নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র
২০১১ সালের ভয়াবহ ফুকুশিমা বিপর্যয়ের এক দশকেরও বেশি সময় পর বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া (Kashiwazaki-Kariwa) পুনরায় সচল করেছে জাপান। স্থানীয়দের নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং নানা আইনি জটিলতা কাটিয়ে টোকিওর উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত এই কেন্দ্রের ৬ নম্বর রিঅ্যাক্টরটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কার্যক্রম শুরু করতে একদিন দেরি হলেও সফলভাবে রিঅ্যাক্টরটি চালু করা সম্ভব হয়েছে। আগামী মাস থেকে এটি বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ফুকুশিমার ক্ষত ও নতুন শুরু
২০১১ সালের শক্তিশালী ভূমিকম্প ও সুনামির ফলে ফুকুশিমা দাইইচি পারমাণবিক কেন্দ্রে যে ভয়াবহ তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়েছিল, তাকে ইতিহাসের অন্যতম বড় পারমাণবিক বিপর্যয় হিসেবে গণ্য করা হয়। সেই ঘটনার পর জাপানের সবকটি (৫৪টি) রিঅ্যাক্টর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছেন। বিশেষ করে ডেটা সেন্টার এবং সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে পারমাণবিক শক্তির কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছে সরকার।
নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় ও প্রতিবাদ
বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি সচল করা হলেও স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও অবিশ্বাসের চিত্র ফুটে উঠেছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির মালিকানা প্রতিষ্ঠান টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি (TEPCO)-এর বিরুদ্ধে অতীতে নিরাপত্তা গাফিলতি এবং নথিপত্র ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলার অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি নিগাতা প্রিফেকচারাল অ্যাসেম্বলির সামনে শত শত বিক্ষোভকারী সমবেত হয়ে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন। বিক্ষোভকারীদের একজন বলেন যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে তবে তার মাসুল আমাদেরই দিতে হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া কেন্দ্রে এখন ১৫ মিটার উঁচু সমুদ্রপ্রাচীর এবং জলরোধী দরজা স্থাপন করা হয়েছে। সাবেক পরমাণু নিরাপত্তা কর্মকর্তা হিসানোরি নেই বলেন নতুন মানদণ্ড অনুযায়ী, ২০১১ সালের মতো ভূমিকম্প বা সুনামি হলেও এই কেন্দ্রটি তা মোকাবিলা করতে সক্ষম।
অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য
জাপান ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। ২০৪০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ পারমাণবিক উৎস থেকে মেটানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই পথ মোটেও সহজ নয়। মিউনিখ কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র গবেষক ড. ফ্লোরেন্টাইন কোপেনবোর্গ বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ এখন ধারণার চেয়ে অনেক বেশি। নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে গিয়ে কোম্পানিগুলোকে বিশাল বিনিয়োগ করতে হচ্ছে। তিনি আরও সতর্ক করেন জাপান অতীতের দুর্যোগের অভিজ্ঞতা থেকে প্রস্তুতি নিলেও ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট বড় ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় তারা কতটা প্রস্তুত তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। কাশিওয়াজাকি-কারিওয়া কেন্দ্রের ৬ নম্বর রিঅ্যাক্টরটি চালু হলেও ৭ নম্বর রিঅ্যাক্টরটি ২০৩০ সালের আগে চালু হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ফলে কেন্দ্রটি পূর্ণ ক্ষমতায় ফিরতে আরও দীর্ঘ সময় লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: