odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Thursday, 22nd January 2026, ২২nd January ২০২৬

যৌন নির্যাতন গুরুতর মানসিক আঘাতের কারণ

Mahbubur Rohman Polash | প্রকাশিত: ২ November ২০১৭ ০৯:০১

Mahbubur Rohman Polash
প্রকাশিত: ২ November ২০১৭ ০৯:০১

অধিকারপত্র ডেক্স

যৌন নির্যাতন ও গুরুতর মানসিক আঘাতের কারণে কেউ শুধু যে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তা কিন্তু নয়। এর কারণে নারী বা পুরুষের স্বাস্থ্যে্ও ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। এমনকি এতে তাঁর হৃদযন্ত্রের ভয়ংকর ক্ষতি বা হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধও হতে পারে বলে সম্প্রতি এক গবেষণায় বলা হয়েছে।

আজ বুধবার ফোর্বস সাময়িকীর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব পিটসবার্গের একদল গবেষক এই তথ্য জানিয়েছেন। প্রধান গবেষক রেবেকা থার্সটন ফিলাডেলফিয়ায় দ্য নর্থ আমেরিকান মেনোপজ সোসাইটির (এনএএমএস) বার্ষিক অধিবেশনে এই গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।

রেবেকা থার্সটন ইউনিভার্সিটি অব পিটসবার্গের সাইকিয়াট্রি, সাইকোলজি অ্যান্ড অ্যাপিডেমিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ও ওমেন’স বিহেভিয়রাল হেলথ ল্যাবরেটরির পরিচালক।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, যৌন নির্যাতনের কারণে নির্যাতিত ব্যক্তির রক্তনালি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর এতে রক্তের চাপের তারতম্য ঘটে। যার কারণে হৃদযন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এমনকি হৃদযন্ত্রের ক্রিয়াও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গবেষকেরা ৪০ থেকে ৬০ বছর বয়সী ২৭২ জন অধূমপায়ী নারীর ওপর এই গবেষণাটি পরিচালনা করেন। অংশ নেওয়া নারীদের আগে থেকে কোনো ধরনের হৃদযন্ত্রে রোগ সংক্রান্ত কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। এই নারীদের শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ল্যাব টেস্টের পর প্রশ্নপত্র দিয়ে মূল্যায়ন করতে বলা হয়। আগে কখনো গুরুতর মানসিক আঘাত যেমন কখনো যৌন নির্যাতনের শিকার, অনিচ্ছাকৃত শারীরিক সংসর্গ, মারধর, জটিল দুর্ঘটনা, প্রাণসংহারী অসুস্থতা, বড় দুর্ঘটনা বা কোনো মৃত্যুর সাক্ষী কি না কিংবা কোনো ভয়াবহ হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন কি না—তা গবেষণায় অংশ নেওয়া নারীদের কাছে জানতে চাওয়া হয়। ৬০ শতাংশ নারী জানিয়েছেন, তাঁদের জীবনে এমন ঘটনা ঘটেছে। এঁদের মধ্যে ২০ শতাংশ নারী যৌন নির্যাতনের শিকার, ২২ শতাংশ অনিচ্ছাকৃত শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন আর ২০ শতাংশ নারী মারধর ও প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এরপর গবেষকেরা প্রত্যেক নারীর হাতের প্রধান রক্তনালির ফ্লো মেডিয়েটেড ডিলেশন (এফএমডি) পরীক্ষা করেন। প্রথমে আলট্রাসাউন্ড মেশিনের মাধ্যমে পরে স্বাভাবিকভাবে রক্তচাপ পরীক্ষা করা হয়। রক্তনালি সম্প্রসারণশীল। যখন শরীরে স্বাভাবিকভাবে অতিরিক্ত রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন হয় তখন রক্তনালি সম্প্রসারিত হয়ে তাতে সাহায্য করে।

গবেষকেরা জানিয়েছেন, যৌন নির্যাতনসহ গুরুতর মানসিক আঘাতপ্রাপ্ত নারীদের এই রক্তনালি খুব একটা সম্প্রসারিত হয় না। এতে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক গতি পায় না। এ কারণে মানসিক আঘাত বা যৌন নির্যাতনের মতো ঘটনা কখনো মানুষের শারীরিক সমস্যাও সৃষ্টি করতে পারে। কোনো সময় তাঁর রক্তনালির কার্যক্ষমতাও নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

রেবেকা থার্সটন বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব নারীর অতীতে গুরুতর মানসিক আঘাত পাওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁদের শরীরের রক্ত, রস ও লসিকাবাহী নালির স্বাস্থ্য খুব দুর্বল হয়ে পড়ে। এ ছাড়া যদি কোনো নারী রাতে ছয় ঘণ্টা ঘুমাতে না পারেন তাহলে তাঁর রক্তনালির কার্যক্ষমতা আরও হ্রাস পায়। যৌন নির্যাতনের মতো মানসিক আঘাতপ্রাপ্ত নারীর পর্যাপ্ত ঘুম হওয়াটা দুরূহ। আর এ কারণেই তা ধীরে ধীরে শারীরিক স্বাস্থ্যেরও ক্ষতিসাধন করে।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: