odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Wednesday, 21st January 2026, ২১st January ২০২৬
মাদুরো পরবর্তী ভেনেজুয়েলায় মার্কিন তেল জায়ান্টদের ফেরানোর ছক ট্রাম্পের; তবে জরাজীর্ণ অবকাঠামো আর রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় বড় চ্যালেঞ্জের মুখে এই মহাপরিকল্পনা।

ভেনেজুয়েলার তেল সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধারে ট্রাম্পের পরিকল্পনা: স্বপ্ন বনাম রূঢ় বাস্তবতা

Special Correspondent | প্রকাশিত: ৫ January ২০২৬ ০০:৩৫

Special Correspondent
প্রকাশিত: ৫ January ২০২৬ ০০:৩৫

নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র

ভেনেজুয়েলার দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে নাটকীয়ভাবে আটকের পর দেশটির বিধ্বস্ত তেল শিল্প পুনর্গঠনে মার্কিন কোম্পানিগুলোর ওপর ভরসা করছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্বের বৃহত্তম প্রমাণিত তেলের মজুদ থাকা সত্ত্বেও এই দেশটিতে মার্কিন তেল জায়ান্টদের বিনিয়োগ কতটা লাভজনক হবে তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।

নাটকীয় সামরিক অভিযান ও রাজনৈতিক অস্থিরতা

গত শনিবার (৩ জানুয়ারি) মার্কিন বিশেষ বাহিনীর একটি বিশেষ অভিযানে কারাকাস থেকে নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করা হয়। বর্তমানে তারা নিউইয়র্কে মাদক-সন্ত্রাসবাদ এবং অস্ত্র আইনের একাধিক মামলায় অভিযুক্ত হয়ে বন্দী রয়েছেন। মাদুরো অপসারিত হওয়ার পর ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট দেশটির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি ‘পিডিভিএসএ (PDVSA)-এর প্রধান ডেলসি রদ্রিগেজকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাফ জানিয়েছেন একটি নিরাপদ ও স্থায়ী নেতৃত্ব নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রই এই দেশটিকে পরিচালনা করবে।

ট্রাম্পের পরিকল্পনা: বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার তেল খাতের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন আমরা আমাদের বড় বড় মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোকে সেখানে পাঠাব। তারা বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে ভেঙে পড়া অবকাঠামো মেরামত করবে এবং দেশটির জন্য অর্থ উপার্জন শুরু করবে।

চ্যালেঞ্জ যেখানে: বিশেষজ্ঞ মত

যদিও ভেনেজুয়েলার তেলের মজুদ সৌদি আরবের চেয়েও বেশি কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন বাস্তবতা অত্যন্ত কঠিন। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (CSIS)-এর সিনিয়র ফেলো ক্লেটন সিগলের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কর্পোরেট পরিকল্পনাবিদদের জন্য সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কারণ। এছাড়া আরও কিছু বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে:

বিধ্বস্ত অবকাঠামো: হুগো চাভেজের আমল থেকে অব্যবস্থাপনার কারণে তেল উত্তোলনের যন্ত্রপাতি ও পাইপলাইন প্রায় ধ্বংসের মুখে। এটি মেরামতে শত শত কোটি ডলার প্রয়োজন।

তেলের মান ও খরচ: ভেনেজুয়েলার তেল অত্যন্ত ভারী এবং অশোধিত, যা পরিশোধন করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। বর্তমান বিশ্ববাজারে তেলের যে দাম তাতে এই বিশাল বিনিয়োগের সুফল পাওয়া কঠিন হতে পারে।

শেভরনের একচেটিয়া অবস্থান: বর্তমানে কেবল শেভরন (Chevron) সীমিত পরিসরে সেখানে কার্যক্রম চালাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন নতুন কোনো কোম্পানির পক্ষে শেভরনের সমকক্ষ হতে বছরের পর বছর সময় লেগে যাবে।

দীর্ঘদিনের শত্রুতা ও বর্তমান অবস্থান:

১৯৯৯ সালে সমাজতান্ত্রিক নেতা হুগো চাভেজ ক্ষমতায় আসার পর মার্কিন কোম্পানিগুলোর সম্পদ বাজেয়াপ্ত করেন এবং তেল শিল্পের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেন। ট্রাম্প একে আমেরিকান মেধার চুরি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অন্যদিকে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ মাদুরোকে আটকের ঘটনাকে বর্বর ও অবৈধ বলে আখ্যা দিলেও মার্কিন প্রশাসনের সাথে আলোচনার পথ খোলা রেখেছেন। অন্যদিকে শেভরন জানিয়েছে তারা বিদ্যমান আইন মেনেই তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।

ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদ ট্রাম্পের জন্য একটি বড় কৌশলগত লক্ষ্য হলেও কয়েক দশকের রাজনৈতিক সংঘাত এবং অবকাঠামোগত ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে দেশটিকে আবারও তেলের বাজারে শীর্ষ স্থানে ফিরিয়ে আনা একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ প্রক্রিয়া হিসেবেই দেখছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: