odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Sunday, 11th October 2026, ১১th October ২০২৬
ধলেশ্বরী ও শীতলক্ষ্যা নদীর মোহনার সৌন্দর্য কাজে লাগিয়ে অবকাশকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ; হাঁটার পথ, আলোকসজ্জা, সবুজায়ন ও শিশুদের বিনোদনে গুরুত্ব

মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাটে আধুনিক পর্যটনকেন্দ্র গড়ার পরিকল্পনা, উচ্ছেদ ৩২ অবৈধ স্থাপনা

odhikarpatra | প্রকাশিত: ১০ October ২০২৬ ১৯:৫৯

odhikarpatra
প্রকাশিত: ১০ October ২০২৬ ১৯:৫৯

নিজস্ব প্রতিবেদক | অধিকারপত্র ডটকম

ধলেশ্বরী ও শীতলক্ষ্যা নদীর মোহনার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাট এলাকায় আধুনিক ও নান্দনিক পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার অপার সম্ভাবনা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে শহরবাসীর বিকেল ও অবসর কাটানোর অন্যতম জায়গা হিসেবে পরিচিত এ এলাকাকে পরিকল্পিত বিনোদনকেন্দ্রে রূপ দিতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নদীতীরের সৌন্দর্য সংরক্ষণ, নিরাপত্তা, আলোকসজ্জা, সবুজায়ন ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে স্থানীয় পর্যটনের পাশাপাশি কর্মসংস্থানেরও নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

নদীর সৌন্দর্যে প্রতিদিন ছুটছেন শত শত মানুষ

মুন্সীগঞ্জ জেলা শহরের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ধলেশ্বরী নদী। নদীর নৈসর্গিক পরিবেশ এবং বড় বড় লঞ্চের চলাচল দেখতে প্রতিদিন শহর ও আশপাশের এলাকার মানুষ ছুটে আসেন লঞ্চঘাটে।

শহরে পরিবার নিয়ে অবসর কাটানোর মতো উন্মুক্ত বিনোদনস্থল সীমিত হওয়ায় বিকেল হলেই নদীতীরের এ এলাকায় মানুষের সমাগম বাড়ে। শিশু, শিক্ষার্থী, তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে এখানে সময় কাটান।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, লঞ্চঘাট ও এর দুই পাশের বেড়িবাঁধ ঘেঁষে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় প্রতিদিন কয়েক হাজার দর্শনার্থীর সমাগম হয়। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটি শহরবাসীর অনানুষ্ঠানিক বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

তবে পরিকল্পিত অবকাঠামো, নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধার অভাবে এলাকাটির পর্যটন সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।

দখলমুক্ত হয়েছে ৩২টি অবৈধ স্থাপনা

দীর্ঘদিন ধরে মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাট এলাকার বিভিন্ন অংশ দখলে ছিল। স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান, জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে এলাকাটি দখলমুক্ত করা হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান বাসসকে বলেন, লঞ্চঘাট এলাকায় ৩২টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে দখলদারদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। নদীর স্বাভাবিক পরিবেশ ও সৌন্দর্য অক্ষুণ্ন রেখে এলাকাটির উন্নয়ন করা হবে।

তিনি বলেন, ধলেশ্বরী নদী ও আশপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কাজে লাগিয়ে এখানে পরিকল্পিত পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে নদীকেন্দ্রিক পর্যটনের বিকাশের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

আধুনিক অবকাশকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা

মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী জানান, দীর্ঘদিন বেদখলে থাকা লঞ্চঘাট এলাকার জায়গা দখলমুক্ত হওয়ায় সেখানে পরিকল্পিত ও নান্দনিক অবকাশকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, পর্যটনকেন্দ্র নির্মাণ করা গেলে মুন্সীগঞ্জ শহরের সৌন্দর্য বাড়বে এবং স্থানীয় পর্যটনের বিকাশ ঘটবে। ধলেশ্বরী নদীর পাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য কাজে লাগিয়ে হাঁটাচলা, বসার স্থান ও বিনোদনের ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

পরিকল্পিতভাবে অবকাশকেন্দ্র নির্মিত হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি আশপাশের এলাকার দর্শনার্থীদের জন্যও এটি আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠতে পারে।

 নিরাপত্তা, আলোকসজ্জা ও শিশুদের বিনোদনে গুরুত্ব

মুন্সীগঞ্জ নাগরিক সমন্বয় পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সুজন হালদার জনি বলেন, শহরে বিনোদন ও অবকাশ যাপনের জন্য উন্মুক্ত জায়গার অভাব রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ধলেশ্বরী নদীর প্রাকৃতিক পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে নদীকেন্দ্রিক পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, দখলমুক্ত জায়গায় পরিকল্পিত অবকাশকেন্দ্র গড়ে তোলার পাশাপাশি নদীতীরে বসার ও চলাচলের সহজ ব্যবস্থা, আলোকসজ্জা, সবুজায়ন এবং প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা যুক্ত করা দরকার। এতে শহরের সৌন্দর্য বাড়ার পাশাপাশি নাগরিকদের বিনোদনের সুযোগও সম্প্রসারিত হবে।

লঞ্চঘাট এলাকায় পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা প্রধান শিক্ষক মো. মাহবুবুর রহমানও পরিকল্পিত বিনোদনকেন্দ্র নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দেন।

তিনি বলেন, নদীতীরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শিশুদের বিনোদনের ব্যবস্থা করা গেলে এলাকাটি শহরবাসীর প্রধান বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। পাশাপাশি পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে।

 প্রবেশমুখে আধুনিক তোরণ নির্মাণের উদ্যোগ

মুন্সীগঞ্জ শহরের প্রবেশমুখ হিসেবে পরিচিত লঞ্চঘাট এলাকায় আধুনিক তোরণ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ পৌর প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মৌসুমী মাহবুব জানান, লঞ্চঘাট এলাকায় একটি তোরণ নির্মাণের জন্য পৌরসভার পক্ষ থেকে প্রকল্প তৈরি করে অনুমোদনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

অনুমোদন পাওয়া গেলে সেখানে আধুনিক তোরণ নির্মাণ করা হবে। এতে শহরের প্রবেশমুখের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পর্যটন বিকাশে প্রয়োজন সমন্বিত পরিকল্পনা

মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাটকে পর্যটনকেন্দ্রে রূপান্তর করতে শুধু অবকাঠামো নির্মাণই যথেষ্ট নয়। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশ রক্ষা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা, যানবাহন চলাচল, পরিচ্ছন্নতা এবং দর্শনার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।

পরিকল্পিত হাঁটার পথ, বসার জায়গা, সবুজায়ন, শিশুদের বিনোদন এবং নদীর দৃশ্য উপভোগের নিরাপদ ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে এলাকাটি পরিবারকেন্দ্রিক পর্যটনের উপযোগী হয়ে উঠতে পারে।

একই সঙ্গে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসা, খাবারের দোকান, পরিবহন ও অন্যান্য পর্যটনসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে উন্নয়ন কার্যক্রমে নদীতীরের পরিবেশ ও জনসাধারণের অবাধ প্রবেশাধিকার সংরক্ষণ করা জরুরি।

সব মিলিয়ে, ধলেশ্বরী ও শীতলক্ষ্যা নদীর মোহনার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে ঘিরে মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাটে পরিকল্পিত পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শহরবাসীর বিনোদনের নতুন জায়গা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।