odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Sunday, 11th October 2026, ১১th October ২০২৬
জাতীয় প্রেসক্লাবে শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদের ৩৬তম শাহাদাতবার্ষিকীর স্মরণসভায় বক্তব্য; দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান

শহীদ জেহাদের আত্মত্যাগ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রেরণা: রুহুল কবির রিজভী

odhikarpatra | প্রকাশিত: ১০ October ২০২৬ ২০:০৭

odhikarpatra
প্রকাশিত: ১০ October ২০২৬ ২০:০৭

নিজস্ব প্রতিবেদক | অধিকারপত্র ডটকম

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদসহ স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামে আত্মদানকারীদের ত্যাগ জাতির জন্য চিরন্তন প্রেরণার উৎস বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিকাশ, স্বাধীন বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশনের কার্যকর স্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রত্যাশা নিয়ে শহীদ জেহাদসহ অসংখ্য মানুষ জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।

শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের শহীদ নাজির উদ্দিন জেহাদের ৩৬তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শহীদ জেহাদ স্মৃতি পরিষদের সভাপতি আমান উল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন, সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, সাবেক সংসদ সদস্য নাজিমুদ্দিন আলম, হাবিবুর রহমান হাবিব ও খন্দকার লুৎফর রহমান বক্তব্য দেন। সভা সঞ্চালনা করেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন।

 স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে জেহাদের আত্মত্যাগ

রুহুল কবির রিজভী বলেন, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থেকে আন্দোলনের কর্মসূচিতে অংশ নিতে এসে স্বৈরাচারী সরকারের গুলিতে প্রাণ হারান নাজির উদ্দিন জেহাদ। তাঁর আত্মত্যাগ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনকে আরও বেগবান করেছিল এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে নতুন প্রেরণা জুগিয়েছিল।

তিনি বলেন, ১৯৯০ সালের ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তৎকালীন স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পতন ঘটে। ওই আন্দোলনে শহীদ জেহাদ, ডা. শামসুল আলম খান মিলনসহ অসংখ্য ছাত্রনেতা ও আন্দোলনকর্মী জীবন উৎসর্গ করেন। বিভিন্ন সময়ে আত্মদানকারী জাফর, জয়নাল, হারুন ও মোজাম্মেলের মতো ছাত্রনেতাদের ত্যাগও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে প্রেরণার বাতিঘর হয়ে রয়েছে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে বিজয়ের পরও দেশে বারবার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করার চেষ্টা করা হয়েছে। তারপরও শহীদদের আত্মত্যাগ পরবর্তী প্রজন্মের আন্দোলন-সংগ্রামে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রেরণা জুগিয়েছে।

জুলাইয়ের আন্দোলনও দীর্ঘ সংগ্রামের ধারাবাহিকতা

রিজভী বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলন ও ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রামের ধারাবাহিকতার অংশ। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে মানুষের আত্মত্যাগ পরবর্তী সংগ্রামগুলোকে অনুপ্রাণিত করেছে।

তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের প্রতিকূলতা, শারীরিক অসুস্থতা ও কারাবাসের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রশ্নে তিনি দৃঢ় অবস্থান বজায় রেখেছিলেন। পরবর্তী সময়ে তারেক রহমানও একই ধারায় আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন।

২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলনে প্রাণ হারানো শহীদ সাঈদ, ওয়াসিম আকরাম, মুগ্ধ ও আহনাফসহ অন্যদের আত্মত্যাগের কথাও স্মরণ করেন রিজভী।

 দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান

অতীতের দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রসঙ্গ তুলে ধরে রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেন, স্বৈরাচারী শাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ, অর্থ পাচার, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরির ঘটনাও উল্লেখ করেন তিনি।

রিজভীর দাবি, স্বৈরাচারী শাসনের অবসান হলেও প্রশাসন ও সমাজের বিভিন্ন স্তরে তাঁদের সহযোগীরা রয়ে গেছেন। দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে।

তিনি অতীতে একজন শিক্ষামন্ত্রীর ‘সহনীয় পর্যায়ে দুর্নীতি করা যাবে’—এমন মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রশাসনে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়ার মানসিকতার সমালোচনা করেন। হবিগঞ্জের চুনারুঘাটের একজন পুলিশ কর্মকর্তার দুর্নীতি নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনার প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন তিনি।

রিজভী বলেন, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিলে জনগণ তা সমর্থন করবে।

সরকারের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত না করার আহ্বান

সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, প্রবাসী কার্ড ও হেলথ কার্ডের মতো উদ্যোগ বাস্তবায়ন এবং বন্ধ কারখানাগুলো সচল করার প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা প্রতিহত করতে হবে।

দেশের উন্নয়ন, উৎপাদন ও অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে এসব অপতৎপরতার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা রক্ষায় স্বৈরাচারী শক্তির পুনরুত্থানের চেষ্টা প্রতিহত করা জরুরি। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

দুর্গাপূজায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার আহ্বান

আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, বাংলাদেশে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক সম্প্রীতির মধ্যে বসবাস করে আসছে। ঈদ, পূজা ও অন্যান্য ধর্মীয় উৎসবে একে অপরের অংশগ্রহণ দেশের ঐতিহ্যের অংশ।

তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের জন্য পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

রিজভীর বক্তব্যে শহীদদের আত্মত্যাগের স্মৃতি সংরক্ষণ, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।