odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Thursday, 19th February 2026, ১৯th February ২০২৬
অধিকারপত্রের “শিক্ষা সংস্কার: মরীচিকা না বাস্তবতা” ধারাবাহিকের তৃতীয় পর্ব

শিক্ষকের কলম ও শাসকের চাবুক: কেন শিক্ষকরা আজ রাজপথে?

Dr Mahbub | প্রকাশিত: ১৮ February ২০২৬ ২৩:৩৩

Dr Mahbub
প্রকাশিত: ১৮ February ২০২৬ ২৩:৩৩

- অধিকারপত্রের শিক্ষা সংস্কার ধারাবাহিক তৃতীয় পর্ব

অধিকারপত্রের “শিক্ষা সংস্কার: মরীচিকা না বাস্তবতা” ধারাবাহিকের এই বিশেষ ও দীর্ঘ নিবন্ধটি আমাদের সমাজের সবচেয়ে সংবেদনশীল এবং অবহেলিত এক ক্ষতের ব্যবচ্ছেদ। কেন জ্ঞানের কারিগররা আজ রাজপথে ধুলাবালিতে বসে নিজের অধিকারের আর্তনাদ করছেন—তা নিয়ে এক গভীর তাত্ত্বিক ও মানবিক বিশ্লেষণ।

সূচনালগ্ন: কলমের ওপর চাবুকের আঘাত

ইতিহাসের প্রতিটি বাঁকে দেখা গেছে, সভ্যতার মশাল যারা বহন করেন, সেই শিক্ষকদের কলমই ছিল সমাজ পরিবর্তনের প্রধান শক্তি। প্রাচীন গ্রিসের সক্রেটিস থেকে শুরু করে ভারতীয় উপমহাদেশের চাণক্য—শিক্ষকের কলম ও বাণী সবসময় শাসকের অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক অদৃশ্য দেওয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর বাংলাদেশে এসে আমরা এক করুণ বৈপরীত্য প্রত্যক্ষ করছি। যে হাতটি হওয়ার কথা ছিল সর্বোচ্চ সম্মানিত, সেই হাতে আজ আমরা হাতকড়া পরাচ্ছি; যে পিঠটি হওয়ার কথা ছিল সোজা, সেখানে পড়ছে শাসকের চাবুক। আজ শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে নেই, তারা রাজপথে। তাদের হাতে চক বা কলম নেই, আছে দাবি আদায়ের ব্যানার। এই দৃশ্যটি কেবল একদল মানুষের পেশাগত আন্দোলনের নয়, এটি একটি রাষ্ট্রের নৈতিক পতনের চূড়ান্ত দলিল। কেন জ্ঞানতাপসদের আজ শাসকের চাবুকের ভয়ে বা অধিকারের দাবিতে রাজপথে নামতে হচ্ছে, সেই কার্যকারণ অনুসন্ধান আজ সময়ের দাবি।

রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি মেরুদণ্ড ভাঙার খেলা

স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশে একটি অশুভ সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে—শিক্ষকদের একটি রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা। শাসকগোষ্ঠী সবসময়ই চেয়েছে শিক্ষকরা যেন হয় তাদের একান্ত অনুগত। শিক্ষাকে একটি মুক্ত চিন্তার ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তোলার চেয়ে ‘আদর্শিক অনুসারী’ তৈরির কারখানা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এখানে রূপক বিশ্লেষণ করলে দেখতে পাওয়া যবে, একটি বটগাছকে যদি নিয়মিত তার শেকড় কেটে ছোট টবে বন্দি করে রাখা হয়, তবে সেটি আর মহীরুহ হতে পারে না। আমাদের শিক্ষকদের অবস্থাও ঠিক তেমন। তাদের উচ্চবেতন বা উচ্চতর সামাজিক মর্যাদার বদলে দেওয়া হয়েছে দলীয় রাজনীতির ‘ট্যাগ’। ফলে শিক্ষকরা আজ দ্বিধাবিভক্ত। যারা মেরুদণ্ড সোজা রাখতে চেয়েছেন, তাদের ওপর নেমে এসেছে শাসকের চাবুক। বদলি, পদোন্নতি বঞ্চিত করা কিংবা তুচ্ছ কারণে লাঞ্ছিত করা—এগুলো যেন আজ নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

১৮ মাসের সেই দুঃসহ স্মৃতি শিক্ষকের অবমাননা

বিগত দেড় বছরে বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গনে যে নজিরবিহীন অস্থিরতা আমরা দেখেছি, তা কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। শিক্ষকদের কান ধরে ওঠবস করানো, জুতোর মালা পরানো কিংবা পদত্যাগে বাধ্য করার যে বীভৎস দৃশ্য আমরা ডিজিটাল স্ক্রিনে দেখেছি, তা খোদায়ী আরশকেও কাঁপিয়ে দেওয়ার মতো।

শিক্ষাবিজ্ঞানের লিটিচার থেকে দেখা যায়, কেনো গোষ্ঠী যখন কোনো জাতিকে ধ্বংস করতে চায়, তখন তারা প্রথমে সেই জাতির শিক্ষকদের সম্মান কেড়ে নেয়। কারণ যখন একজন শিক্ষককে সবার সামনে লাঞ্ছিত করা হয়, তখন সেই ছাত্রের মনে আর শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা থাকে না। আর শ্রদ্ধা হারানো শিক্ষার্থী খুব সহজেই অন্ধকার জগতের রোবট হয়ে ওঠে। এই অবমাননাই আজ শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষ থেকে বের করে এনে রাজপথে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। তারা আজ কেবল বেতন বৃদ্ধির দাবি করছেন না, তারা দাবি করছেন তাদের হারিয়ে যাওয়া ‘সম্মান’ ফিরে পাওয়ার।

পড়ুন দ্বিতীয় পর্ব:  শিক্ষা সংস্কারের গোলকধাঁধা: শাসককুলের মায়া-দর্পণ আর আমাদের অমানিশায় শিক্ষকদের অপমান ও জাতির আশাভঙ্গ

ক্ষুধার্ত পেটে জ্ঞানচর্চা: এক তিতকুটে বাস্তবতা

তাত্ত্বিকভাবে আমরা বলি—শিক্ষা একটি পবিত্র কিন্তু সর্বাপেক্ষা মূল্যবান সেবা। বাস্তবিকভাবে একজন শিক্ষককেও খেয়ে-পরে বাঁচতে হয়। বাংলাদেশের শিক্ষকদের বেতন কাঠামো দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে অন্যতম সর্বনিম্ন। একজন চতুর্থ শ্রেণীর আমলা বা পুলিশ সদস্যের তুলনায় একজন সিনিয়র শিক্ষকের সামাজিক ও আর্থিক সুবিধা যখন নগণ্য হয়, তখন বুঝতে হবে সেই রাষ্ট্র জ্ঞানকে নয়, বরং ‘শক্তি’কে পুজো করছে। এটিকে মেটাফোরিকাল অ্যানালজি লেন্স দিয়ে দেখলে কি দেখবো? দেখবো— এটি অনেকটা এমন যে, আপনি একটি বাতিঘর থেকে অনেক বেশি আলো আশা করছেন, কিন্তু বাতিঘরের প্রদীপে তেল দেওয়ার প্রয়োজনবোধ করছেন না। ক্ষুধার্ত পেটে কোনো শিক্ষক মহান কোনো আদর্শ প্রচার করতে পারেন না। যখন একজন শিক্ষককে টিউশন করে বা অন্য কোনো উপায়ে সংসার চালাতে হয়, তখন তার সৃজনশীলতা মৃতপ্রায় হয়ে যায়। শিক্ষকরা আজ রাজপথে কারণ তাদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে। কলম দিয়ে তারা অনেক লিখেছেন, কিন্তু শাসকের চাবুক যখন তাদের ভাতের থালায় আঘাত করেছে, তখন তারা মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছেন।

আমলাতান্ত্রিক জাঁতাকল নীতিনির্ধারণী অনীহা

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা আজ আমলাতন্ত্রের কাছে বন্দি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে পেশাদার শিক্ষকদের চেয়ে সাধারণ ক্যাডারের আমলাদের প্রাধান্য বেশি। ফলে কারিকুলাম থেকে শুরু করে বেতন কাঠামো—সবকিছুই নির্ধারিত হয় একটি প্রশাসনিক ঘরানায়, যেখানে শিক্ষকের হৃদয়ের স্পন্দন অনুপস্থিত। হাস্যকর হলেও সত্যি যে, শাসকগোষ্ঠীর কাছে বড় বড় মেগা প্রজেক্ট যতটা গুরুত্বপূর্ণ, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মানোন্নয়ন বা শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ততটাই তুচ্ছ। কারণ ব্রিজ বা ফ্লাইওভার দৃশ্যমান, কিন্তু শিক্ষা বিনিয়োগের ফল পেতে দীর্ঘ সময় লাগে। রাজনৈতিক দলগুলো পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে ভাবে, কিন্তু পরবর্তী প্রজন্ম নিয়ে ভাবে না। এই অনাগ্রহই আজ শিক্ষকদের শত্রু বানিয়ে রাজপথে ঠেলে দিয়েছে।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট আমাদের বিচ্যুতি

জাপান বা জার্মানিতে শিক্ষকদের বেতন ও সামাজিক মর্যাদা রাষ্ট্রপ্রধানদের সমান বা তার কাছাকাছি। সেখানে শিক্ষকের সম্মানে আদালতের বিচারকও দাঁড়িয়ে যান। তারা জানে, শিক্ষক যদি মাথা নিচু করে চলেন, তবে পুরো জাতি একদিন মাথা নিচু করতে বাধ্য হবে। বিপরীতে আমাদের দেশে শিক্ষাকে দেখা হয় একটি ‘সার্ভিস সেক্টর’ হিসেবে, যেখানে শিক্ষকরা কেবল নির্দেশ পালনকারী কর্মচারী। শাসকের চাবুক এখানে কেবল শারীরিক নয়, বরং মানসিক। পদোন্নতির ভয়, বদলির ভয় আর রাজনৈতিক মামলার ভয়—এই চাবুকগুলোই শিক্ষকদের কলমকে আজ স্তব্ধ করে দিতে চাইছে।

রাজপথের আর্তনাদ: এটি কি কেবল অর্থের জন্য?

অনেকে মনে করেন শিক্ষকরা কেবল জাতীয়করণ বা বেতন বৃদ্ধির জন্য আন্দোলন করছেন। কিন্তু গভীর থেকে দেখলে বোঝা যায়, এটি একটি ‘অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই’। শিক্ষকরা আজ রাজপথে কারণ তারা তাদের ‘পেশাদারিত্বের স্বাধীনতা’ (Professional Autonomy) হারিয়েছেন। ক্লাসরুমে কী পড়াবেন, কীভাবে পড়াবেন—সবকিছুই যখন উপরমহলের নির্দেশে নির্ধারিত হয়, তখন শিক্ষকের সৃজনশীলতা মরে যায়।

মুক্তির পথ: চাবুক সরিয়ে কলমকে স্বাধীনতা দেওয়া

এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ একটাই—শিক্ষককে তার হৃত গৌরব ফিরিয়ে দেওয়া।

  • প্রথমত: শিক্ষকদের জন্য একটি স্বতন্ত্র উচ্চতর বেতন কাঠামো (Independent Salary Scale) ঘোষণা করতে হবে।
  • দ্বিতীয়ত: শিক্ষা প্রশাসনের শীর্ষ পদগুলোতে আমলাদের পরিবর্তে অভিজ্ঞ ও মেধাবী শিক্ষকদের নিয়োগ দিতে হবে।
  • তৃতীয়ত: শিক্ষকদের ওপর যে কোনো ধরণের সামাজিক বা রাজনৈতিক নিগ্রহকে জামিন অযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করতে হবে।

শাসকের চাবুক দিয়ে সাময়িকভাবে হয়তো রাজপথ খালি করা যায়, কিন্তু জ্ঞানচর্চার মন্দির (ক্লাসরুম) সচল করা যায় না। যে হাতে চাবুক থাকে, সেই হাত কখনো মায়া দিয়ে শিশুর মন গড়তে পারে না।

শেষ প্রতিফলন: ইতিহাসের শিক্ষা

ইতিহাস সাক্ষী আছে, যেসব শাসক শিক্ষকদের অপমান করেছে, তাদের সাম্রাজ্য তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে। আজ শিক্ষকরা রাজপথে বসে আছেন—এটি কেবল শিক্ষকদের জন্য লজ্জার নয়, এটি পুরো রাষ্ট্রের জন্য এক বিশাল অভিশাপ।

আমাদের রাষ্ট্রপ্রধানদের বুঝতে হবে, শিক্ষকের কলম যদি একবার চিরতরে স্তব্ধ হয়ে যায়, তবে সেই সমাজে কেবল অন্ধকারের রাজত্ব থাকবে। চাবুক তুলে নিয়ে শিক্ষকদের ক্লাসরুমে সসম্মানে ফিরিয়ে আনুন। কারণ কলম যখন অপমানে ভেঙে যায়, তখন বন্দুকের গুলিও রাষ্ট্রকে বাঁচাতে পারে না।

আসুন আমরা স্বপ্ন দেখি এমন এক বাংলাদেশের, যেখানে শিক্ষক রাজপথে নয়, বরং সমাজের উচ্চাসনে বসে আগামীর সূর্যসন্তানদের গড়ে তুলবেন। মরীচিকার পেছনে না ছুটে আসুন বাস্তবতার কঠিন মাটিতে শিক্ষকদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করি।

চূড়ান্ত প্রত্যাশা: মর্যাদার পুনর্জাগরণ

মরীচিকার পেছনে না ছুটে আসুন বাস্তবতার কঠিন মাটিতে শিক্ষকদের জন্য এমন এক মর্যাদাকর পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করি যাতে সকল শিক্ষক কাজি কাদের নেওয়াজের কন্ঠে কন্ঠ মিলিয়ে বলতে পারেন:

...

হঠাৎ কি ভাবি উঠি
কহিলেন, আমি ভয় করি না’ক, যায় যাবে শির টুটি,
শিক্ষক আমি শ্রেষ্ঠ সবার
দিল্লীর পতি সে তো কোন্ ছার,
ভয় করি না’ক, ধারি না’ক ধার, মনে আছে মোর বল,
বাদশাহ্ শুধালে শাস্ত্রের কথা শুনাব অনর্গল।
যায় যাবে প্রাণ তাহে,
প্রাণের চেয়েও মান বড়, আমি বোঝাব শাহানশাহে।

অপরদিকে দেশের রাষ্ট্রক্ষমতার যাতে প্রতিউত্তর হয় দিল্লীর সম্রাট আওরেঙ্গজেব আলমগীরের মতো:

তার পরদিন প্রাতে
বাদশাহর দূত শিক্ষকে ডেকে নিয়ে গেল কেল্লাতে।
খাস কামরাতে যবে
শিক্ষকে ডাকি বাদশা কহেন, ”শুনুন জনাব তবে,
পুত্র আমার আপনার কাছে সৌজন্য কি কিছু শিখিয়াছে?
বরং শিখেছে বেয়াদবি আর গুরুজনে অবহেলা,
নহিলে সেদিন দেখিলাম যাহা স্বয়ং সকাল বেলা”
শিক্ষক কন-”জাহপানা, আমি বুঝিতে পারিনি হায়,
কি কথা বলিতে আজিকে আমায় ডেকেছেন নিরালায়?”
বাদশাহ্ কহেন, ”সেদিন প্রভাতে দেখিলাম আমি দাঁড়ায়ে তফাতে
নিজ হাতে যবে চরণ আপনি করেন প্রক্ষালন,
পুত্র আমার জল ঢালি শুধু ভিজাইছে ও চরণ।
নিজ হাতখানি আপনার পায়ে বুলাইয়া সযতনে
ধুয়ে দিল না’ক কেন সে চরণ, স্মরি ব্যথা পাই মনে।”

দেশের সওের্বাচ্চ ক্ষমতাধরের উদ্দেষশ্য যেন শিখ্ষকদের বলার সুযোগ তৈরি হয়:

উচ্ছ্বাস ভরে শিক্ষকে আজি দাঁড়ায়ে সগৌরবে
কুর্ণিশ করি বাদশাহে তবে কহেন উচ্চরবে-
”আজ হতে চির-উন্নত হল শিক্ষাগুরুর শির,
সত্যই তুমি মহান উদার বাদশাহ্ আলমগীর।”

জানি না আমারা জাতিগতভাবে কতটা পিছিয়ে পড়েছি, শিক্ষকদের সম্মান করে জাতিকে সম্মানে এগিয়ে নিবেচা নাকি শিক্ষকদের হেয় করে শয়তানের অট্রহাসি দিয়ে মনোসুখ পাবে কিনা?

বিশেষ ঘোষণা:

পরবর্তী পর্বে পড়তে চোখ রাখুন আমাদের অধিকারপত্রের অনলাইন পাতায়।

 অধ্যাপক মাহবুব লিটু, উপদেষ্টা সম্পাদক, অধিকারপত্র (odhikarpatranews@gmail.com)

#শিক্ষকের_মর্যাদা #শিক্ষা_সংস্কার #রাজপথে_শিক্ষক #অধ্যাপক_ড_মাহবুব #অধিকারপত্র #TeacherDignity #SaveOurTeachers #EducationCrisisBD #AcademicFreedom



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: