odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Friday, 16th October 2026, ১৬th October ২০২৬
ভেরিফিকেশন ই যদি বাদ পড়ি তাহলে সেই ভেরিফিকেশন আগেই করতো৷ ৫ টি বছর ধরে প্রতিটি দিন অপেক্ষার প্রহর গুনেছি। আমার ৫ টি বছর নষ্ট হয়ে গেলো। এই দিনগুলো ফিরিয়ে দেয়া সম্ভব কি?

৪৫তম বিসিএসে স্বাস্থ্য ক্যাডার এ সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও কেন ভেরিফিকেশন বাদ পরলাম তা জানার অধিকার আছে কি আমার?

odhikarpatra | প্রকাশিত: ১৬ October ২০২৬ ২১:০৩

odhikarpatra
প্রকাশিত: ১৬ October ২০২৬ ২১:০৩

পাঁচ বছরের অপেক্ষার পরও ৪৫তম বিসিএসের গেজেটে নাম নেই চিকিৎসক কুশল দাসের, প্রশ্ন—‘আমার অপরাধ কী?’

 

নিজস্ব প্রতিবেদক | অধিকারপত্র ডটকম

দিনাজপুর সদর এলাকার চিকিৎসক কুশল দাস। একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হিসেবে তাঁর চিকিৎসক হয়ে ওঠার পেছনে রয়েছে বাবা-মায়ের দীর্ঘদিনের সংগ্রাম, ত্যাগ আর অসংখ্য স্বপ্ন। চিকিৎসক হওয়ার পর তাঁর প্রত্যাশা ছিল, বিসিএসের মাধ্যমে সরকারি স্বাস্থ্য ক্যাডারে যোগ দিয়ে মানুষের সেবা করবেন, বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফোটাবেন এবং নিজের পরিবারের ভবিষ্যৎ কিছুটা নিরাপদ করবেন।

কিন্তু ৪৫তম বিসিএসের স্বাস্থ্য ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও চূড়ান্ত গেজেটে নিজের নাম না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। দীর্ঘ পাঁচ বছরের অপেক্ষা, প্রস্তুতি ও অনিশ্চয়তার পর এমন পরিণতি তাঁকে হতাশা ও মানসিক কষ্টের মধ্যে ফেলেছে।

এখন তাঁর মনে একটাই প্রশ্ন—কী কারণে তাঁকে চূড়ান্ত গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হলো না?

অধিকার পত্র ডটকমের কাছে পাঠানো নিজের বক্তব্যে চিকিৎসক কুশল দাস জানিয়েছেন, তিনি কখনো ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তাঁর জানামতে, সরকারবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডেও তিনি জড়িত ছিলেন না। তাহলে তাঁর নিয়োগের ক্ষেত্রে কী সমস্যা দেখা দিয়েছে, তা স্পষ্টভাবে জানতে চান তিনি।

 বাবা-মায়ের ত্যাগে চিকিৎসক, স্বপ্ন ছিল সরকারি চাকরি

কুশল দাসের শিক্ষাজীবন কেটেছে দিনাজপুর ও সিলেটে। তিনি দিনাজপুর জিলা স্কুল থেকে পড়াশোনা করেছেন। এরপর দিনাজপুর সরকারি কলেজে অধ্যয়ন করেন এবং সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রে শিক্ষা গ্রহণ করেন বলে জানিয়েছেন।

একজন চিকিৎসক হয়ে ওঠার পেছনে বাবা-মায়ের অবদানের কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, তাঁর বাবা নিজের সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে অনেক কষ্ট করে তাঁকে চিকিৎসক বানিয়েছেন। তাঁর পড়াশোনার পেছনে শুধু অর্থ ব্যয় হয়নি; ব্যয় হয়েছে বাবার জীবনের দীর্ঘদিনের শ্রম, স্বপ্ন ও প্রত্যাশা। অন্যদিকে, মায়েরও ছিল নির্ঘুম রাত আর সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে অসংখ্য দুশ্চিন্তা।

কুশলের ভাষায়, বাবা-মা শুধু তাঁর আর্থিক সচ্ছলতা চাননি। তাঁরা চেয়েছেন, তাঁদের সন্তান নিজের পায়ে দাঁড়াক, সম্মানের সঙ্গে জীবন যাপন করুক, মানুষের সেবা করুক এবং তাঁদের দীর্ঘদিনের কষ্টের কিছুটা প্রতিদান দিক।

সেই স্বপ্ন থেকেই চিকিৎসক হওয়ার পর সরকারি স্বাস্থ্য ক্যাডারে যোগ দেওয়ার প্রত্যাশা তৈরি হয় তাঁর। ৪৫তম বিসিএস ছিল সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

অসুস্থতা ও মানসিক চাপের মধ্যেও লড়াই

বিসিএসের দীর্ঘ প্রস্তুতির সময় যে মানসিক চাপ ও শারীরিক কষ্টের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, তা-ও তুলে ধরেছেন কুশল দাস।

তিনি জানান, মৌখিক পরীক্ষার আগেও তিনি গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছিলেন। শারীরিক অসুস্থতা ও মানসিক চাপ সামলে প্রস্তুতি চালিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। এমন দিনও গেছে, যখন পড়ার টেবিলে বসে কান্না করেছেন।

অনেক পরিশ্রম, আশা ও অপেক্ষার পর বিসিএসে সফল হওয়ার খবর পেয়ে তাঁর মনে হয়েছিল, এবার হয়তো বাবা-মায়ের মুখে সত্যিকারের হাসি ফোটাতে পারবেন। পরিবারের দীর্ঘদিনের সংগ্রামের পর একটি স্থিতিশীল জীবনের পথে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও আশা করেছিলেন তিনি।

কিন্তু চূড়ান্ত গেজেটে নাম না থাকায় সেই প্রত্যাশা এখন অনিশ্চয়তায় পরিণত হয়েছে।

 চিকিৎসক স্ত্রীর ত্যাগ, পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়েও দুশ্চিন্তা

কুশল দাসের স্ত্রীও একজন চিকিৎসক। তাঁর দাবি, স্বামীর বিসিএস প্রস্তুতির সময় স্ত্রী নিজের অনেক শখ-আহ্লাদ বিসর্জন দিয়ে তাঁকে সহযোগিতা করেছেন, যাতে পড়াশোনায় কোনো ব্যাঘাত না ঘটে।

দুজন চিকিৎসক হিসেবে তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন ছিল। ছিল পরিবারকে ঘিরে দায়িত্ব, একটি সুন্দর ও স্থিতিশীল জীবন গড়ে তোলার প্রত্যাশা এবং বাবা-মাকে নিশ্চিন্ত করার আকাঙ্ক্ষা।

কুশল বলেন, একজন স্বামী হিসেবে পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, ভবিষ্যৎ নিয়ে পরিকল্পনা করা এবং বাবা-মাকে কিছুটা নিশ্চিন্ত করা তাঁর দায়িত্ব। কিন্তু নিয়োগের অনিশ্চয়তা সেই পরিকল্পনাগুলোকে কঠিন করে তুলেছে।

একটি চাকরির প্রত্যাশা তাঁর কাছে কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যের বিষয় ছিল না; এর সঙ্গে জড়িয়ে ছিল বাবা-মায়ের দীর্ঘদিনের ত্যাগের স্বীকৃতি, স্ত্রীর সহযোগিতার মর্যাদা এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ।

‘আমি বাংলাদেশের একজন নাগরিক—এটাই আমার সবচেয়ে বড় পরিচয়’

নিয়োগ থেকে বাদ পড়ার কারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে কুশল দাস বলেন, তাঁর জানামতে তিনি সরকারবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো কাজে কখনো যুক্ত ছিলেন না। তিনি কখনো ছাত্ররাজনীতিও করেননি বলে জানিয়েছেন।

তাঁর বক্তব্য, বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে নিজের যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারি চাকরিতে সুযোগ পাওয়ার প্রত্যাশা তাঁর ছিল। কিন্তু কেন তিনি চূড়ান্ত গেজেটে স্থান পেলেন না, সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চান তিনি।

কুশলের প্রশ্ন, ‘কী ভুলের জন্য, কী কারণে আমি গেজেটবঞ্চিত হলাম? ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নই কি আমার বড় ভুল ছিল, নাকি বিসিএস ক্যাডার হয়ে বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে চেয়েছিলাম—সেটাই আমার অন্যায় ছিল?’

তিনি আরও বলেন, যাচাই-বাছাইয়ের কারণে যদি তাঁকে বাদ দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে সেই প্রক্রিয়ায় বিষয়টি আগে স্পষ্ট করা যেত কি না, সে প্রশ্নও তাঁর রয়েছে।

তাঁর মতে, পাঁচ বছর ধরে প্রতিটি দিন অপেক্ষার মধ্য দিয়ে কেটেছে। এই সময়ের শ্রম, প্রস্তুতি ও মানসিক চাপ আর ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। তাই অন্তত তাঁকে বাদ দেওয়ার কারণটি জানানো হোক।

 সরকারের কাছে কুশল দাসের আকুল আবেদন

চিকিৎসক কুশল দাসের আবেদন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন তাঁর বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করে। কী কারণে তাঁকে চূড়ান্ত গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, তা স্পষ্টভাবে জানানো হোক। যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় কোনো ভুল বা অসংগতি থাকলে তা যথাযথভাবে পরীক্ষা করা হোক।

তিনি কোনো বিশেষ সুবিধা চান কি না, সে প্রশ্নের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—তাঁর নিয়োগ না হওয়ার পেছনে প্রকৃত কারণ কী, সেটি স্বচ্ছভাবে তুলে ধরা।

সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধি, যাচাই-বাছাইয়ের ফলাফল এবং সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তের ভিত্তি পরিষ্কার থাকা প্রয়োজন। কোনো প্রার্থী সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর চূড়ান্ত গেজেটে স্থান না পেলে তাঁর ক্ষেত্রে কী কারণ কার্যকর হয়েছে, তা জানার সুযোগ থাকা ন্যায়সংগত প্রত্যাশা।

তবে কুশল দাসের নিয়োগ না হওয়ার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁকে কেন গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

 একটি পরিবারের স্বপ্নের সঙ্গে জড়িয়ে আছে যে প্রশ্ন

দিনাজপুরের একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান থেকে চিকিৎসক হয়ে ওঠা—কুশল দাসের এই পথচলার পেছনে রয়েছে বহু বছরের অধ্যবসায় ও পরিবারের ত্যাগ। ৪৫তম বিসিএসের স্বাস্থ্য ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর তাঁর আশা ছিল, এবার সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়ে নিজের পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পরিবারের প্রতিও দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

কিন্তু গেজেটে নাম না থাকার পর সেই স্বপ্নের সামনে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

অধিকার পত্র ডটকমের মাধ্যমে সরকারের নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁর আবেদন—তাঁর বিষয়টি মানবিকতা, স্বচ্ছতা ও ন্যায়সংগত বিবেচনায় পর্যালোচনা করা হোক। তাঁকে বাদ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো হোক এবং কোনো ভুল পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

একজন চিকিৎসকের কাছে সরকারি চাকরি শুধু জীবিকার নিশ্চয়তা নয়; মানুষের সেবা করার একটি বড় সুযোগও। পাঁচ বছরের অপেক্ষার পর কুশল দাসের প্রশ্নের উত্তর পাওয়া জরুরি—কেন তিনি চূড়ান্ত গেজেটে স্থান পেলেন না?

বাবা-মায়ের ত্যাগ, স্ত্রীর সহযোগিতা আর নিজের দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের স্বীকৃতি প্রত্যাশা করে তিনি এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যার অপেক্ষায়।

অধিকারপত্র ডটকম এর মানবিক প্রতিবেদন এর মাধ্যমে কুশল দাশ সরকারের নীতি নির্ধারকদের কাছে আবেদন 

৪৫তম বিসিএসের গেজেটে নাম নেই চিকিৎসক কুশল দাসের, জানতে চান বাদ পড়ার কারণ

স্বাস্থ্য ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্তির দাবি চিকিৎসক কুশল দাসের; পাঁচ বছরের অপেক্ষার পর নিয়োগ না পেয়ে নিরপেক্ষ পর্যালোচনা ও স্পষ্ট ব্যাখ্যার আবেদন