odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Saturday, 10th October 2026, ১০th October ২০২৬
শিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগে সফলতার পর নতুন কর্মসূচিতে জেন-জি আন্দোলনকারীরা; ভোটার তালিকা থেকে যোগ্য ভোটার বাদ দেওয়ার অভিযোগ, দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তা ও ইন্টারনেট বিধিনিষেধ।

ভারতে ‘ককরোচ পার্টি’র দ্বিতীয় দফার আন্দোলন, এবার লক্ষ্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার

odhikarpatra | প্রকাশিত: ১০ October ২০২৬ ১০:১০

odhikarpatra
প্রকাশিত: ১০ October ২০২৬ ১০:১০

অধিকারপত্র ডটকম / আন্তর্জাতিক অনলাইন ডেস্ক :

প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর ২০২৬

ভারতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের রসিকতা থেকে জন্ম নেওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) আবারও আন্দোলনে নামছে। প্রথম দফার বিক্ষোভে শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর এবার দেশটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিকে কেন্দ্র করে নতুন কর্মসূচি শুরু করেছে তরুণদের এ আন্দোলন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্দোলনকারীরা নিজেদের নতুন কর্মসূচিকে ‘সিজন ২’ হিসেবে অভিহিত করছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার জন্য সমর্থকদের আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বিপুলসংখ্যক যোগ্য ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। তবে ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং নির্বাচন কমিশন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ইন্টারনেট রসিকতা থেকে রাজপথের আন্দোলন

চলতি বছরের মে মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি রসিকতা থেকে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র যাত্রা শুরু হয়। পরে তরুণদের কর্মসংস্থানের সংকট, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষাব্যবস্থার অনিয়ম নিয়ে অসন্তোষের মধ্যে সংগঠনটি জনপ্রিয়তা পায়।

আন্দোলনের প্রথম পর্যায়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ, অবস্থান কর্মসূচি ও মিছিল হয়। আন্দোলনকারীদের ব্যঙ্গাত্মক পোস্টার, গান, নাচ ও পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক সপ্তাহের আন্দোলনের পর জুলাইয়ে ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। এর মধ্য দিয়ে আন্দোলনকারীরা তাদের প্রধান দাবিতে সফলতা পায় বলে মনে করেন সংগঠনটির সমর্থকেরা।

এবার নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিতর্ক

এবার আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। বর্তমানে নির্বাচন কমিশন মৃত, একই ব্যক্তির একাধিক নিবন্ধন এবং অন্যান্য অযোগ্যতার কারণে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার লক্ষ্যে বড় পরিসরে কার্যক্রম চালাচ্ছে।

বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, এ প্রক্রিয়ায় যোগ্য ভোটারদের নামও বাদ পড়ছে, যা ক্ষমতাসীন বিজেপির রাজনৈতিক সুবিধা তৈরি করতে পারে। বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন অবশ্য এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের দাবি বাস্তবায়ন করা সহজ নয়। এ জন্য সংসদে নির্ধারিত সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং উভয় কক্ষে বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন। বর্তমান সংসদীয় সমীকরণে বিরোধী দলগুলোর পক্ষে সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন কঠিন।

দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তা, ইন্টারনেট সেবা স্থগিত

বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সিজেপির দাবি, বিভিন্ন রাজ্যে কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়া তাদের হাজার হাজার সমর্থককে আটক করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লির জনপথ ও কর্তব্যপথের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলের চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের এলাকায় সাময়িকভাবে মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মধ্য দিল্লিতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া শুক্রবার কিছু দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল এবং ৫০টির বেশি মেট্রো স্টেশন বন্ধ থাকার খবরও প্রকাশিত হয়েছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেছে, কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেও দিল্লি পুলিশের উচিত শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার নিশ্চিত করা।

আন্দোলনের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ

প্রথম দফার আন্দোলনে অংশ নেওয়া ১৯ বছর বয়সী দিল্লির ভিডিও সম্পাদক মুসকান সিএনএনকে জানিয়েছেন, শুরুতে বন্ধুদের সঙ্গে বিক্ষোভে গেলেও সেখানে গিয়ে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং এর প্রভাব সম্পর্কে আরও জানতে পেরেছিলেন। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে তিনি সন্তুষ্ট হলেও আন্দোলন দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ায় কিছুটা হতাশ ছিলেন।

এবারের আন্দোলনে সিজেপির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা ও তরুণদের অংশগ্রহণকে কীভাবে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক চাপে রূপ দেওয়া যায়। শিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সফলতার পর নির্বাচন কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে তাদের নতুন কর্মসূচি কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখন দেখার বিষয়।

সূত্র: সিএনএন, বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বিবৃতি।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেছে, কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেও দিল্লি পুলিশের উচিত শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার নিশ্চিত করা।

#ভারত #জেনজি #নির্বাচনকমিশন #রাজনীতি