*নিজস্ব প্রতিবেদক | অধিকারপত্র ডটকম
কুমিল্লা নগরীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় দলের মহানগরী কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর এবং কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় দলীয় কার্যালয়ের সামনে থাকা মহানগর জামায়াতের শহর সেক্রেটারের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে নগরীর গাংচর এলাকায় ফারুকী হাউসের সামনে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
মহানগর কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধ
দলীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের নতুন কমিটি গঠন নিয়ে কয়েক দিন ধরে শীর্ষ নেতাদের মধ্যে মতবিরোধ চলছিল। বুধবার সন্ধ্যায় দলীয় কার্যালয়ে কমিটি গঠন নিয়ে বৈঠক চলাকালে সেই বিরোধ প্রকাশ্যে আসে।
দলীয় সূত্রগুলো বলছে, বর্তমান সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমান নতুন কমিটিতে আমির হতে পারেন—এমন আলোচনা ও গুঞ্জনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।
সূত্রের দাবি, বুধবার রাতেই নতুন কমিটি গঠনের ভোট গ্রহণের সম্ভাবনা ছিল। এ নিয়ে চলমান বৈঠকে সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমান তাঁর অনুসারীদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী পক্ষের কয়েকজন দলীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করে হামলা, গাড়ি ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান বলে অভিযোগ উঠেছে।
তবে সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয়, উভয় পক্ষের ভূমিকা এবং হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
দলীয় নেতাদের বক্তব্য
ঘটনার বিষয়ে জানতে মহানগর জামায়াতের সহ-সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এটা আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমরা মিডিয়ায় ব্রিফিং দেব। আমাদের মিটিং চলছে।’
এলাকায় পুলিশ মোতায়েন
সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণের পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ।
এ ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ, কোনো মামলা হয়েছে কি না এবং কাউকে আটক করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পুলিশি তদন্ত ও দলীয় আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের পর সংঘর্ষের কারণ এবং দায়ীদের বিষয়ে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
