odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Saturday, 10th October 2026, ১০th October ২০২৬
কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানক্ষেত থেকে ১৫ বছর বয়সী কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার। মৃত্যুর আগে বাবাকে লাইভ লোকেশন পাঠানোর তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ ও সিএনজি ঘিরে তদন্ত করছে পুলিশ।

কুমিল্লায় ধানক্ষেতে কিশোরীর মরদেহ, বাবাকে পাঠিয়েছিল লাইভ লোকেশন

odhikarpatra | প্রকাশিত: ৯ October ২০২৬ ১৩:৩৩

odhikarpatra
প্রকাশিত: ৯ October ২০২৬ ১৩:৩৩

অধিকারপত্র ডটকম | নিজস্ব প্রতিবেদক

কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় ধানক্ষেত থেকে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থলের আশপাশের কয়েকটি ধানক্ষেতে ধস্তাধস্তির চিহ্ন পাওয়া গেছে। মৃত্যুর আগে বাবার মোবাইল ফোনে মেসেজ ও লাইভ লোকেশন পাঠিয়েছিল ওই কিশোরী।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোরে কুমিল্লা-নোয়াখালী মহাসড়কসংলগ্ন লালমাই উপজেলার জগৎপুর মাইনি মুড়া জঙ্গল এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাস্থলের কাছ থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ভ্যানিটি ব্যাগ ও বাসের টিকিট উদ্ধার করা হয়েছে। ধানক্ষেতের কয়েকটি স্থানে ধানের চারা মাড়ানো অবস্থায় দেখা গেছে, যা দেখে স্থানীয়দের ধারণা, সেখানে ধস্তাধস্তি হয়ে থাকতে পারে।

গলায় গামছা পেঁচানো ছিল

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, প্রথমে মরদেহটির পরিচয় পাওয়া যায়নি। পরে পরিবারের সদস্যরা পোশাক দেখে পরিচয় শনাক্ত করেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কিশোরীর গলায় গামছা পেঁচানো ছিল। তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।

গভীর রাতে বাবাকে পাঠায় লাইভ লোকেশন

নিহত কিশোরী কুমিল্লার একটি বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার পরিবারের গ্রামের বাড়ি যশোরে। বাবার চাকরির সুবাদে তারা কুমিল্লা শহরে বসবাস করতেন।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, কিশোরী বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত আনুমানিক পৌনে ২টার দিকে সে বাবার মোবাইল ফোনে মেসেজ ও লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়ার কথা জানায়।

তবে ঘুমিয়ে থাকায় বাবা তখন মেসেজটি দেখতে পাননি। পরে ভোরে ফোনে মেসেজ দেখে লোকেশন অনুসরণ করতে গিয়ে মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি জানতে পারেন।

সিসিটিভি ফুটেজ ধরে তদন্ত

পুলিশ জানায়, তদন্তে কিশোরীর ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও কক্সবাজারে যাতায়াতের তথ্য পাওয়া গেছে। বুধবার রাতে কক্সবাজার থেকে কুমিল্লায় ফিরে পদুয়ার বাজারের নূরজাহান হোটেলের সামনে একটি বাস থেকে নামতে দেখা যায় তাকে।

সিসিটিভি ফুটেজে রাত ১২টার দিকে ওই এলাকায় নামার পর তাকে আশপাশের কয়েকটি দোকানের দিকে যেতে দেখা যায়। পরে রাত সোয়া ১২টার দিকে তাকে ওই এলাকা ছেড়ে যেতে দেখা যায়। এরপর তার চলাচলের বিষয়ে আর কোনো সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মরদেহের কাছাকাছি একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা উদ্ধারের বিষয়টিও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। পুলিশ ধারণা করছে, কিশোরী নূরজাহান হোটেলের সামনে থেকে সিএনজি ভাড়া করে অন্য কোথাও যাওয়ার চেষ্টা করে থাকতে পারে। তবে ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ময়নাতদন্ত শেষে কিশোরীর মরদেহ দাফনের জন্য যশোরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।