odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Wednesday, 21st January 2026, ২১st January ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপি-জমিয়ত জোট সমীকরণ: স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন রুমিন ফারহানা

odhikarpatra | প্রকাশিত: ২৩ December ২০২৫ ২১:৫৭

odhikarpatra
প্রকাশিত: ২৩ December ২০২৫ ২১:৫৭


মূল সংবাদ (অধিকারপত্র ডটকম ): নিজস্ব প্রতিবেদক,

ব্রাহ্মণবাড়িয়া: নির্বাচনী রাজনীতির মাঠ এখন উত্তপ্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসন নিয়ে। দীর্ঘ জল্পনাকল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে এই আসনটি নিজেদের শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশকে ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। এর ফলে এই আসনে জোটের প্রার্থী হিসেবে লড়বেন মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব। তবে কেন্দ্রীয় এই সিদ্ধান্তে স্থানীয় রাজনীতিতে বইছে অস্থিরতার হাওয়া। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহসম্পাদক রুমিন ফারহানাসহ তিন প্রভাবশালী নেতা।


মঙ্গলবার গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি নিশ্চিত করেন, জোটের খাতিরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনটি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবকে দেওয়া হয়েছে, যিনি ‘খেজুরগাছ’ প্রতীক নিয়ে লড়বেন।


বিদ্রোহী প্রার্থীদের চ্যালেঞ্জ: বিএনপির শক্তিশালী এই দুর্গে দলের সিদ্ধান্তে বড় ধরনের ফাটল ধরার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় গণসংযোগ ও সামাজিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। মনোনয়ন না পেয়ে তিনি আগামীকাল বুধবার মনোনয়নপত্র সংগ্রহের ঘোষণা দিয়েছেন। রুমিন ফারহানা ছাড়াও জেলা বিএনপির সদস্য এস এন তরুণ দে এবং আক্তার হোসেনও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন।


তৃণমূলের শঙ্কা: স্থানীয় বিএনপি নেতাদের মতে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপি সব সময় বিজয়ী হয়ে আসছে। কিন্তু এবার ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের পরিবর্তে ‘খেজুরগাছ’ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে নামলে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মো. নূর আলম আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, জোটের প্রার্থী ২০ হাজারের মতো ভোট পেতে পারেন, কিন্তু দলীয় তিনজন হেভিওয়েট নেতা স্বতন্ত্র দাঁড়ালে আসনটি হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।


সরাইল উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনিছুল ইসলাম ঠাকুর তৃণমূলের এই সমস্যার কথা স্বীকার করে নিয়ে বলেন, "সমস্যা তো হবেই, তবে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে সম্মিলিতভাবে তা কাটিয়ে উঠতে হবে।"
এখন দেখার বিষয়, রুমিন ফারহানার জনপ্রিয়তা বনাম জোটের প্রার্থীর দলীয় সমর্থন—শেষ পর্যন্ত এই লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসে।

 



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: