odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Saturday, 24th October 2026, ২৪th October ২০২৬
।২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ব্রাজিলে সর্বোচ্চ ৭০.৮২ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি; চিলি ও পেরুও বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ বাজার।

দক্ষিণ আমেরিকার ১১ বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি ১৯৫.১৭ মিলিয়ন ডলার

odhikarpatra | প্রকাশিত: ২৪ October ২০২৬ ২২:০৫

odhikarpatra
প্রকাশিত: ২৪ October ২০২৬ ২২:০৫

করপোরেট প্রতিনিধি  | |অধিকারপত্র ডটকম

 ২৪ অক্টোবর ২০২৬

দক্ষিণ আমেরিকার ১১টি দেশে চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই–সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ থেকে মোট ১৯৫.১৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। প্রচলিত রপ্তানি বাজারের বাইরে নতুন বাজার সম্প্রসারণের প্রচেষ্টার মধ্যে এ অঞ্চলে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা সামনে এসেছে।

 রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যের বরাতে এ পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ আমেরিকায় বাংলাদেশের রপ্তানির ক্ষেত্রে ব্রাজিল, চিলি ও পেরু শীর্ষ তিন গন্তব্য।

কোন দেশে কত রপ্তানি?

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা ছয়টি দেশের রপ্তানি আয়ের পরিমাণ নিচে দেওয়া হলো।

| দেশ | রপ্তানি আয় |
| ------------- | ------------------ |
| ব্রাজিল | ৭০.৮২ মিলিয়ন ডলার |
| চিলি | ৫১.৮৭ মিলিয়ন ডলার |
| পেরু | ২৪.২৪ মিলিয়ন ডলার |
| কলম্বিয়া | ১৮.০৫ মিলিয়ন ডলার |
| উরুগুয়ে | ১১.৬৩ মিলিয়ন ডলার |
| আর্জেন্টিনা | ১০.২৮ মিলিয়ন ডলার |
| মোট ১১ বাজারে | ১৯৫.১৭ মিলিয়ন ডলার |

, ইপিবির তথ্যের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদন। ছয়টি দেশের পরিমাণ যোগ করলে মোট রপ্তানি আয়ের পুরো অঙ্ক পাওয়া যায় না; বাকি পাঁচটি বাজারের পৃথক পরিসংখ্যান ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।

 ব্রাজিল, চিলি ও পেরুতে বড় বাজারের সম্ভাবনা

তিনটি শীর্ষ বাজারের মধ্যে ব্রাজিলের অবস্থান প্রথম। দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ৭০.৮২ মিলিয়ন ডলার। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা চিলিতে রপ্তানি হয়েছে ৫১.৮৭ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। আর পেরুতে রপ্তানির পরিমাণ ২৪.২৪ মিলিয়ন ডলার।

এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, দক্ষিণ আমেরিকার বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের বাণিজ্যিক উপস্থিতি রয়েছে। তবে রপ্তানি আয় বাড়াতে হলে বাজারের চাহিদা, পণ্যের মান, মূল্য প্রতিযোগিতা এবং ক্রেতাদের পছন্দ সম্পর্কে আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে হবে।

 তৈরি পোশাকের পাশাপাশি অন্য পণ্যেও গুরুত্ব

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ আমেরিকায় বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের মধ্যে তৈরি পোশাকের আধিপত্য রয়েছে। তবে রপ্তানি বহুমুখীকরণের জন্য পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য, গৃহসজ্জার সামগ্রী, হস্তশিল্প এবং জীবনধারাসংশ্লিষ্ট পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের সুযোগও রয়েছে।

এ লক্ষ্যে ব্রাজিলের সাও পাওলোতে ১১ থেকে ১৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত ‘হোম শো ব্রাজিল ২০২৬’-এ অংশ নেয় বাংলাদেশ। ইপিবির আর্থিক সহায়তা ও ব্রাসিলিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত প্রদর্শনীতে চারটি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়।

প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—

* জিহান প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ

* মাদার ট্যানারি

* রেইনবো জুট

* ক্লাসিক্যাল হ্যান্ডমেড প্রোডাক্টস

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানগুলো পাঁচটি বুথে পাটজাত পণ্য, ব্যাগ, চামড়াজাত সামগ্রী, প্রাকৃতিক তন্তুর ঝুড়ি, গৃহসজ্জার পণ্য, বাঁশের সামগ্রী, টেরাকোটা, মাটির পণ্য ও নকশিকাঁথা প্রদর্শন করে।

 রপ্তানি বহুমুখীকরণ কেন গুরুত্বপূর্ণ?

বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের বড় অংশ তৈরি পোশাকনির্ভর এবং ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার মতো প্রচলিত বাজারের ওপর নির্ভরতা রয়েছে। নতুন বাজারে প্রবেশ এবং নতুন ধরনের পণ্য রপ্তানি বাড়াতে পারলে নির্দিষ্ট কয়েকটি বাজার বা পণ্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

তবে শুধু প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করলেই দীর্ঘমেয়াদি রপ্তানি বৃদ্ধি নিশ্চিত হয় না। সম্ভাব্য ক্রেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, প্রতিযোগিতামূলক মূল্য, পণ্যের মান বজায় রাখা এবং বাজারভিত্তিক বিপণন কৌশল গুরুত্বপূর্ণ।

সারকথা: ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে দক্ষিণ আমেরিকার ১১টি বাজারে ১৯৫.১৭ মিলিয়ন ডলারের রপ্তানি বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ভিত্তি। এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো এই বাজারে রপ্তানির পরিমাণ ধরে রাখা, নতুন ক্রেতা তৈরি করা এবং তৈরি পোশাকের বাইরেও অন্যান্য পণ্যের বিক্রি বাড়ানো।

 

 

 দক্ষিণ আমেরিকার ১১ দেশে বাংলাদেশের ১৯৫ মিলিয়ন ডলারের রপ্তানি, শীর্ষে ব্রাজিল

: #বাংলাদেশের_রপ্তানি #দক্ষিণআমেরিকা #রপ্তানি_আয় #ব্রাজিল #ইপিবি #অর্থনীতি #অধিকারপত্রডটকম