odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Thursday, 15th October 2026, ১৫th October ২০২৬
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ঘিরে মামলা, পৃথক অভিযোগে ১২ বছর ৬ মাসের বেশি কারাদণ্ড; আপিলের সুযোগ রয়েছে

মহানবীকে অবমাননার অভিযোগে ইরানি তরুণীর মৃত্যুদণ্ড

odhikarpatra | প্রকাশিত: ১৫ October ২০২৬ ০১:০৮

odhikarpatra
প্রকাশিত: ১৫ October ২০২৬ ০১:০৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | অধিকারপত্র ডটকম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননার অভিযোগে ইরানের ২৩ বছর বয়সী তরুণী নাজমেহ আমিনিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। একই সঙ্গে পৃথক মামলায় বিভিন্ন অভিযোগে তাঁকে ১২ বছরের বেশি কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম *দ্য গার্ডিয়ান*।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্রকাশিত গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাজমেহ আমিনি ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদের বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে শহরটির ভাকিলাবাদ কারাগারে বন্দি রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে মহানবীকে অবমাননার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে। তবে রায়টি চূড়ান্ত নয়; এর বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ রয়েছে।

 সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় গ্রেপ্তার

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর নাজমেহকে গ্রেপ্তার করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের পর দেশটির সাইবার পুলিশ তাঁকে আটক করে বলে মানবাধিকারকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে।

তবে তাঁকে ঠিক কোন তারিখে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভিন্ন তথ্য রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারবিরোধী বক্তব্য প্রচার এবং জাতীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট অভিযোগও আনা হয়েছে।

 আদালতে কী বলেছিলেন নাজমেহ?

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাজমেহের বিরুদ্ধে মহানবীকে অবমাননার অভিযোগে ইরানের অপরাধ আদালতে বিচার হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

নাজমেহের আইনজীবীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট বক্তব্য ইচ্ছাকৃতভাবে দেওয়া হয়নি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাদকজাতীয় পদার্থের প্রভাবে তাঁর কাছ থেকে ওই বক্তব্য প্রকাশিত হয়েছিল বলে আত্মপক্ষ সমর্থনে যুক্তি দেওয়া হয়। তবে আদালত সেই যুক্তি গ্রহণ করেননি।

অভিযোগের বিষয়ে তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের সম্পূর্ণ বিষয়বস্তু প্রকাশ্যে এসেছে কি না, তা নিয়েও প্রতিবেদনটিতে সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

পৃথক মামলায় ১২ বছরের বেশি কারাদণ্ড

মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি পৃথক মামলায় জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ড এবং সরকারবিরোধী প্রচারণার অভিযোগে নাজমেহকে ১২ বছর, ছয় মাস ও এক দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে গার্ডিয়ান জানিয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ ধরনের মামলায় মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, কঠোর দণ্ডের মাধ্যমে সরকারবিরোধী মতপ্রকাশ ও ভিন্নমত দমনের প্রবণতা আরও বাড়তে পারে।

 কী বলছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো?

ইরান হিউম্যান রাইটসসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন দেশটিতে মৃত্যুদণ্ডের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। সংগঠনগুলোর মতে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তির যথাযথ আইনি সুরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নাজমেহ আমিনির মামলায়ও আপিলের সুযোগ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এবং আপিলের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

**সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, ১৪ অক্টোবর ২০২৬।**