odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Wednesday, 21st January 2026, ২১st January ২০২৬
সৈয়দপুরে কৃষিজমি ভরাটে বালু তোলার অভিযোগে গ্রামবাসীর প্রতিরোধ, আহত কয়েকজন

মাইকে ঘোষণা—৪০০ গ্রামবাসীর ধাওয়ায় পালালেন দুই জামায়াত নেতা!

odhikarpatra | প্রকাশিত: ২৫ November ২০২৫ ১৩:৪১

odhikarpatra
প্রকাশিত: ২৫ November ২০২৫ ১৩:৪১

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

২৫ নভেম্বর ২০২৫

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সৈয়দপুর ইউনিয়নে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে দুই জামায়াত নেতাকে ধাওয়া করেছে উত্তেজিত স্থানীয়রা। স্থানীয় কৃষিজমি বালু দিয়ে ভরাটের অভিযোগে সোমবার দুপুরে পশ্চিম সৈয়দপুরে এই ঘটনা ঘটে। এতে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনাস্থল ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুমিরা ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক নেতা জসিম উদ্দিন এবং সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার রায়হান উদ্দিন কৃষিজমি ভরাটের উদ্দেশ্যে প্রায় অর্ধশতাধিক লোক নিয়ে সৈয়দপুরের উপকূলে যান। অভিযোগ রয়েছে, প্যাসিফিক জিন্সের মালিকপক্ষের হয়ে তারা ১০০ একর জমি ভরাট করতে সমুদ্র থেকে পাইপের মাধ্যমে বালু তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

 মাইকে ঘোষণা, মুহূর্তে জড়ো হয় ৪–৫ শত মানুষ

বালু ভরাটের খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দারা মসজিদের মাইক ব্যবহার করে সবাইকে ডাকেন। মুহূর্তে চার থেকে পাঁচ শতাধিক মানুষ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থাপিত বালুর পাইপ ভেঙে ফেলেন এবং দুই জামায়াত নেতাসহ তাদের কর্মীদের ধাওয়া করেন। পালানোর সময় কয়েকজন আহত হন বলে জানা যায়।

 কৃষকদের অভিযোগ

স্থানীয়দের দাবি—ফসল পাকতে থাকা অবস্থায় কৃষিজমি বালু দিয়ে ভরাট করলে শত শত কৃষক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। টমেটো, ফুলকপি, বরবটি, লাউ, শিমসহ পুরো এলাকায় বিস্তীর্ণ শীতকালীন সবজি মাঠ রয়েছে।
তাদের অভিযোগ—অনুমোদন ছাড়া পরিবেশ ধ্বংস করে শিল্পপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের চেষ্টা চলছে দীর্ঘদিন ধরে।

 বিভিন্ন পক্ষের প্রতিক্রিয়া

  • ইউনিয়ন জামায়াত নেতারা দাবি করেন, বালু ভরাটে তাদের দলের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই; কেউ ব্যক্তিগতভাবে জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেবে দল।
  • স্থানীয় বিএনপিপ্রতিনিধিরা বলেছেন, কৃষিজমির ক্ষতি হবে জানিয়ে তারা বাধা দিয়েছেন।
  • পরিবেশকর্মীরা এটিকে সীতাকুণ্ডের কৃষি ও পরিবেশের ওপর বড় ধরনের হুমকি বলে উল্লেখ করেছেন।
  • সীতাকুণ্ডের ইউএনও নিশ্চিত করেছেন—সমুদ্র থেকে বালু উত্তোলন করে জমি ভরাটের কোনো অনুমোদন প্রশাসন দেয়নি, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
  • প্যাসিফিক জিন্স কর্তৃপক্ষ ফোনে যোগাযোগ করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে এখনও থানায় কোনো মামলা হয়নি বলে জানিয়েছে সীতাকুণ্ড মডেল থানা।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: