odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Thursday, 22nd January 2026, ২২nd January ২০২৬

নগরজীবনে বাড়ছে জনভোগান্তি

Akbar | প্রকাশিত: ২৪ March ২০১৯ ০৯:৪৩

Akbar
প্রকাশিত: ২৪ March ২০১৯ ০৯:৪৩

ঢাকা: ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের অধিকাংশ রাস্তাই সরু, তার ওপর খানাখন্দ থাকায় ভোগান্তিতে দিন কাটছে ওয়ার্ডবাসীর। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গ্যাস থাকে না। ওয়ার্ডের একমাত্র শিশু পার্কটির কাজ চলছে ধীরগতিতে। ময়লা-আবর্জনায় ভরা খোলা পয়োনিষ্কাশন নালা। ফলে বাড়ছে মশার প্রকোপ, সঙ্গে চিন্তায় ফেলছে বর্ষা এলে ভোগান্তি বাড়ার। এ ছাড়া ফুটপাতে অবৈধ দোকানপাট, মাঠ দখল করে বাজার, নষ্ট সড়কবাতির সমস্যা তো রয়েছেই।

গতকাল শুক্রবার সরেজমিনে এই ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, বেশির ভাগ সড়কের পাশে পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার অবস্থা খুবই খরাপ। দোকান ও বাসাবাড়ির সামনের পয়োনিষ্কাশন নালা খোলা। ময়লা-আবর্জনার কারণে পানির স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পাশ দিয়ে চলাফেরা করছে পথচারীরা। এই এলাকার অধিকাংশ রাস্তার পাশেই নেই পথচারীদের জন্য ফুটপাত। বাটা মসজিদ, দুই আঙুলের গলি, ললিত মোহন দাশ লেন, নবাবগঞ্জ বাজারসহ অধিকাংশ রাস্তার পাশের পয়োনিষ্কাশন নালা খোলা। খানাখন্দে ভরা বিডিআর ২ নম্বর সড়কটির অবস্থা বেশ খারাপ। মাঝেমধ্যেই ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা দুর্ঘটনায় পড়ে। মাছ ব্যবসায়ী রমজান আলী তাঁর সহযোগীসহ মাছ নিয়ে নবাবগঞ্জ বাজারে যাচ্ছিলেন। বিডিআর ২ নম্বর সড়কে এসে রিকশার চাকা গর্তে পড়ে সব মাছ রাস্তায় ও ড্রেনে পড়ে যায়। এ সময় দ্রুত মাছ তুলতে চেষ্টা করেও অর্ধেকেরও বেশি মাছ নষ্ট হয়ে যায়। রমজান বলেন, ‘ভাই কম টাকার পুঁজি দিয়া ব্যবসা করি। যা আয় করি, তা দিয়া কোনোমতে সংসার চলে। আইজকা অর্ধেক মাছই নষ্ট হইয়া গেল। পোড়া কপাল আমার।’ রাস্তাটি খানাখন্দে ভরা হলেও এখান দিয়ে চলে বিডিআর, কামরাঙ্গীর চর, বেড়িবাঁধসহ কয়েকটি এলাকার লেগুনা। এ ছাড়া পুরান ঢাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা সবচেয়ে বেশি চলে এই রাস্তায়। সাদিক নামে এক পথচারী বলেন, ‘আমি নিউ মার্কেটে ব্যবসা করি। এই রাস্তায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে চলাচল করছি। সব সময়ই এই দশা। ঠিক করলেও বেশি দিন টেকে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘এই এলাকায় অনেক সমস্যা। সড়কবাতি নষ্ট থাকায় রাতে খোলা পয়োনিষ্কাশন নালা পরিণত হয় ফাঁদে। আর অতিরিক্ত মশার উৎপাত তো আছেই।’

আজিমপুর ইরাকি মাঠের পাশের অধিকাংশ সড়কবাতিই নষ্ট। ঐতিহ্যবাহী ইরাকি মাঠও এখন কিছু মানুষের দখলে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি যুব সংসদের সভাপতি বলেন, ‘এই মাঠে আগে শুধু খেলাধুলা ছিল। কাদা-পানি যাই থাক, খেলা বন্ধ হতো না। এখন এই জায়গায় সকাল-বিকেল বসে বাজার। আর রাতে চলে মাদকসেবীদের আড্ডা। এলাকার শিশু পার্কটির অবস্থাও খুব খারাপ, সম্প্রতি সংস্কারকাজ শুরু করলেও চলছে ধীরগতিতে।’

ওয়ার্ডের বিরাজমান পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে ডিএসসিসির ২৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বিডিআর ১ নম্বর থেকে ২ নম্বর পর্যন্ত রাস্তার কাজের অনুমোদন হয়ে গেছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই কাজ শুরু হবে। আর শিশু পার্কটির কাজ চলছে। এ সমস্ত কাজ আসলে দ্রুত করানোর ক্ষেত্রে আমাদের তেমন কোনো ভূমিকা থাকে না। রাস্তার খানাখন্দ আর খোলা ড্রেনেজের কারণে বর্ষায় ভোগান্তি বাড়তে পারে। এ ব্যাপারে আমি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করব।’



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: