অধিকার পত্র ডটকম, কুবি প্রতিনিধি,
কুবি প্রতিনিধি :
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের পদত্যাগ, এনআইডি সংক্রান্ত মামলায় উপাচার্যের গ্রেফতার, ২০০৯ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত সকল শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং আবাসিক হলের ভোগান্তি নিরসনের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ‘সচেতন শিক্ষার্থী’রা।
বুধবার (৬ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্বরে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বাংলা বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শরিফ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ‘২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তিনি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে আসলেও তার মাধ্যমে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকরা হলসহ বিভিন্ন দায়িত্বে বহাল আছেন। পাশাপাশি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ ও হলগুলোতে দলীয়করণের চেষ্টা করেছেন। শিক্ষক নিয়োগেও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যোগ্য ও মেধাবী অনেক শিক্ষার্থী কর্মকর্তা-কর্মচারী পদে আবেদন করেও বাদ পড়ছেন। সিন্ডিকেট সভা বিশ্ববিদ্যালয়ে না করে ঢাকায় আয়োজন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ভিসির এই বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকার কোনো যোগ্যতা নেই।’
পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. সাগর আহমেদ বলেন, “বিভিন্ন অভিযোগ সামনে এলেও ভিসি এখনো জবাবদিহিতার আওতায় আসেননি। ড. লেলিন প্রভাষক নিয়োগ পরীক্ষায় একাধিকবার উত্তীর্ণ হয়েও ভাইভা থেকে বাদ পড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ সোলাইমানের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা রয়েছে। জবাবদিহিতার প্রশ্নে সন্তোষজনক কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। প্রশাসন সঠিক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলে শিক্ষার্থীরা কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবে।”
অর্থনীতি বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাইদুল ইসলাম শাওন বলেন, ‘গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে এমন বিতর্কিত ভিসির বহাল থাকা আমাদের জন্য লজ্জাজনক। নাগরিক তথ্য পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত এই ভিসিকে আমরা আর দেখতে চাই না। দ্রুত অপসারণ করে শিক্ষার্থীবান্ধব ও যোগ্য একজন উপাচার্য নিয়োগ দিতে হবে।’
মানববন্ধনে বক্তারা তাদের দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান এবং অন্যথায় আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।
শাহরিয়ার হোসেন জুবায়ের, কুবি।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: