বিশেষ প্রতিনিধি, অধিকার পত্র ডটকম
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির অবস্থান শনাক্ত করতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) ও ইসরায়েলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ঘনিষ্ঠ গোয়েন্দা তথ্য আদান–প্রদান চলছিল বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাতে জানা যায়, কয়েক মাস ধরে খামেনির চলাফেরা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নিবিড় নজরদারি চালানো হয়েছিল।
গোয়েন্দা সূত্রগুলোর দাবি, তেহরানের কেন্দ্রস্থলে একটি গুরুত্বপূর্ণ কমপ্লেক্সে শনিবার সকালে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠকের নির্দিষ্ট তথ্য হাতে আসে সিআইএর। ওই বৈঠকে খামেনির উপস্থিত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর হামলার সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়। মূল পরিকল্পনা ছিল রাতের অন্ধকারে হামলা চালানো; তবে সর্বোচ্চ সাফল্য নিশ্চিত করতে সকালের সময় বেছে নেওয়া হয়।
হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল শীর্ষ নিরাপত্তা নেতৃত্ব
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা। সংশ্লিষ্ট কমপ্লেক্সটিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট, জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ ও সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয় অবস্থিত। ধারণা করা হচ্ছিল, সেখানে ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর শীর্ষ কমান্ডারসহ প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
ইসরায়েলি সামরিক সূত্রের দাবি, ভোরের দিকে সীমিত সংখ্যক যুদ্ধবিমান অত্যাধুনিক ও দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে। প্রায় দুই ঘণ্টা পর তেহরান সময় সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়। হামলার সময় জাতীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা একটি ভবনে অবস্থান করছিলেন এবং খামেনি পাশের আরেক ভবনে ছিলেন বলে জানা গেছে।
‘কৌশলগত চমক’ দাবি ইসরায়েলের
এক ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বার্তায় জানিয়েছেন, তেহরানের একাধিক স্থানে একযোগে হামলা চালানো হয়েছে এবং এটি ছিল একটি পরিকল্পিত কৌশলগত পদক্ষেপ। তাঁর দাবি, যুদ্ধের প্রস্তুতির ইঙ্গিত থাকা সত্ত্বেও ইরানের নেতৃত্ব এই হামলায় অপ্রস্তুত অবস্থায় পড়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, হামলায় শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে কয়েকজন নিহত হয়েছেন। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস ও সিআইএ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
পুরোনো গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের ব্যবহার
সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পূর্ববর্তী আঞ্চলিক সংঘাতের সময় যে গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হয়েছিল, সাম্প্রতিক এই অভিযানে একই নেটওয়ার্কের তথ্য কাজে লাগানো হয়েছে। ১২ দিনের যুদ্ধ চলাকালে খামেনি ও আইআরজিসির যোগাযোগব্যবস্থা ও গতিবিধি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল, যা পরবর্তী নজরদারিতে সহায়ক হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
সিআইএ ও ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ গোয়েন্দা সহযোগিতায় আয়াতুল্লাহ খামেনির অবস্থান শনাক্ত ও হামলার সময় পরিবর্তনের চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। তেহরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কমপ্লেক্সে এই অভিযানে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: