্ষী’র জন্যও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। অভিনয়ের পাশাপাশি ১৯৯১ সালে ‘প্রহার: দ্য ফাইনাল অ্যাটাক’ সিনেমা পরিচালনা ও লেখার কাজও করেন। ২০১৩ সালে তিনি ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদ্মশ্রী লাভ করেন।

‘উদয় শেঠি’ চরিত্রে নতুন জনপ্রিয়তা

গম্ভীর ও শক্তিশালী চরিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি কমেডিতেও নিজের অসাধারণ দক্ষতার প্রমাণ দেন নানা পাটেকর। ২০০৭ সালের জনপ্রিয় সিনেমা ‘ওয়েলকাম’-এ ‘উদয় শেঠি’ চরিত্রে তাঁর অভিনয় ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। পরে ২০১৫ সালের ‘ওয়েলকাম ব্যাক’ সিনেমাতেও একই চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি।

মারাঠি সিনেমায় তাঁর অন্যতম স্মরণীয় কাজ ‘নটসম্রাট’। ২০১৬ সালের এই সিনেমায় অবসরপ্রাপ্ত এক মঞ্চ অভিনেতার চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক প্রশংসা পান তিনি। চরিত্রটি তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অভিনয় হিসেবে বিবেচিত হয়।

অভিনয়ের বাইরেও সামাজিক কাজে অবদান

নানা পাটেকর শুধু অভিনয়েই সীমাবদ্ধ ছিলেন না। খরা ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়াতেন তিনি। অভিনেতা মকরন্দ আনাসপুরের সঙ্গে ২০১৫ সালে নাম ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। এ সংগঠনের মাধ্যমে কৃষক ও খরায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন তিনি।

তাঁর মৃত্যুতে ভারতীয় চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অভিনেতা, রাজনীতিক ও ভক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা পাটেকরের অভিনয়, ব্যক্তিত্ব ও সামাজিক কর্মকাণ্ড স্মরণ করে শোক প্রকাশ করছেন।

নানা পাটেকরের শেষকৃত্য পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মহারাষ্ট্র সরকার।