odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Wednesday, 4th November 2026, ৪th November ২০২৬
মেনজিস, সুইসপোর্ট, চেলেবি ও ডনাটার লড়াই; বিনিয়োগ ও কয়েক হাজার কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা

ঢাকার তৃতীয় টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব পেতে চার বিদেশি প্রতিষ্ঠানের প্রতিযোগিতা

odhikarpatra | প্রকাশিত: ৩ November ২০২৬ ২৩:৪৬

odhikarpatra
প্রকাশিত: ৩ November ২০২৬ ২৩:৪৬

অধিকারপত্র ডটকম, অনলাইন ডেক্স :

বিমানবন্দরে বিদেশি বিনিয়োগ, এক হাজারের বেশি কর্মসংস্থান ও যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা পরিচালনার দায়িত্ব পেতে প্রতিযোগিতায় নেমেছে চারটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান। যুক্তরাজ্যের মেনজিস এভিয়েশন, সুইজারল্যান্ডের সুইসপোর্ট, তুরস্কের চেলেবি এভিয়েশন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডনাটা প্রাথমিকভাবে সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা পেয়েছে।

এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং খাতে বিদেশি বিনিয়োগ, স্থানীয় কর্মসংস্থান এবং যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে চূড়ান্ত অপারেটর নির্বাচন ও লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়া এখনো বাকি।

 চার প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের প্রস্তাব

প্রতিযোগিতায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মেনজিস এভিয়েশন বাংলাদেশে ১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আধুনিক গ্রাউন্ড সাপোর্ট ইকুইপমেন্ট, প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও কর্মীদের প্রশিক্ষণে এই অর্থ ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে।

মেনজিসের প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি নির্বাচিত হলে এক হাজারের বেশি সরাসরি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে। এসব নিয়োগের প্রায় ৯৯ শতাংশ বাংলাদেশিদের মধ্য থেকে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি সরবরাহকারী, পরিবহন ও সহযোগী ব্যবসার মাধ্যমে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ঢাকায় একটি বিশেষায়িত এভিয়েশন প্রশিক্ষণ একাডেমি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে। 

সুইজারল্যান্ডের সুইসপোর্ট বিশ্বের বিভিন্ন বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা পরিচালনা করে আসছে। ঢাকার তৃতীয় টার্মিনালের দায়িত্ব পেতে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের রিদম গ্রুপের সঙ্গে কাজ করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডনাটা এমিরেটস গ্রুপের অংশ। ৩৫টি দেশে এভিয়েশন সেবা পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকলেও ঢাকায় সম্ভাব্য বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির নির্দিষ্ট পরিকল্পনা এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

অন্যদিকে তুরস্কের চেলেবি এভিয়েশন নির্বাচিত হলে বৈদ্যুতিক গ্রাউন্ড সাপোর্ট সরঞ্জামে বিনিয়োগ এবং এক হাজার থেকে দেড় হাজার স্থানীয় কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। প্রয়োজনে প্রাথমিক পর্যায়ে আন্তর্জাতিক কার্যক্রম থেকে সরঞ্জাম এনে কাজ শুরু করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

বিমানের একক আধিপত্যে আসতে পারে প্রতিযোগিতা

দীর্ঘদিন ধরে দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবায় রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের প্রাধান্য রয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় তৃতীয় টার্মিনালে বিমানের পাশাপাশি আরেকটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান যাত্রীবাহী গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা পরিচালনার সুযোগ পেতে পারে।

তবে পণ্য পরিবহন বা কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব বিমানের কাছেই থাকবে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের আওতায় যাত্রীদের লাগেজ ব্যবস্থাপনা, চেক-ইন কার্যক্রম, উড়োজাহাজে প্রয়োজনীয় সেবা, রানওয়ে ও অ্যাপ্রোনসংক্রান্ত কার্যক্রম এবং উড়োজাহাজের দ্রুত ওঠানামার প্রস্তুতি অন্তর্ভুক্ত।

 যাত্রীসেবার মান নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ

বিমানবন্দরে লাগেজ পেতে দেরি, উড়োজাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড সময় বেড়ে যাওয়া এবং গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই যাত্রীদের অভিযোগ রয়েছে।

সাবেক বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এম মফিদুর রহমান বলেছেন, শুধু আন্তর্জাতিক পরিচিতি বা প্রতিষ্ঠানের আকার বিবেচনা করে অপারেটর নির্বাচন করা উচিত নয়। সেবার মান ও কার্যক্ষমতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

তাঁর মতে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লাগেজ সরবরাহ, উড়োজাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড সময় এবং সামগ্রিক সেবার মান পরিমাপের জন্য সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা থাকতে হবে। চুক্তির শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জরিমানাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি

বেবিচকের অপারেশনস অ্যান্ড প্ল্যানিং বিভাগের সদস্য এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মাহবুব খান দ্য ডেইলি স্টারকে জানিয়েছেন, জাপানি কনসোর্টিয়ামের কাছ থেকে চার প্রতিষ্ঠানের নাম পাওয়া গেছে। বেবিচক এখন প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনসংক্রান্ত যোগ্যতা যাচাই করবে। এরপর মূল্যায়নের ফল কনসোর্টিয়ামকে জানানো হবে।

কনসোর্টিয়াম একটি প্রতিষ্ঠান চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে বেবিচকের কাছে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হবে। প্রস্তাবিত সেবা, সরঞ্জাম, অবকাঠামো ও পরিচালন সক্ষমতা যাচাইয়ের পর লাইসেন্সের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অর্থাৎ, চার প্রতিষ্ঠান সংক্ষিপ্ত তালিকায় থাকলেও এখনো কেউ চূড়ান্তভাবে কাজ পাওয়ার নিশ্চয়তা পায়নি। 

বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে এই প্রতিযোগিতা নতুন সম্ভাবনার পাশাপাশি বড় দায়িত্বও তৈরি করেছে। বিদেশি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে স্থানীয় জনশক্তিকে দক্ষ করে তোলা এবং যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে পারলেই তৃতীয় টার্মিনালের প্রকৃত সুফল মিলবে।

 অধিকার পত্র ডটকমের সম্পাদকীয় পর্যবেক্ষণ

তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে, সেটি শুধু একটি বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাতের ভবিষ্যতের সঙ্গেও জড়িত। বিদেশি প্রতিষ্ঠান এলেই সেবার মান উন্নত হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। স্বচ্ছ চুক্তি, জবাবদিহি, স্থানীয় কর্মসংস্থান এবং কঠোর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সক্ষমতা ও স্বার্থও বিবেচনায় রাখতে হবে।

অধিকার পত্র ডটকমের প্রত্যাশা, প্রতিযোগিতা বাড়ুক, যাত্রীদের ভোগান্তি কমুক এবং বাংলাদেশের তরুণদের জন্য তৈরি হোক নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ।

 

 

তথ্যসূত্র: দ্য ডেইলি স্টার 

সম্পাদনা ও প্রকাশনা: অধিকার পত্র ডটকম সত্যের সাথে সব সময়।