*ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি | অধিকারপত্র ডটকম
খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক অভিযোগ করেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে ক্ষমতায় আসা বর্তমান সরকার তাঁদের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তিনি বলেছেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে জুলাই বিপ্লব ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।
শনিবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পৌর মুক্তমঞ্চে আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তেল-গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের দাবি
মামুনুল হক বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রধান দুটি আকাঙ্ক্ষা ছিল বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রে নতুন করে ফ্যাসিবাদের উত্থান ঠেকানো। রাষ্ট্র ও সমাজের সব ক্ষেত্রে বৈষম্য ও অবিচার দূর করে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে দেশ পরিচালনার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
তিনি বলেন, সরকার, প্রশাসন ও রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ে দলীয় পরিচয় কিংবা রাজনৈতিক আনুগত্যের পরিবর্তে যোগ্যতাকে প্রাধান্য দিতে হবে। নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রেও মেধা ও দক্ষতাকে ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।
খেলাফত মজলিসের আমির আরও বলেন, পুরোনো ফ্যাসিবাদের পতনের পর রাষ্ট্রক্ষমতায় নতুন কোনো ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার জন্ম যেন না হয়, সে জন্য কার্যকর সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার প্রয়োজন।
‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব
মামুনুল হক বলেন, বৈষম্যহীন ও ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য সামনে রেখে ৩৩টি রাজনৈতিক দল দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় সনদ প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রণীত এ সনদের নাম ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’।
তিনি সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে বলেন, সংসদ নির্বাচন ছিল সরকার গঠনের জন্য, আর গণভোট ছিল রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে জনগণের মতামত নেওয়ার জন্য।
মামুনুল হকের দাবি, নির্বাচনে বিএনপি ও তার সহযোগীরা প্রায় ৫০ শতাংশ ভোট পেয়েছে এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের হার ছিল প্রায় ৭০ শতাংশ। তাঁর মতে, এই ফলাফল রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে জনগণের সুস্পষ্ট আকাঙ্ক্ষা তুলে ধরে।
সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে বিএনপির সমালোচনা
মামুনুল হক অভিযোগ করেন, গণভোটে জনগণের রায়কে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
তিনি এ অবস্থানের সমালোচনা করে বলেন, জনগণ রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে মত দেওয়ার পরও সেই রায় বাস্তবায়নে অনীহা দেখানো হলে তা গণ-আকাঙ্ক্ষার প্রতি অবজ্ঞা হিসেবে বিবেচিত হবে।
সমাবেশে তিনি বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, লুটপাট ও চাঁদাবাজির সুযোগ সৃষ্টি এবং জ্বালানি খাতকে দুর্বল করে দেওয়ার অভিযোগও তোলেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এসব বক্তব্য ছিল তাঁর রাজনৈতিক অভিযোগ ও মূল্যায়ন।
শহীদদের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরলেন মামুনুল হক
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পেছনে বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত আন্দোলন ও সহিংসতায় নিহত ব্যক্তিদের আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরে মামুনুল হক বলেন, বহু মানুষের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত পরিবর্তন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে ব্যবহার করা যাবে না।
তিনি শাপলা চত্বরের ঘটনা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিভিন্ন সময়ে নিহত ব্যক্তিদের এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনে কওমি ও আলিয়া মাদ্রাসার আলেম-ওলামা, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং তরুণদের আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করেন।
মামুনুল হক বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও পরিবর্তনের জন্য মানুষের আত্মত্যাগের উদ্দেশ্য ছিল না বাংলাদেশকে কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি কিংবা কোনো গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে তুলে দেওয়া।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, গণভোটের রায় কার্যকর করা না হলে জুলাই বিপ্লবের মূল লক্ষ্য ব্যাহত হবে এবং একপর্যায়ে তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হতে পারে।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন যারা
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা খন্দকার আব্দুল আজিজের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন দলটির যুগ্ম মহাসচিব আতাউল্লাহ আমিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মুহসিনুল হক, জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক তাজুল ইসলাম কাসেমী এবং জেলা জামায়াতের আমির মোবারক হোসেন আখন্দসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
‘গণভোটের রায় কার্যকর না হলে জুলাই বিপ্লব ব্যর্থ হবে’—ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মামুনুল হক
#মামুনুলহক #জুলাইবিপ্লব #গণভোট #জুলাইজাতীয়সনদ #খেলাফতমজলিস #ব্রাহ্মণবাড়িয়া #রাজনীতি #অধিকারপত্রডটকম
