odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Friday, 24th April 2026, ২৪th April ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও সমালোচনার মাঝেও স্পেনের দৃঢ় অবস্থান-আন্তর্জাতিক আইন মেনেই সহযোগিতার ঘোষণা

স্পেনকে ন্যাটো থেকে বহিষ্কারের কোনো বিধান নেই: ন্যাটোর স্পষ্ট বার্তা

Special Correspondent | প্রকাশিত: ২৪ April ২০২৬ ২০:৪৫

Special Correspondent
প্রকাশিত: ২৪ April ২০২৬ ২০:৪৫

নিউজ ডেস্ক | অধিকারপত্র

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে স্পেনকে সামরিক জোট ন্যাটো (NATO) থেকে স্থগিত বা বহিষ্কার করার সম্ভাবনার খবরের প্রেক্ষাপটে শক্ত অবস্থান জানিয়েছে সংস্থাটি। ন্যাটো কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, জোটের প্রতিষ্ঠাতা চুক্তিতে কোনো সদস্য রাষ্ট্রকে বহিষ্কার বা সদস্যপদ স্থগিত করার কোনো আইনি বিধান নেই।

ঘটনার সূত্রপাত

সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্স পেন্টাগনের একটি অভ্যন্তরীণ ইমেলের বরাত দিয়ে জানায় যে ইরান যুদ্ধে আশানুরূপ সহযোগিতা না পাওয়ায় স্পেনসহ বেশ কিছু মিত্র দেশের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছে ওয়াশিংটন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর স্পেন তার আকাশসীমা এবং সামরিক ঘাঁটি (রোটা ও মোরন) মার্কিন হামলার জন্য ব্যবহার করতে দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এতেই ক্ষুব্ধ হয় ট্রাম্প প্রশাসন।

ন্যাটোর অবস্থান ও স্পেনের প্রতিক্রিয়া

ন্যাটোর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেন আমাদের চুক্তিতে কোনো সদস্যকে বাদ দেওয়ার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। ন্যাটো একটি ঐক্যবদ্ধ জোট এবং এর স্থায়িত্ব কোনো নির্দিষ্ট দেশের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভর করে না। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজ এই প্রতিবেদনকে নাকচ করে দিয়ে জানান আমরা ইমেলের ওপর ভিত্তি করে রাষ্ট্র পরিচালনা করি না। আমরা দাপ্তরিক নথিতে বিশ্বাসী। স্পেন সবসময় আন্তর্জাতিক আইন মেনে মিত্রদের সাথে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।

পেন্টাগনের হুমকি ও ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ ইস্যু

পেন্টাগন প্রেস সেক্রেটারি কিংসলে উইলসনের বক্তব্যে কিছুটা ভিন্ন সুর পাওয়া গেছে। মিত্ররা সংকটের সময় যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়েছে। পেন্টাগন এখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে এমন কিছু বিকল্প দেবে যাতে মিত্ররা আর কাগুজে বাঘ হয়ে না থাকে। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্যটি হলো এই ইমেলে ব্রিটেনের অধীনে থাকা ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের ওপর যুক্তরাজ্যের দাবি থেকে মার্কিন সমর্থন প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। আর্জেন্টিনা দীর্ঘদিন ধরে এই দ্বীপপুঞ্জকে নিজেদের বলে দাবি করে আসছে। সহযোগিতা না করলে ইউরোপীয় দেশগুলোর এ ধরনের সাম্রাজ্যবাদী অধিকারে যুক্তরাষ্ট্র আর সমর্থন দেবে না বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

অন্যান্য দেশের প্রতিক্রিয়া

যুক্তরাজ্য: প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জানিয়েছেন ইরানের ওপর মার্কিন অবরোধে সরাসরি যুক্ত হওয়া ব্রিটেনের জাতীয় স্বার্থে নেই। তবে ব্রিটেন ইতোমধ্যে ড্রোন ভূপাতিত করার অভিযানে অংশ নিয়েছে।

জার্মানি: জার্মানি স্পষ্ট করেছে যে, স্পেনের সদস্যপদ নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো কারণ নেই।

ইতালি: প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি জোটের ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন এবং ন্যাটোর 'ইউরোপীয় স্তম্ভ' শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়েছেন।

মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ কড়া ভাষায় সমালোচনা করে বলেছেন ইউরোপের দেশগুলো আমাদের ওপর চড়ে খাচ্ছে (Free riding)। হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহের পথ খোলা রাখা তাদের জন্য বেশি জরুরি, কিন্তু তারা কেবল আলোচনায় সীমাবদ্ধ থাকছে।

বর্তমান পরিস্থিতি

যদিও পেন্টাগনের এই অভ্যন্তরীণ মেমোতে যুক্তরাষ্ট্রকে ন্যাটো থেকে সরিয়ে নেওয়ার বা ইউরোপে ঘাঁটি বন্ধের কথা বলা হয়নি, তবে এটি স্পষ্ট যে আটলান্টিকের দুই পাড়ের দেশগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। স্পেন ও অন্যান্য মিত্ররা এখন দেখার অপেক্ষায় যে, ওয়াশিংটন শেষ পর্যন্ত দাপ্তরিকভাবে কী পদক্ষেপ নেয়।

--মো: সাইদুর রহমান (বাবু), বিশেষ প্রতিনিধি. অধিকারপত্র



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: