ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
অধিকার পত্র ডটকম
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) হিজাব ও নিকাব নিয়ে কটুক্তিমূলক মন্তব্যের প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন নারী শিক্ষার্থীরা। বিএনপির এক শীর্ষ নেতার বক্তব্যকে ইসলামী সংস্কৃতি ও নারীর ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা জানান তারা।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুর দেড়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে শতাধিক নারী শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধনে শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডগুলোতে লেখা ছিল— ‘ইসলামী সংস্কৃতির অপব্যাখ্যা রুখে দাও’, ‘হিজাব বিদ্বেষ বন্ধ করো’, ‘চেহারা নয়, সম্মান চাই’, ‘নিকাব আমার অধিকার’, ‘পোশাক যদি অপরাধ হয়, স্বাধীনতা কোথায়?’—এমন নানা প্রতিবাদী স্লোগান।
মানববন্ধনে বক্তারা কটুক্তিকারী বিএনপি নেতা ও দলটির নীরব ভূমিকার পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে সুশীল সমাজের প্রতিবাদহীনতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
শিক্ষার্থী সাদীয়া মাহমুদ মিম বলেন, “মেয়েদের জিন্স বা শার্ট নিয়ে কথা হলে মিডিয়া কেঁপে ওঠে, কিন্তু একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা যখন বোরকা ও নিকাবকে ইহুদি পতিতাদের পোশাক বলে অপমান করেন, তখন কেউ প্রতিবাদ করে না। ৯৮ শতাংশ মুসলমানের দেশে পর্দা নিয়ে কটুক্তি করা আমাদের জন্য লজ্জাজনক।”
তিনি আরও বলেন, “এমন বক্তব্যের পরও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল থেকে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক।”
আরেক শিক্ষার্থী মুমতাহিনা রিনি বলেন, “আমাদের ইসলামী সংস্কৃতিকে যখন বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হলো, তখন সুশীল সমাজ চুপ ছিল কেন? একটি সংগঠনের সর্বোচ্চ নেতা এমন মন্তব্য করলে তার বিরুদ্ধে কী দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেটা আমরা জানতে চাই।”
শিক্ষার্থী তাজমিন রহমান তার বক্তব্যে বলেন, “নিকাবকে পতিতাবৃত্তির সঙ্গে তুলনা করা নারীর প্রতি বিদ্বেষ ও অজ্ঞতার প্রকাশ। এমন মানসিকতার নেতা সংসদে গেলে নিকাব ও দাড়ি-টুপি পরাই অপরাধে পরিণত হতে পারে। নিকাব আমার অধিকার, আমার স্বাধীনতা—এটা ছিল, আছে, থাকবে।”
তিনি আরও বলেন, “নারীর সম্মান নিয়ে আর কোনো ছিনিমিনি চলবে না। যারা এই অধিকার কেড়ে নিতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আমরা রুখে দাঁড়াব।”
উল্লেখ্য, গত রোববার এক গোলটেবিল বৈঠকে বিএনপি নেতা মোশাররফ আহমেদ ঠাকুর হিজাব ও নিকাবকে মুসলিমদের পোশাক হিসেবে অস্বীকার করে একে ‘ইহুদি পতিতাদের পোশাক’ বলে মন্তব্য করেন, যা দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়।
ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
অধিকার পত্র ডটকম
মো. সামিউল ইসলাম
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: