odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Friday, 6th November 2026, ৬th November ২০২৬
বাংলাদেশকে শুধু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারকারী দেশ হিসেবে নয়, বরং এআই প্রয়োগ ও উদ্ভাবনে সক্ষম দেশ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন

এআই প্রয়োগ ও উদ্ভাবনে সক্ষম দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে হবে: রাষ্ট্রপতি

odhikarpatra | প্রকাশিত: ৫ November ২০২৬ ২১:৩২

odhikarpatra
প্রকাশিত: ৫ November ২০২৬ ২১:৩২

অধিকারপত্র ডটকম / বিশেষ প্রতিনিধি :

ঢাকা, ৫ নভেম্বর ২০২৬: বাংলাদেশকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের শুধু ব্যবহারকারী নয়, প্রয়োগ ও উদ্ভাবনে সক্ষম একটি দেশে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যে দেশ এআই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের পাশাপাশি এর উদ্ভাবনেও নেতৃত্ব দেবে। প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের নিষ্ক্রিয় অংশীদার না হয়ে সক্রিয় অংশীদার হওয়াই বাংলাদেশের লক্ষ্য হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, বাংলাদেশকে শুধু এআইনির্ভর নয়, বরং এআই সক্ষম, উদ্ভাবনসমৃদ্ধ ও মানবকল্যাণমুখী দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি বড় ধরনের পরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। এই পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। আগামী দশকে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, শিল্প, বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে এআইয়ের প্রভাব দেশের উন্নয়নের গতিপথ এবং বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শুধু ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রযুক্তি নয়, বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে।
উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, শিল্পের আধুনিকায়ন, রপ্তানি সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং তরুণদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এআইকে কৌশলগতভাবে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী। তরুণদের প্রযুক্তিবান্ধব ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে তারা চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রধান শক্তিতে পরিণত হতে পারে।
আন্তর্জাতিক গবেষণায় আগামী কয়েক বছরে এআই বিশ্ব অর্থনীতিতে ট্রিলিয়ন ডলারের মূল্য সংযোজন করবে—এ কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশকেও এই সম্ভাবনা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।


ব্যবসায়ী সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এআইকে শুধু ব্যয় কমানোর হাতিয়ার হিসেবে না দেখে নতুন পণ্য ও সেবা সৃষ্টি, নতুন বাজারে প্রবেশ এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরির মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
রাষ্ট্রপতি বিশ্ববিদ্যালয় ও তরুণ প্রজন্মকে একসঙ্গে কাজ করে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, এআইয়ের সুফল পেতে দেশের তরুণ সমাজকে প্রযুক্তিতে দক্ষ ও সুশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প যেমন বিশ্বে দেশের পরিচিতি তৈরি করেছে, তেমনি দক্ষ তরুণরা এআই প্রযুক্তি যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে বিশ্বে বাংলাদেশের নতুন পরিচয় তৈরি হতে পারে।

এআইয়ের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে মূল্যবোধকেন্দ্রিক জাতীয় এআই নীতিমালা তৈরির কাজ শুরু করেছে। এতে নৈতিকতা, মানবাধিকার, ঝুঁকিভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাংলা ভাষাভিত্তিক জাতীয় এআই সক্ষমতা গড়ে তোলার কাজও শুরু হয়েছে।
এক্ষেত্রে ব্যবসায়ী, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয় এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

দেশে এআইয়ের ব্যবহার সম্প্রসারণের সম্ভাবনা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি এর সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়েও সতর্ক করেন। তিনি বলেন, দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ যখন শিক্ষিত বেকার, তখন এআই নতুন করে বেকারত্ব সৃষ্টি করবে কি না, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, এআই ব্যবহারে বড় ধরনের সম্ভাবনার পাশাপাশি ঝুঁকি ও আশঙ্কাও রয়েছে। প্রযুক্তিটি যেন কোনোভাবেই মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়, সে বিষয়ে প্রতিটি পর্যায়ে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, এআইয়ের নিরাপদ ব্যবহার ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় মানবসভ্যতা অস্তিত্বের সংকটের মুখেও পড়তে পারে।

কোনো প্রযুক্তি গ্রহণের আগে সেটি কতটা টেকসই এবং দেশের জন্য কতটা উপযোগী, তা গুরুত্বের সঙ্গে বিচার করার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। মানুষের কল্যাণের পরিবর্তে ক্ষতির কারণ হতে পারে—এমন প্রযুক্তি গ্রহণের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

তিনি বলেন, প্রযুক্তি তখনই প্রকৃত অর্থে উপযোগী হয়, যখন তা মানুষের কল্যাণ এবং সভ্যতার অগ্রগতিতে কাজে লাগে। তাই বাংলাদেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এআইয়ের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে রাষ্ট্রপতিকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ও জাতীয় সংসদ সদস্য রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এবং ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান।
মূল বক্তব্য দেন রেডিনেস অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্ট সিস্টেমস লিমিটেড, যুক্তরাজ্যের সিইও ও সাবেক অধ্যাপক আলমগীর হোসেন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি তাসকিন আহমেদ। এছাড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন বক্তব্য দেন।