odhikarpatra@gmail.com ঢাকা | Wednesday, 4th March 2026, ৪th March ২০২৬
স্বায়ত্তশাসন, জবাবদিহি ও নেতৃত্বের প্রশ্নে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগের রাজনীতি ও বাস্তবতা: ক্ষমতা, প্রভাব ও নীতির টানাপোড়েনে বিশ্ব থেকে বাংলাদেশ—অভিজ্ঞতা, কাঠামো ও নিয়োগ-চর্চার তুলনামূলক বিশ্লেষণ

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগের রাজনীতি ও বাস্তবতা —বৈশ্বিক, আঞ্চলিক ও জাতীয় অভিজ্ঞতার আলোকে নেতৃত্ব, স্বায়ত্তশাসন ও জবাবদিহির প্রশ্ন । অধিকারপত্র এক্সক্লুসিভ সিরিজ (পর্ব–০১)

Dr Mahbub | প্রকাশিত: ৪ March ২০২৬ ০৪:১৪

Dr Mahbub
প্রকাশিত: ৪ March ২০২৬ ০৪:১৪

অধিকারপত্র এক্সক্লুসিভ (পাঁচ পর্বের বিশ্লেষণধর্মী) ধারাবাহিক (পর্ব–০১)

 ‘অধিকারপত্র এক্সক্লুসিভ’ একটি পাঁচ পর্বের বিশ্লেষণধর্মী ধারাবাহিক, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগের রাজনীতি ও বাস্তবতা বৈশ্বিক, আঞ্চলিক ও জাতীয় অভিজ্ঞতা ও চর্চার প্রেক্ষাপটে পর্যালোচনা করা হয়েছে। এই ধারাবাহিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগের রাজনীতি ও বাস্তবতা বৈশ্বিক, আঞ্চলিক ও জাতীয় প্রেক্ষাপটে আলোচিত হয়েছে।

পচন থেকে পুনর্জাগরণের পথে

আহমদ ছফার গাভী বিত্তান্ত ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হওয়ার সময় অনেকের কাছে তা ছিল একটি তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গ-উপন্যাস; কিন্তু ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে এটি যেন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক নির্মম প্রতিচ্ছবি। উপন্যাসের ভিসি আবু জুনায়েদ কেবল কাল্পনিক চরিত্র নন; তিনি একটি মানসিকতার রূপক—যে মানসিকতায় মেধার চেয়ে আনুগত্য বড়, সততার চেয়ে সুবিধা মূল্যবান, এবং জ্ঞানচর্চার চেয়ে গদি রক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। গত কয়েক দশকে যখন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো রাজনৈতিক সিণ্ডিকেট, তোষামোদ ও ব্যক্তিস্বার্থের বলয়ে আবদ্ধ হয়েছে, তখন জ্ঞানপীঠের সর্বোচ্চ আসনটি তার নৈতিক উচ্চতা হারিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় আর মুক্ত বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসর না থেকে অনেক সময় প্রশাসনিক ‘গোয়ালঘরে’ রূপান্তরিত হয়েছে। এই নৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পচন থেকেই পুনর্জাগরণের প্রয়োজনীয়তা জন্ম নেয়, এবং সেই প্রয়োজন থেকেই “অধিকারপত্র: ভিসি নিয়োগ সিরিজ”-এর সূচনা।

এই আয়নার পরিধি আরও বিস্তৃত হয় যখন আমরা জুলিয়েন বেন্ডার “The Treason of the Intellectuals” এবং হুমায়ুন আজাদের প্রবন্ধসমূহের আলোকে বর্তমান বাস্তবতাকে দেখি। বেন্ডা সতর্ক করেছিলেন—যখন বুদ্ধিজীবীরা সত্য ও ন্যায়ের চিরন্তন সাধনা ছেড়ে রাজনৈতিক শক্তির সেবায় নিয়োজিত হন, তখন জাতির নৈতিক ভিত্তি ভেঙে পড়ে। বাংলাদেশেও হুমায়ুন আজাদ একই আর্তি উচ্চারণ করেছিলেন—বুদ্ধিজীবীর দায়বদ্ধতা ক্ষমতার কাছে নয়, সত্যের কাছে। এই ধারাবাহিকের যৌক্তিকতা এখানেই নিহিত: উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে সেই বুদ্ধিবৃত্তিক বিশ্বাসঘাতকতা রোধ করা, যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্ব কোনো দলীয় মতাদর্শের কর্মচারী না হয়ে জ্ঞান ও নৈতিকতার অভিভাবক হন।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুতুলনাচের ইতিকথা আমাদের দেখিয়েছে অদৃশ্য সামাজিক শক্তির টানে মানুষ কীভাবে নিজের স্বাধীন সত্তা হারায়। শশী ডাক্তার যেমন নিয়তির সুতোয় বাঁধা পুতুল হয়ে ওঠেন, তেমনি আজকের অনেক উপাচার্যও অদৃশ্য ক্ষমতার সুতোয় পরিচালিত হন—এমন অভিযোগ জনমনে দৃঢ়। এই ধারাবাহিকের লক্ষ্য সেই সুতো ছিন্ন করা; উপাচার্য পদকে পুতুলনাচের মঞ্চ থেকে সরিয়ে একটি স্বশাসিত, জবাবদিহিমূলক ও নৈতিক নেতৃত্বের আসনে প্রতিষ্ঠিত করা।

গ্যোতের ফাউস্ট আমাদের আরেকটি সতর্কবার্তা দেয়—ক্ষমতা ও জাগতিক প্রাপ্তির লোভে আত্মা বিক্রি করার ট্র্যাজেডি। যখন নেতৃত্ব গদি রক্ষা বা প্রভাব বিস্তারের বিনিময়ে একাডেমিক স্বাধীনতা বিসর্জন দেয়, তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের আত্মাই বিপন্ন হয়। এই সিরিজ সেই ‘আত্মা’ পুনরুদ্ধারের আহ্বান—একটি নিয়োগ কাঠামো নির্মাণের প্রস্তাব, যা নেতৃত্বকে নৈতিক দৃঢ়তায় অটল থাকতে সহায়তা করবে।

গত কয়েক দশকে যখন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো রাজনৈতিক সিণ্ডিকেট, তোষামোদ ও ব্যক্তিস্বার্থের বলয়ে আবদ্ধ হওয়ার অভিযোগে বারবার সমালোচিত হয়েছে, তখন জ্ঞানপীঠের সর্বোচ্চ আসনটি তার নৈতিক উচ্চতা হারিয়েছে বলেই অনেকের ধারণা। বিশ্ববিদ্যালয়, যা হওয়ার কথা ছিল মুক্ত বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসর, তা কখনো কখনো প্রশাসনিক কাঠামোর সংকীর্ণতায় আটকে পড়েছে।

এই সংকট নতুন নয়। জুলিয়েন বেন্ডা তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ The Treason of the Intellectuals-এ সতর্ক করেছিলেন—যখন বুদ্ধিজীবীরা সত্য ও নৈতিকতার সাধনা ছেড়ে রাজনৈতিক শক্তির সেবায় নিয়োজিত হন, তখন একটি জাতির নৈতিক ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। বাংলাদেশে হুমায়ুন আজাদও একই সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছিলেন—বুদ্ধিজীবীর দায়বদ্ধতা ক্ষমতার কাছে নয়, সত্যের কাছে।

অবশেষে, হারমান হেসের “The Glass Bead Game”-এ কল্পিত ‘কাস্টালিয়া’ আমাদের সামনে একটি স্বপ্নময় বুদ্ধিবৃত্তিক প্রদেশের ধারণা হাজির করে—যেখানে জ্ঞানচর্চা সবকিছুর ঊর্ধ্বে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও কি তেমন এক পরিসরে রূপ নিতে পারে না, যেখানে রাজনীতি নয়, গবেষণা ও চিন্তার উৎকর্ষ হবে প্রধান পরিচয়? “অধিকারপত্র” সেই স্বপ্নকেই বাস্তবতার মাটিতে দাঁড় করানোর চেষ্টা—একটি নীতিগত রূপরেখা, যা পচন থেকে পুনর্জাগরণের পথে উচ্চশিক্ষাকে এগিয়ে নিতে পারে।

এই ধারাবাহিকের যৌক্তিকতা এখানেই—বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রশ্নে সেই বুদ্ধিবৃত্তিক দায়বদ্ধতা পুনরুদ্ধার করা।

বাস্তবতার আলোকে ফিরে দেখা

উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ অনেক সময় নির্ধারিত হয় শ্রেণিকক্ষের ভেতরে নয়, বরং সেই মুহূর্তে—যখন একটি বিশ্ববিদ্যালয় তার উপাচার্য নির্বাচন করে। কে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাল ধরবেন, কীভাবে তাঁকে নির্বাচন করা হবে, এবং তিনি কার কাছে জবাবদিহি করবেন—এই তিনটি প্রশ্নের ভেতরেই লুকিয়ে থাকে একটি জাতির উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার প্রকৃত চরিত্র। কারণ উপাচার্য কেবল একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা নন; তিনি একটি প্রতিষ্ঠানের বৌদ্ধিক দিকনির্দেশক, নৈতিক মানদণ্ডের রক্ষক এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জ্ঞানচর্চার পরিবেশ নির্মাণকারী। তাঁর নেতৃত্বের মধ্য দিয়েই নির্ধারিত হয় বিশ্ববিদ্যালয়টি স্বাধীন চিন্তার আলোকবর্তিকা হয়ে উঠবে, নাকি ক্ষমতার ছায়ায় সংকুচিত হয়ে পড়বে।

কিন্তু বাস্তবতার আয়নায় তাকালে দেখা যায়, বিশ্বের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও উপাচার্য নিয়োগ দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কের বিষয়। কোথাও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ, কোথাও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার ঘাটতি, আবার কোথাও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনের সীমা নিয়ে তীব্র মতভেদ—সব মিলিয়ে ভিসি নিয়োগ আর কেবল একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া থাকে না; এটি পরিণত হয় ক্ষমতা, নীতি, স্বায়ত্তশাসন ও জবাবদিহির জটিল সমীকরণে।

বিশ্বজুড়ে এই প্রশ্নের উত্তর একরকম নয়। কোথাও বোর্ড অব ট্রাস্টি বা কাউন্সিল নেতৃত্ব নির্বাচন করে, কোথাও রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়, আবার কোথাও শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অন্যান্য অংশীজনদের মতামত নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু পদ্ধতির এই বৈচিত্র্যের মাঝেও প্রায় সর্বত্রই একটি মৌলিক দ্বন্দ্ব বিদ্যমান—বিশ্ববিদ্যালয় কি সত্যিই স্বাধীন জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্র হিসেবে টিকে থাকবে, নাকি তার নেতৃত্ব নির্বাচনের মধ্য দিয়েই সেখানে রাজনৈতিক প্রভাবের বিস্তার ঘটবে?

বাংলাদেশের বাস্তবতায় এই প্রশ্ন আরও সংবেদনশীল। স্বাধীনতার পর বিশ্ববিদ্যালয় আইনগুলোতে যে স্বশাসন ও একাডেমিক স্বাধীনতার আদর্শ কল্পনা করা হয়েছিল, সময়ের প্রবাহে তা নানা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। ফলে ভিসি নিয়োগকে ঘিরে বিতর্ক, প্রত্যাশা এবং আস্থাহীনতা—সবই ক্রমে বেড়েছে। আজ আবারও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে—আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কি সত্যিই মুক্ত জ্ঞানচর্চার পরিসর, নাকি ধীরে ধীরে সেগুলো ক্ষমতার রাজনীতির প্রতিফলনে রূপ নিচ্ছে?

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার প্রয়াস থেকেই শুরু হচ্ছে “অধিকারপত্র এক্সক্লুসিভ”–এর পাঁচ পর্বের বিশ্লেষণধর্মী ধারাবাহিক—বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগের রাজনীতি বাস্তবতাবৈশ্বিক, আঞ্চলিক জাতীয় অভিজ্ঞতা চর্চার প্রেক্ষাপট

এই ধারাবাহিকের উদ্দেশ্য কোনো ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে বিতর্ক সৃষ্টি করা নয়; বরং একটি মৌলিক প্রশ্নের সামনে আমাদের দাঁড় করানো—বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্ব নির্বাচন কীভাবে হওয়া উচিত, যাতে স্বায়ত্তশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি একই সঙ্গে নিশ্চিত হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় সত্যিকার অর্থে জ্ঞান, গবেষণা ও মুক্ত চিন্তার আশ্রয়স্থল হয়ে উঠতে পারে।

একটি রূপক গল্প: বিশ্ববিদ্যালয় নামের জ্ঞান-অরণ্য

গল্পের পটভূমিবিশ্ববিদ্যালয় পুনর্গঠন ২০২৬

আমরা কি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে তোষামোদ, দলীয় আনুগত্য এবং গোপন নিয়োগের সংকীর্ণ বৃত্তে আবদ্ধ রাখব, নাকি সাহসের সঙ্গে ফিরে যাব সেই ঋজু জ্ঞানতপস্যার ধারায়—যেখানে নেতৃত্ব মানে মেধা, সততা ও দূরদর্শিতা? সাম্প্রতিক গবেষণা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা স্পষ্টভাবে দেখিয়েছে, বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারে প্রয়োজন একটি মৌলিক কাঠামোগত পরিবর্তন। তাই আমাদের চার দফা অঙ্গীকার সুস্পষ্ট: গোপন চিরকুট নয়, উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিশ্বমানের নেতৃত্ব খুঁজে আনা; হবু উপাচার্যকে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সামনে দাঁড়িয়ে পাঁচ বছরের স্পষ্ট ভিশন উপস্থাপন ও প্রশ্নের জবাব দিতে বাধ্য করা; বার্ষিক অডিট ও নির্ধারিত KPI-র ভিত্তিতে কাজের মূল্যায়ন নিশ্চিত করা, যাতে সাফল্য আস্থা আনে এবং ব্যর্থতা পরিবর্তনের পথ তৈরি করে; এবং সর্বোপরি রাজনৈতিক চাটুকারিতার শৃঙ্খল ভেঙে গবেষণা, উদ্ভাবন ও একাডেমিক সততাকে নেতৃত্বের একমাত্র পরিচয়ে পরিণত করা। বিশ্ববিদ্যালয় কোনো অনুগ্রহ নয়, এটি প্রতিটি মেধাবী শিক্ষার্থীর অধিকার। আসুন, ভয় ও সুবিধাবাদের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে মেধার সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করি।

একটি গল্পে সংস্কার ভাবনা

একদা এক বিশাল জ্ঞান-অরণ্য ছিল, যার নাম ‘বিশ্ববিদ্যালয়’। একসময় সেখানে অসংখ্য প্রদীপের আলোয় অন্ধকার দূর হতো; প্রতিটি বৃক্ষ সত্যের সন্ধানে শাখা-প্রশাখা বিস্তার করত। জ্ঞান ছিল তার প্রাণ, স্বাধীনতা ছিল তার শ্বাস। কিন্তু সময়ের প্রবাহে সেই অরণ্যে নেমে এলো এক বিষাক্ত কুয়াশা—তোষামোদ ও আনুগত্যের কুয়াশা। অরণ্যের রক্ষক, যাকে আমরা ‘উপাচার্য’ বলি, তাকে বেছে নেওয়ার চিরায়ত নীতিগুলো ধীরে ধীরে ক্ষয়ে গেল। জ্ঞানতপস্বীদের জায়গা নিল ক্ষমতার অনুগত মুখগুলো; অরণ্যের মুক্ত বাতাস পরিণত হলো বদ্ধতার ঘ্রাণে। বিশ্ববিদ্যালয়, যা হওয়ার কথা ছিল মুক্ত চিন্তার ক্ষেত্র, তা যেন ক্রমে সংকুচিত এক প্রশাসনিক গোয়ালঘরে রূপ নিল।

এই উপাখ্যানের সূচনা ঘটে এক বিষণ্ণ উপলব্ধির মুহূর্তে—যখন অরণ্যের প্রবীণ বৃক্ষরা টের পেল, তাদের শিকড়েই ধরেছে পচন। এটাই প্রথম উপলব্ধি: আয়নার সামনে দাঁড়ানো। আমরা আমাদের ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকালাম। সাহিত্যে ও প্রবন্ধে যে সতর্কবার্তা উচ্চারিত হয়েছিল—বিশ্ববিদ্যালয়ের পবিত্র আসন কীভাবে কলুষিত হতে পারে—তা নতুন করে অর্থবহ হয়ে উঠল। আমরা বুঝলাম, ভিসি নিয়োগের প্রক্রিয়া যদি অদৃশ্য সুতোয় বাঁধা থাকে, তবে তা জ্ঞানচর্চার স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারে না। ব্যাধি স্বীকার না করলে নিরাময় সম্ভব নয়—এই কঠিন সত্য মেনে নেওয়াই ছিল সংস্কারের প্রথম ধাপ।

দ্বিতীয় উপলব্ধি আমাদের নিয়ে গেল সীমানা পেরিয়ে। মরীচিকার মতো রাজনৈতিক আনুগত্যের পেছনে না ছুটে আমরা খুঁজতে শুরু করলাম প্রকৃত নেতৃত্বের মুক্তা। জানালার কপাট খুলে দেওয়া হলো বিশ্বমুখী অনুসন্ধানের দিকে। ‘গ্লোবাল সার্চ’ কেবল একটি পদ্ধতি নয়; এটি একটি মানসিকতা—যেখানে নেতৃত্ব বাছাই করা হয় মেধা, দূরদর্শিতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার ভিত্তিতে। সংকীর্ণতার দেয়াল ভেঙে আন্তর্জাতিক পরিসরে সেরা যোগ্যতাকে আহ্বান করার মধ্যেই নিহিত ছিল নতুন অভিযাত্রার সূচনা।

তৃতীয় উপলব্ধি জন্ম নেয় স্বচ্ছতার মঞ্চে। গোপন কক্ষের ফিসফাসের পরিবর্তে আলোচনার দরজা খুলে দেওয়া হয় সবার সামনে। সম্ভাব্য রক্ষকদের ডাকা হয় উন্মুক্ত চত্বরে; শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের সামনে তাঁরা তাঁদের ভিশন উপস্থাপন করেন। যুক্তি, পরিকল্পনা ও নৈতিক অবস্থানের ভিত্তিতে নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা যাচাই হয়। এখানে তোষামোদ টিকে থাকে না; টিকে থাকে কেবল চিন্তার শক্তি ও সততার দৃঢ়তা। স্বচ্ছতা হয়ে ওঠে এই মঞ্চের একমাত্র ভাষা।

চূড়ান্ত উপলব্ধি আসে জবাবদিহিতার বোধ থেকে—শিকড়ের নবজাগরণ। রক্ষক হওয়া মানে আজীবন অবিচ্ছেদ্য ক্ষমতা নয়; বরং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অর্পিত দায়িত্ব। প্রতি বছর হিসাব দিতে হয়—গবেষণা কতটা এগোল, শিক্ষার মান কতটা উন্নত হলো, প্রতিষ্ঠান কতটা স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রইল। সাফল্যের মানদণ্ড নির্ধারিত হয় স্পষ্ট সূচকে; অর্জন না হলে পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। ক্ষমতা যখন জবাবদিহিতার শেকলে বাঁধা পড়ে, তখনই বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৃত অর্থে জ্ঞানধামে পরিণত হতে পারে।

এই গল্প তাই নিছক রূপকথা নয়; এটি বাস্তবতার ভাষ্য। এখান থেকেই জন্ম নেয় সেই বোধ, যা পরবর্তী আলোচনাকে ভিত্তি দেয়—যেখানে নেতৃত্ব নির্বাচন ব্যক্তি-কেন্দ্রিক নয়, প্রক্রিয়া-কেন্দ্রিক; ক্ষমতার নয়, নীতির প্রশ্ন। এই ধারাবাহিক সেই বোধেরই অনুসরণ।

সংক্ষেপে, ধরা যাক, একদা একটি বিশাল জ্ঞান-অরণ্য ছিল—তার নাম বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে অসংখ্য প্রদীপের আলোয় অন্ধকার দূর হতো; প্রতিটি বৃক্ষ সত্যের সন্ধানে শাখা বিস্তার করত। জ্ঞান ছিল তার প্রাণ, স্বাধীনতা ছিল তার শ্বাস।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই অরণ্যে নেমে এলো এক অদৃশ্য কুয়াশা—তোষামোদ ও আনুগত্যের কুয়াশা। অরণ্যের রক্ষক, যাকে আমরা উপাচার্য বলি, তাকে বেছে নেওয়ার নিয়ম ধীরে ধীরে বদলে গেল। জ্ঞানতপস্বীদের জায়গা নিল ক্ষমতার অনুগত মুখগুলো। অরণ্যের মুক্ত বাতাস পরিণত হলো বদ্ধতার ঘ্রাণে। এই চারটি উপলব্ধি থেকেই শুরু হয় সংস্কারের প্রশ্ন।

  • প্রথম উপলব্ধি—আয়নার সামনে দাঁড়ানো। অতীতের দিকে ফিরে তাকিয়ে আমরা বুঝতে পারি কোথায় ভুল হয়েছে।
  • দ্বিতীয় উপলব্ধি—সংকীর্ণতার দেয়াল ভেঙে বিশ্বমুখী হওয়া। বিশ্বের অভিজ্ঞতা দেখায়, নেতৃত্ব নির্বাচন কেবল স্থানীয় রাজনীতির প্রশ্ন নয়; এটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও একাডেমিক উৎকর্ষের প্রশ্ন।
  • তৃতীয় উপলব্ধি—স্বচ্ছতার মঞ্চ। গোপন আলোচনার পরিবর্তে উন্মুক্ত প্রক্রিয়া—যেখানে প্রার্থীরা তাঁদের ভিশন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করবেন।
  • চূড়ান্ত উপলব্ধি—জবাবদিহিতা। নেতৃত্ব কোনো চিরস্থায়ী ক্ষমতা নয়; এটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অর্পিত দায়িত্ব, যার সাফল্য নির্ধারিত হবে কাজের ফলাফলে।

উপরের চারটি উপলব্ধিই এই সিরিজ নির্মাণের মূল অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। এগুলো বিচ্ছিন্ন পর্যবেক্ষণ নয়; বরং সম্মিলিতভাবে একটি বোধগত রূপান্তর ঘটায়—যেখানে আমরা ব্যক্তি-কেন্দ্রিক বিতর্ক থেকে সরে এসে প্রক্রিয়া, নীতি ও জবাবদিহিতার কাঠামোকে কেন্দ্রস্থলে নিয়ে আসি। উপাচার্য নিয়োগের প্রশ্নটি তখন আর ক্ষমতার প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখা যায় না; বরং একাডেমিক নেতৃত্ব, প্রাতিষ্ঠানিক নৈতিকতা এবং দীর্ঘমেয়াদি উৎকর্ষের পরিমাপ হিসেবে প্রতিভাত হয়। ক্ষমতা যখন জবাবদিহিতার শেকলে আবদ্ধ হয়, তখনই একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৃত অর্থে ‘কাস্টালিয়া’র মতো জ্ঞানধামে রূপ নেয়—যেখানে প্রশাসন নয়, জ্ঞানই সর্বোচ্চ মূল্য।

অতএব, এই ধারাবাহিক কেবল একটি অনুসন্ধানী সিরিজ নয়; এটি আমাদের হারিয়ে যাওয়া প্রাতিষ্ঠানিক গর্ব পুনরুদ্ধারের একটি বৌদ্ধিক প্রয়াস। “অধিকারপত্র” শেষ পর্যন্ত সেই মৌলিক সত্যটিই স্মরণ করিয়ে দেয়—বিশ্ববিদ্যালয় কোনো রাজার অনুগ্রহ নয়, এটি প্রতিটি শিক্ষার্থীর মেধা, শ্রম ও স্বপ্নের অধিকার। নেতৃত্বের প্রশ্ন তাই কেবল নিয়োগের প্রশ্ন নয়; এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জ্ঞানচর্চার পরিবেশ নির্ধারণের প্রশ্ন।

চারটি উপলব্ধি থেকে পাঁচ পর্ব

পাঁচ পর্বের বিশ্লেষণধর্মী ধারাবাহিক “ভিসি নিয়োগের রাজনীতি, বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ: বিশ্ব থেকে বাংলাদেশ” উচ্চশিক্ষা শাসনের এক জটিল কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নকে কেন্দ্র করে নির্মিত—বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব কীভাবে নির্ধারিত হয় এবং সেই প্রক্রিয়া কতটা স্বায়ত্তশাসিত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করে তার উপাচার্যের ওপর; তিনি কেবল প্রশাসনিক প্রধান নন, বরং একাডেমিক দিকনির্দেশক, নীতিনির্ধারক এবং প্রতিষ্ঠানের মুখপাত্র। ফলে তাঁকে বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়া নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ক্ষমতা, প্রভাব, নীতি ও গণতান্ত্রিক দায়বদ্ধতার এক সংবেদনশীল সমীকরণ। এই ধারাবাহিক বৈশ্বিক, আঞ্চলিক ও জাতীয় অভিজ্ঞতার আলোকে দেখার চেষ্টা করেছে—বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্ব নির্বাচন কীভাবে রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে এবং কোথায় গিয়ে তা একাডেমিক স্বাধীনতার প্রশ্নে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করে।

দ্বিতীয় পর্বে বিশ্বজুড়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগের রীতি ও বাস্তবতা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। কোথাও রাষ্ট্রপতি বা গভর্নর নিয়োগ দেন, কোথাও আইনসম্মত সার্চ কমিটি প্রার্থী বাছাই করে, আবার কোথাও বোর্ড অব রিজেন্টস বা কাউন্সিল চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে নিয়োগের সাংবিধানিক কাঠামো থাকলেও বাস্তবে সরকারের প্রভাব নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক রয়েছে। ভারতে সার্চ-কমিটি পদ্ধতি বাধ্যতামূলক হলেও গভর্নর ও নির্বাচিত সরকারের দ্বন্দ্ব একাধিকবার আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। যুক্তরাজ্যে বোর্ড-নির্ভর কর্পোরেট গভর্ন্যান্স রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কমালেও জবাবদিহিতা ও বেতন-সংক্রান্ত বিতর্ক সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রে বোর্ড অব রিজেন্টস কাঠামো বিদ্যমান থাকলেও আদর্শিক বিভাজন ও জনমতের চাপ নিয়োগকে প্রভাবিত করেছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদ-পরবর্তী রূপান্তরের প্রেক্ষাপটে প্রতিনিধিত্ব ও উৎকর্ষের ভারসাম্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব অভিজ্ঞতা দেখায়, প্রক্রিয়ার ধরন ভিন্ন হলেও স্বায়ত্তশাসন বনাম প্রভাব—এই মৌলিক দ্বন্দ্ব প্রায় সর্বত্র উপস্থিত।

তৃতীয় পর্বে আলোচিত হয়েছে উপাচার্য নিয়োগকে ঘিরে বৈশ্বিক বিতর্কের অন্তর্নিহিত রাজনৈতিক ও নৈতিক মাত্রা। বিশ্ববিদ্যালয়কে সাধারণত স্বাধীন জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্র হিসেবে দেখা হলেও নেতৃত্ব নির্বাচনে ক্ষমতার সমীকরণ প্রায়শই দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। সার্চ কমিটির গঠন, প্রার্থীদের মূল্যায়নের মানদণ্ড, সরকারের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকা, বোর্ডের আদর্শিক অবস্থান—সব মিলিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া কখনো কখনো আইনি লড়াই, ছাত্র আন্দোলন বা গণমাধ্যম বিতর্কের জন্ম দেয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে আস্থাহীনতা তৈরি হয়, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা আসে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে স্বচ্ছতা, স্পষ্ট যোগ্যতা মানদণ্ড, অংশীজন সম্পৃক্ততা এবং নিয়োগ-পরবর্তী জবাবদিহিতা—এসব উপাদানকে অপরিহার্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

চতুর্থ পর্বে পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ মডেলের তুলনামূলক বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হয়েছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বোর্ড-কেন্দ্রিক স্বশাসিত কাঠামো রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ তুলনামূলক কম রাখলেও দাতা-নির্ভরতা ও কর্পোরেট প্রভাবের ঝুঁকি থাকে। অন্যদিকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রীয় অর্থায়নের কারণে গণতান্ত্রিক তদারকির আওতায় থাকে, যা একদিকে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে, অন্যদিকে অতিরিক্ত রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনাও তৈরি করে। আন্তর্জাতিক সংস্থা যেমন UNESCO, OECD ও World Bank উচ্চশিক্ষা শাসনে একাডেমিক স্বাধীনতা, স্বচ্ছতা, বোর্ডের স্পষ্ট ভূমিকা এবং ফলাফলভিত্তিক মূল্যায়নের ওপর জোর দিয়েছে। তাদের সুপারিশে স্পষ্ট—স্বায়ত্তশাসন ও জবাবদিহিতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই টেকসই সমাধান।

পঞ্চম ও শেষ পর্বে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতার ঐতিহাসিক পর্যালোচনা করা হয়েছে। স্বাধীনতার পর প্রণীত আইনি কাঠামোতে যৌথ শাসনের আদর্শ থাকলেও সময়ের সঙ্গে দলীয় রাজনীতি ও প্রশাসনিক বাস্তবতা সেই আদর্শকে চ্যালেঞ্জ করেছে। নতুন বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রসারণ, অন্তর্বর্তী নিয়োগের প্রবণতা এবং সার্চ কমিটি পরীক্ষানিরীক্ষা—সব মিলিয়ে একটি রূপান্তরশীল কিন্তু অসম্পূর্ণ কাঠামো গড়ে উঠেছে। বিদ্যমান ব্যবস্থার শক্তি থাকলেও যোগ্যতার নির্দিষ্ট মানদণ্ড, স্বচ্ছ মূল্যায়ন ও কার্যকর পারফরম্যান্স পর্যালোচনার ঘাটতি স্পষ্ট। এ প্রেক্ষাপটে একটি স্বাধীন সার্চ কমিশন, উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক বিজ্ঞাপন, স্কোরভিত্তিক মূল্যায়ন, পাবলিক ভিশন উপস্থাপন এবং আইনি সুরক্ষাসহ একটি প্রাতিষ্ঠানিকীকৃত মেধাভিত্তিক মডেলের প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে।

সমগ্র ধারাবাহিকটি শেষ পর্যন্ত একটি মৌলিক সত্যকে সামনে আনে—বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্ব নির্বাচন ব্যক্তি-কেন্দ্রিক নয়, প্রক্রিয়া-কেন্দ্রিক হওয়া প্রয়োজন। স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও মানদণ্ডভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা ছাড়া একাডেমিক স্বাধীনতা ও প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা কঠিন। বিশ্ববিদ্যালয় কেবল প্রশাসনিক কাঠামো নয়; এটি জাতীয় জ্ঞান-অবকাঠামোর কেন্দ্র। তাই উপাচার্য নিয়োগের প্রশ্নটি মূলত দেশের উচ্চশিক্ষার দিকনির্দেশ নির্ধারণের প্রশ্ন। সঠিক প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠা করতে পারলে বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে উঠতে পারে মুক্ত চিন্তা ও গবেষণার প্রাণকেন্দ্র; অন্যথায় তা রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার মঞ্চে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি বহন করবে।

পাঁচ পর্বের রূপরেখা

এই ধারাবাহিকটি পাঁচটি পর্বে প্রকাশিত হবে—

পর্ব০২ — বিশ্ববিদ্যালয়ের হাল ধরার লড়াই: বিশ্বজুড়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগের রীতি, রাজনীতি ও বাস্তবতা

পর্ব০৩—উপাচার্য নিয়োগে বৈশ্বিক বিতর্ক: বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন নাকি রাজনৈতিক প্রভাব?

পর্ব০৪—উপাচার্য নিয়োগের বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট: পাবলিক বনাম প্রাইভেট মডেল ও গ্লোবাল গভর্ন্যান্স কাঠামো

পর্ব০৫—বাংলাদেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ: ঐতিহাসিক প্রবণতা, বর্তমান বাস্তবতা ও একটি আদর্শ মডেলের প্রস্তাব

শেষ কথা: বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশ্ন মানে ভবিষ্যতের প্রশ্ন

বিশ্ববিদ্যালয় কোনো ক্ষমতার অনুগ্রহ নয়; এটি একটি জাতির জ্ঞানভিত্তিক ভবিষ্যতের কেন্দ্র। উপাচার্য নিয়োগের প্রশ্ন তাই কেবল একটি প্রশাসনিক পদ পূরণের প্রশ্ন নয়—এটি দেশের একাডেমিক স্বাধীনতা, গবেষণা সংস্কৃতি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সম্ভাবনার প্রশ্ন।

প্রশ্নটি তাই সরল কিন্তু গভীর—

বিশ্ববিদ্যালয়ের হাল কে ধরবে?

এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার যাত্রাই শুরু হচ্ছে এই ধারাবাহিকের প্রথম পর্ব দিয়ে।

আগামীপর্বে পড়ুন দ্বিতীয় পর্ব। বিশ্ববিদ্যালয়ের হাল ধরার লড়াই: বিশ্বজুড়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগের রীতি, রাজনীতি ও বাস্তবতা

  অধ্যাপক মাহবুব লিটু, উপদেষ্টা সম্পাদক, অধিকারপত্র (odhikarpatranews@gmail.com)

#অধিকারপত্রএক্সক্লুসিভ, #ভিসি_নিয়োগ, #উপাচার্য_নিয়োগ, #বিশ্ববিদ্যালয়_নেতৃত্ব, #উচ্চশিক্ষা_সংস্কার, #স্বায়ত্তশাসন, #জবাবদিহিতা, #জ্ঞানচর্চার_স্বাধীনতা, #HigherEducationBangladesh, #UniversityGovernance, #AcademicLeadership, #UniversityAutonomy এবং #EducationReformBD।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন: